রাজা ভট্টাচার্য: ঝড়ের বেগে জেল গ্রাউন্ডের সামনের বাহারি গেটটা পার হয়ে নিজের স্টলের দিকে ছুটতে লাগলেন অমিয়। বড্ড দেরি হয়ে গিয়েছে। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে এতদিনের তাবৎ পরিশ্রম আর প্রস্তুতি একেবারে মাঠে মারা যাবে। তার উপর আজকের প্রদর্শনীর যিনি বিচারক, তাঁর নিখুঁতভাবে সময় মেনে চলার অভ্যাসের কথা সকলেরই জানা।
পুরুলিয়ার জেল গ্রাউন্ড আজ সেজে উঠেছে একেবারে অন্য রূপে। নানা রঙের নিশান উড়ছে আকাশে। মাঠের মাঝখানে একটা মঞ্চ। তাকে ঘিরে সারি সারি স্টল। বিহার কংগ্রেসের প্রাদেশিক সম্মেলনের একটা অংশ হিসেবে আয়োজন করা হয়েছে এই প্রদর্শনীর। ঠিক হয়েছে, একজন বিচারক থাকবেন, তিনি সমস্ত স্টল পরিদর্শন করে যেটা সেরা, সেটাকে বেছে নেবেন। অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায় এমনই একটি স্টল দিয়েছেন এই মেলাতে। গত দু’দিন ধরেই চলছে প্রদর্শনী। অমিয় সারাক্ষণ অন্য সমস্ত কাজ ফেলে দর্শনার্থীদের বুঝিয়ে চলেছেন তাঁর স্টলে থাকা যন্ত্রপাতিগুলোর তাৎপর্য, আর ভারতের অর্থনীতিতে তাদের সুদূরপ্রসারী তাৎপর্যের কথা।
কিন্তু আজ স্বয়ং বিচারক আসবেন। আজকেই স্থির হয়ে যাবে, মাঠ-ভরতি এতগুলো স্টলের মধ্যে কোনটা সেরার মর্যাদা পাবে।
প্রায় ছুটতে ছুটতে নিজের স্টলের কাছে এসে থমকে দাঁড়ালেন তিনি। নাহ্, এখনও শুরু হয়নি মেলার কাজ। কাঁধ ঝাঁকিয়ে অমিয় অনভ্যস্ত হাতে স্টলের সামনের কাপড়টা খুলে সেটাকে ভাঁজ করে রাখলেন। প্রখর চোখে একবার দেখে নিলেন ভেতরটা। সব ঠিকই আছে।
আজ শুধু বিচারক আসবেন না। অমিয়র স্ত্রী এবং মেয়েও আসবে। তাদের চোখেও কাজটা মানানসই হওয়া চাই বইকি!
ছোট্ট কলের লাঙলটা আরও একবার ভালো করে মুছে সেটার দিকে নিজেই মুগ্ধ চোখে তাকালেন অমিয়। এটা তাঁর নিজের উদ্ভাবন। বছর পাঁচেক আগে অফিস থেকে জাপানে পাঠানো হয়েছিল তাঁকে। সেখানেই তিনি প্রথম শুনেছিলেন, এক জাপানি কৃষক নাকি এমন একধরনের ছোটো আকারের লাঙল বানানোর চেষ্টা করছেন, যা হাত দিয়ে ঠেলে চালানো যায়।
কথাটা শুনেই অমিয়র মনে হয়েছিল, এমন কোনো যন্ত্র যদি সত্যিই বানানো সম্ভব হয়, তাহলে তা তাঁর নিজের দেশের কৃষকদের পক্ষে অত্যন্ত উপযোগী হতে পারে। অফিসের কাজ সামলে গত পাঁচ বছর ধরে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন তিনি এই যন্ত্রটি বানানোর জন্য। কয়েক দিন আগে মোটামুটি একটা কলের লাঙল খাড়া করা গিয়েছে। এখনও কাজ শেষ হয়নি, হলে তা যে চাষিদের কতখানি সাহায্য করতে পারে, তা ধারণা করাই মুশকিল। চাষ করার ধরনটাই পালটে যাবে পুরোপুরি।
ঠিক এই সময় মেলার গেটের দিক থেকে শোনা গেল ঘনঘন শঙ্খধ্বনি। অমিয়র বুকের ভিতরটা একবার কেঁপে উঠল। সময় হয়ে গেল তাহলে!
দ্রুত পায়ে নিজের স্টলের বাইরে এসে দাঁড়ালেন অমিয়। এখান থেকে মেলার গেট দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে, ফুলের বৃষ্টিতে ভিজে যাচ্ছেন তিনি। একবার তাঁর পা ছুঁয়ে প্রণাম করার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছে সকলে। মৃদু হাসি তাঁর মুখে, করজোড়ে তিনি দাঁড়িয়ে রয়েছেন আন্দোলিত জনতার মাঝখানে। পরনে সেই চিরচেনা পোশাক— হাঁটু পর্যন্ত ধুতি, গায়ে খদ্দরের চাদর জড়ানো।
এসে পড়েছেন মহাত্মা গান্ধী। তিনিই আজ বিহার কংগ্রেসের মূল অধিবেশন উদ্বোধন করবেন।
অমিয় বুঝতে পারলেন, তাঁর পা দুটো অল্প অল্প কাঁপছে। এইবার তাঁর যন্ত্রের আসল পরীক্ষা হবে। এই প্রদর্শনীতে সকলেরই কোনো না কোনো উদ্ভাবন রয়েছে। আজ মহাত্মা গান্ধী নিজে বিচার করে দেখবেন, তার মধ্যে সেরা কোনটি।
হঠাৎ একটা দৃশ্য দেখে অমিয়র হৃৎপিণ্ডটা গলার কাছে উঠে এল। গান্ধীজির হাত ধরে যে শাড়ি-পরা বালিকাটি হেঁটে আসছে, সেটি তাঁরই মেয়ে। একটু পিছনে পিছনে হেঁটে আসছে তার মা।
এসব ভেবে আর লাভ নেই। দ্রুত পায়ে ফিরে এসে নিজের স্টলে ঢুকে দাঁড়ালেন অমিয়। গান্ধীজি একটি একটি করে স্টলে ঢুকছেন, কথা বলছেন স্টলের কর্তার সঙ্গে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি এসে উপস্থিত হবেন এই স্টলে।
রুমাল বের করে আরও একবার ভালো করে মুখটা মুছে নিলেন অমিয়। কী বলতে পারেন গান্ধীজি? কী জিজ্ঞাসা করতে পারেন? সময়মতো ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারবেন তো তিনি?
একটু পরেই দর্শক-পরিবৃত হয়ে তাঁর স্টলের সামনে এসে দাঁড়ালেন মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী। গোল চশমার আড়াল থেকে দেখা যাচ্ছে আশ্চর্য উজ্জ্বল অথচ হাসি-ভরা দু’টি চোখ। সে চোখ এই মুহূর্তে কৌতূহলী হয়ে দেখছে স্টলের যন্ত্রগুলোকে।
দ্রুত বেরিয়ে গিয়ে তাঁকে প্রণাম করলেন অমিয়। তারপর বললেন, ‘আসুন মহাত্মা।’
অসম্ভব নরম গলায় হিন্দিতে গান্ধীজি বললেন, ‘বাপু। আমি এই ডাকটাতেই স্বচ্ছন্দ বোধ করি।’
অমিয়র গলা শুকিয়ে গেল। এত বড়ো মানুষটিকে যেন এই ছোট্ট নামে মানায় না। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষটিকেও তিনি চেনেন। রাজেন্দ্রপ্রসাদ। শুধু জননেতা হিসাবে নয়, অবিশ্বাস্য মেধাবী একজন ছাত্র হিসেবেও তাঁর খ্যাতি প্রবাদপ্রতিম।
‘ইয়ে কেয়া হ্যায়?’ গান্ধীজির চোখ নিবদ্ধ হয়েছে ঠিক সেদিকেই, যেদিকে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন বলে তৈরি হচ্ছিলেন অমিয়। ‘অ্যায়সা কুছ ম্যায়নে কভি নেহি দেখা। ট্র্যাক্টর হ্যায়... লেকিন ইতনা ছোটা...।’
গান্ধীজির এই দ্বিধাটুকুই যেন সাহস জোগাল অমিয়কে। নিজের উদ্ভাবিত যন্ত্রের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি বলতে শুরু করলেন, ‘এই দেখুন বাপু। এটা ট্র্যাক্টরই বটে। কিন্তু বানানো হয়েছে ছোট্ট করে। কোনো গাড়ি নয়, যার উপরে উঠে সেটাকে চালাতে হবে। এইভাবে হাতে ধরে এটাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এইখানে আছে লাঙলের ফলা। এই জায়গাটায় চাপ দিলে ফলা ঢুকে যাবে মাটিতে। এই জায়গাটায় থাকবে ইঞ্জিন— যার শক্তিতে এগিয়ে যাবে লাঙল...।’
দ্রুত স্বচ্ছন্দ ইংরেজিতে ঝড়ের বেগে নিজের যন্ত্রের বৈশিষ্ট্য আর গুণাগুণ বুঝিয়ে চললেন অমিয়। তিনি জাত ইঞ্জিনিয়ার। মেশিনের কথা উঠলে প্রাণে ভয়ডর থাকে না আর। সামনে স্বয়ং গান্ধীজি দাঁড়িয়ে থাকলেও না। আর তাছাড়া তিনি তো তীব্র কৌতূহল নিয়ে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করছেন সবটুকু। এমন শ্রোতা পেলে বলতে ভয় কীসের?
সত্যিই নিবিড় মনোযোগের সঙ্গে অমিয়র বলা প্রত্যেকটা শব্দ শুনলেন গান্ধীজি। দরকার মতো জিজ্ঞাসা করলেন কিছু। খুলে দেখাতে বললেন— ঠিক কোথায় থাকবে ইঞ্জিন, ঠিক কীভাবে ধরলে কলের লাঙলের ফলাটা ঢুকে যাবে মাটির বুক চিরে। দ্বিগুণ উৎসাহের সঙ্গে সবকিছু দেখিয়ে চললেন অমিয়।
প্রায় আধঘণ্টা ধরে নিখুঁতভাবে সবকিছু দেখার পর খুশি হয়ে মাথা নাড়লেন গান্ধীজি। দু’হাত দিয়ে অমিয়র হাত দুটো চেপে ধরে বললেন, ‘একটা অসাধারণ কাজের জিনিস বানিয়েছেন আপনি। আমাদের এত বড়ো দেশ। অনন্ত কৃষিযোগ্য জমি। আপনার এই একটা যন্ত্র হাতে পেলেই অসংখ্য ভারতীয় কৃষক দেশের সমস্ত মানুষকে পেট ভরা খাবার দিতে পারবেন— কোনো সন্দেহ নেই।’
অমিয়র মুখ উজ্জ্বল হয়ে উঠল। এতক্ষণে তিনি বুঝতে পারলেন, শ্রেষ্ঠত্বের শিরোপা নয়, তিনি আসলে মনে মনে অপেক্ষা করছিলেন গান্ধীজির মুখ থেকে ভেসে আসা এই স্বীকৃতিটুকুর জন্য। এতেই তাঁর এতদিনের অক্লান্ত পরিশ্রম যেন সার্থক হয়ে গিয়েছে। পুরস্কারে আর তাঁর প্রয়োজন নেই।
‘লেকিন হাঁ, এক বাত তো মাননা পড়েগা ইঞ্জিনিয়ার সাহাব।’ আগের মতোই হাসিমুখে বললেন গান্ধীজি, ‘যে দেশীয় পদ্ধতিতে আমাদের দেশের কৃষকেরা এই মুহূর্তে চাষ করছেন, তার কোনো তুলনা হয় না। সেটা একদিকে যেমন প্রকৃতিবান্ধব, অন্যদিকে তেমনই বিজ্ঞানসম্মত।’
প্রবল অভিমানে ভুরু কুঁচকে গেল অমিয়র। এটাই যদি গান্ধীজির মত হয়ে থাকে, তাহলে তিনি এতক্ষণ ধরে তাঁর কথা এত মনোযোগ দিয়ে শুনছিলেন কেন? নিছক তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার জন্য? স্টলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর স্ত্রী আর মেয়ের মুখ খুশিতে ঝলমলে করে তোলার জন্য?
প্রাণপণে চেষ্টা করেও নিজের অসন্তোষ গোপন করতে পারলেন না অমিয়। ক্ষুব্ধ গলায় বললেন, ‘দেশীয় পদ্ধতি যদি এতই ভালো হবে বাপু, তাহলে আপনি কলকাতা থেকে পুরুলিয়া পর্যন্ত মোটরগাড়িতে এলেন কেন? সনাতন পদ্ধতিতে গোরুর গাড়িতে চেপেই আসতে পারতেন!’
কথাটা বলে ফেলেই অমিয় বুঝতে পারলেন, তিনি একটা বিশ্রী কাণ্ড করে ফেলেছেন। এইভাবে কেউ গান্ধীজির সঙ্গে কথা বলে না। বলা উচিতও নয়। তিনি নিজের মত প্রকাশ করেছেন মাত্র। তার প্রতিবাদটি আরও অনেক শিষ্টভাবে করা যেত। চারপাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে থাকা প্রত্যেকের মুখ নিমেষে অন্ধকার হয়ে গেছে। অদ্ভুত নৈঃশব্দ্য নেমে এসেছে চারপাশে।
কয়েক মুহূর্ত চুপ করে তাঁর দিকে তাকিয়ে রইলেন গান্ধীজি। তারপর নরম গলায় বললেন, ‘বাকি স্টলগুলো এবার দেখে ফেলা যাক। আসি ইঞ্জিনিয়ার সাহেব।’
আর একটাও কথা না বলে স্টল থেকে বেরিয়ে গেলেন গান্ধীজি, সঙ্গে রাজেন্দ্রপ্রসাদ এবং অন্যান্য স্থানীয় নেতারা। থ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন অমিয় একা, আর স্টলের বাইরে তাঁর স্ত্রী ও মেয়ে। তাদের দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস হল না অমিয়র। মাথা নীচু করে দাঁড়ানো অবস্থাতেই তিনি বুঝতে পারলেন, মিনিট খানেক হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে থেকে হঠাৎ উলটোদিকে হাঁটতে শুরু করলেন তারা দু’জন। সম্ভবত মেলা-প্রাঙ্গণ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন।
আপশোসে নিজের হাত কামড়াতে ইচ্ছে করছিল অমিয়র। স্টলের ভিতরে রাখা চেয়ারটায় অবশ ভঙ্গিতে বসে পড়লেন তিনি।
ঘণ্টাখানেক পরে উঠে দাঁড়ালেন অমিয়। আর এখানে বসে থেকে লাভ নেই। সকলেই আড়চোখে তাঁর দিকে তাকাচ্ছে। অসম্ভব অস্বস্তি হচ্ছে। পড়ে থাকুক স্টল। বাড়ি ফিরে যাওয়াই ভালো হবে।
ক্লান্ত পায়ে গেটের দিকে হাঁটতে লাগলেন অমিয়। আর ঠিক তখনই স্টেজের দিক থেকে ভেসে এল ঘোষণা। আজকের প্রদর্শনীর সেরা উদ্ভাবকের নাম ঘোষণা করা হচ্ছে। হাঁটার গতি বাড়িয়ে দিলেন অমিয়।
পরক্ষণেই অবশ্য থমকে দাঁড়াতে হল তাকে। নিজের কানকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না তিনি। মাইক্রোফোনে স্পষ্ট বলা হচ্ছে তাঁর নামটা। আর সেটা আজকের সেরা উদ্ভাবক হিসেবেই!
উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরে দাঁড়ালেন অমিয়, তারপর প্রায় ছুটে গেলেন স্টেজের দিকে।
ওই যে, অভ্যাগতদের ঠিক মাঝখানে হাঁটু মুড়ে বসে আছেন তিনি। দর্শকদের মাঝখান দিয়ে এগিয়ে আসা অমিয়র দিকেই হাসিমুখে তাকিয়ে রয়েছেন।
দ্রুত স্টেজে উঠে পড়লেন অমিয়। হাঁটু গেড়ে বসলেন গান্ধীজির সামনে। তাঁর দুই চোখে স্পষ্ট অবিশ্বাস।
‘কী সুন্দর করে যে বুঝিয়ে বললেন আপনি!’ গান্ধীজির গলা থেকে ঝরে পড়ছে মুগ্ধতা, ‘কতটা ভালোবাসা যে জড়িয়ে রয়েছে আপনার কাজের সঙ্গে...’ বলে চলেছেন তিনি।
আরও একবার প্রণাম করে, যেন সর্বাঙ্গে এক মহামানবের আশীর্বাদ মেখে নিয়ে পুরস্কার হাতে নেমে এলেন অমিয়। এইবার তাঁকেই ঘিরে ধরেছে সকলে। উচ্ছ্বসিত প্রশংসায় ভেসে যাচ্ছেন তিনি।
হঠাৎ যেন আসল কথাটি বুঝতে পারলেন অমিয়। এইজন্যই এই মানুষের একটিমাত্র ডাকে উদ্বেল হয়ে ওঠে গোটা ভারতবর্ষ। নেতার তো এমনই হওয়ার কথা! নিজের পছন্দ বা অপছন্দ দিয়ে অন্যের মতকে বিচার করবেন না তিনি। বোঝার চেষ্টা করবেন তাঁর ভিতরের সততা, তাঁর আন্তরিক চেষ্টাটুকু।
হাতের পুরস্কারটা মাথার উপরের তুলে নিয়ে ধীর পায়ে নিজের স্টলের দিকে ফিরে চললেন অমিয়। শুধু ছোটো ট্রাক্টর নয়, অসম্ভব জরুরি একটা কথাও আজ আবিষ্কার করতে পেরেছেন তিনি। অহংবোধকে পেরিয়ে যেতে না পারলে সত্যিকারের জননেতা হয়ে ওঠা যায় না।