Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আর্থিক অনুদান রাজ্য সরকারের, মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দুর্গতদের

বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কাজ শুরু করল হাওড়া জেলা প্রশাসন।

আর্থিক অনুদান রাজ্য সরকারের,  মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ দুর্গতদের
  • ২৮ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বেলগাছিয়ার ভাগাড়ে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্তদের আর্থিক অনুদান দেওয়ার কাজ শুরু করল হাওড়া জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার ক্ষতিগ্রস্ত ১১৩ বাসিন্দার হাতে ক্ষতিপূরণের টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নতুন করে কোনও বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না তা জানতে সমীক্ষার কাজ জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনিক আধিকারিকরা।

Advertisement

এদিন বেলগাছিয়ার সুরেন্দ্রনাথ ঘোষ মেমোরিয়াল হাইস্কুলে চেক প্রদান অনুষ্ঠান হয়। উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ও শিবপুরের বিধায়ক মনোজ তিওয়ারি, হাওড়ার জেলাশাসক পি দীপাপ্রিয়া এবং জেলা প্রশাসন ও হাওড়া সিটি পুলিসের আধিকারিকরা। ভূমিধসের কারণে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া বাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত ৬০টি পরিবারকে ১৫ হাজার টাকা আর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৫৩টি পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ২৬০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত। তার মধ্যে ১১৩টি পরিবারকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে এদিন। বাকিদের ধাপে ধাপে ক্ষতিপূরণের আওতায় আনা হবে। সুরেন্দ্রনাথ স্কুলের একটি অংশ সংস্কার করে ক্ষতিগ্রস্তদের একাংশকে রাখা হচ্ছে। বাকিদের থাকার জন্য জোর কদমে চলছে কনটেনার হাউজ তৈরির কাজ। জেলাশাসক বলেন, ‘সয়েল টেষ্টের রিপোর্ট আসতে দশ দিন লাগবে। তার পর বোঝা যাবে ক্ষয়ক্ষতি কতদূর পর্যন্ত ছড়ানোর সম্ভাবনা। সেই অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য বাড়ি তৈরির জায়গা চিহ্নিত করা হবে। ততদিন পর্যন্ত চলবে সার্ভে।’ বিধায়ক নিজের তহবিল থেকে ১০ লক্ষ টাকা এফ রোড সংলগ্ন এলাকার সংস্কারে বরাদ্দ করেছেন। তিনি বলেন, ‘বাসিন্দারা পরিবার নিয়ে স্কুলে থাকতে চাইছিলেন না। তাঁদের বোঝানো হয়েছে, রাতে এলাকায় থাকলে যে কোনও মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ওঁরা পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছেন। রাজ্য সরকার সবরকমভাবে তাঁদের পাশে রয়েছে।’ 
আর্থিক অনুদানের চেক হাতে পেয়ে খুশি গায়ত্রী দেবী, লক্ষ্মী দেবী, রুকিয়া পাসোয়ান, চম্পা মালিক, প্রতিমা হাজরারা। তাঁরা ওই বস্তির বাসিন্দা। ভূমিধসের কারণে ভেঙে তছনছ হয়ে গিয়েছে তাঁদের বাসস্থান। মহিলারা এদিন বলেন, ‘দিনে বাড়ির বাইরে থাকছি। ঘরে প্রচুর জিনিসপত্র আছে। তা দেখভাল করতে হচ্ছে। তবে রাতে স্কুলে গিয়েই থাকব।’ এদিন চেক শুধু নয়, শিশুদের খাবার, ফার্স্ট এইড কিট সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছে দুর্গতদের। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অনুদান প্রাপকরা। তাঁরা বলেছেন, ‘দিদি আমাদের জন্য অনেক কিছু করছেন। এই দুর্দিনে তিনিই পাশে দাঁড়িয়েছেন। এবার আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিক প্রশাসন।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ