Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

রাজ্যজুড়ে ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশি, বাংলায় ব্যাপক ছড়িয়েছে ফ্লু, জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা

রাজ্যজুড়ে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি। প্রায় প্রতি পরিবারেই কেউ না কেউ অসুস্থ। জ্বর, সর্দি, কাশির দোসর গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরে ম্যাজম্যাজে ভাব, খিদেয় অনীহা।

রাজ্যজুড়ে ঘরে ঘরে জ্বর-সর্দি-কাশি, বাংলায় ব্যাপক ছড়িয়েছে ফ্লু, জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা
  • ৩১ জুলাই, ২০২৫ ১৬:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যজুড়ে ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি। প্রায় প্রতি পরিবারেই কেউ না কেউ অসুস্থ। জ্বর, সর্দি, কাশির দোসর গলা ব্যথা, মাথাব্যথা, শরীরে ম্যাজম্যাজে ভাব, খিদেয় অনীহা। উপসর্গগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোগাচ্ছে কাশি। যেন থামতেই চাইছে না। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রতি বছরই এই সময় জ্বরের প্রাদুর্ভাব হয়। এবার বাড়াবাড়ি রকমের হয়েছে। সদ্যোজাত থেকে অশীতিপর— কেউ বাদ যাচ্ছেন না। 

Advertisement

কিন্তু, কেন এই উপদ্রব? শহরের নামজাদা চিকিৎসকদের মতে, প্রধানত ইনফ্লুয়েঞ্জা বা ফ্লুয়ের কারণেই মানুষ ভুগছেন। বেশ কিছু ক্ষেত্রে ফ্লু প্যানেল (এক ধরনের পরীক্ষা) করে দেখা গিয়েছে, ভা‌ইরাসঘটিত ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্যই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা, প্যারা ইনফ্লুয়েঞ্জা, আরএসভি জাতীয় ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবই বেশি। টুকটাক করোনা পাওয়া গেলেও প্রধানত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইনফ্লুয়েঞ্জা। 
বিশিষ্ট মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও মেডিক্যাল কলেজের মেডিসিনের প্রধান ডাঃ সৌমিত্র ঘোষ বলেন, অসংখ্য মানুষ ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হচ্ছেন। অল্প কিছু ক্ষেত্রে তিন থেকে সাতদিনে সারছে। কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ৭-১৪ দিন ধরে ভুগছেন রোগীরা। সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিচ্ছে কাশি। উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা আরাম দিচ্ছে। মানে রোগীর যেমন উপসর্গ, সেইমতো ওষুধ ও চিকিৎসা করছি আমরা। 
বিশিষ্ট শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অভিষেক পোদ্দার বলেন, অসুস্থতা নিয়ে যে বাচ্চারা আসছে, তাদের মধ্যে ৭০-৮০ শতাংশই ইনফ্লুয়েঞ্জায় ভুগছে। একেবারে দুধের শিশু থেকে ১৬-১৭ বছর বয়স— ছাড়ছে না কাউকেই। কিছু ক্ষেত্রে হাসপাতালেও ভর্তি করতে হচ্ছে। বাচ্চারা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে কাশি নিয়ে। ভর্তি থাকা শিশুদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ধরা পড়লে অসেলটামিভির বা ট্যামি ফ্লু’র কোর্স শুরু করে দিচ্ছি। ভালো কাজ দিচ্ছে। তবে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে ওষুধ খাওয়া দরকার।
বিশিষ্ট হোমিওপ্যাথ এবং মহেশ ভট্টাচার্য হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল ইন চার্জ প্রফেসর ডাঃ হিমাংশু হাইত বলেন, অসংখ্য মানুষ জ্বর, সর্দি, মাথা যন্ত্রণা, শরীরে ব্যথা ও অরুচির মতো উপসর্গ নিয়ে আসছেন। বেলেডোনা, রাসটাকস, ডালাকামারা, নাক্স ভমিকা উপসর্গভেদে ভালো কাজ দিচ্ছে। 
হঠাৎ জ্বর এসেছে, ১০০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের মধ্যে থাকছে, সঙ্গে মাথা যন্ত্রণা, চোখ লাল, আলোর দিকে তাকালে কষ্ট হচ্ছে— এইসব উপসর্গে বেলেডোনা ভালো কাজ দিতে পারে। বর্ষার জলে একটু ভিজতেই  জ্বর, সর্দি, গলা ও  সারা শরীরে ব্যথা ও রাতে বেশি কষ্ট হলে রাসটাকস দেওয়া যেতে পারে। নাক দিয়ে সর্দি পড়ছে, একদিন পর থেকেই নাক সম্পূর্ণ বন্ধ, একটু শ্বাসকষ্ট, পায়ের হাড়ে যন্ত্রণা ও ঠান্ডা ভাব থাকলে ডালাকামারা এবং জ্বরের সঙ্গে পেট খারাপ ও খুব ঠান্ডা বোধ থাকলে নাক্স ভমিকা খাওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রর খবর, বিশেষজ্ঞদের বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ