Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ওড়িশা থেকে বাড়ি ফিরতে পারলেও আতঙ্ক কাটছে না চুঁচুড়ার দেবাশিসের

‘বাংলায় কথা বলি তাই বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে রেখেছিল। নথি চেয়েছিল। কিন্তু সেসব দেখেনি। এমনকী কারও সঙ্গে ফোনে কথাও বলতে দেয়নি।

ওড়িশা থেকে বাড়ি ফিরতে পারলেও  আতঙ্ক কাটছে না চুঁচুড়ার দেবাশিসের
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: ‘বাংলায় কথা বলি তাই বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে রেখেছিল। নথি চেয়েছিল। কিন্তু সেসব দেখেনি। এমনকী কারও সঙ্গে ফোনে কথাও বলতে দেয়নি। সে অভিজ্ঞতা ভয়ঙ্কর।’ ওড়িশায় থেকে ফিরেছেন  দেবাশিস দাস। শুক্রবার ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে খাবি খাচ্ছিলেন বার বার। কাঁপছিলেন থরথর করে। 

Advertisement

হুগলির কোদালিয়া-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের সুকান্তনগরের বাসিন্দা দেবাশিস পরি‌যায়ী শ্রমিক। সদ্য ওড়িশায় গিয়ে পুলিস ও প্রশাসনের হেনস্তার মুখে পড়েছিলেন। কোনওভাবে বাড়িতে ফিরেছেন। স্বস্তি পেয়েছেন তিনিও। নিশ্চিত তাঁর পরিবারও। তবে আতঙ্কের রেশ এখনও কাটেনি। শুক্রবার দেবাশিসের গলার আওয়াজ থেকে  শরীরী ভাষায় সেই আতঙ্কের ধরা পড়েছে বারবার।
দেবাশিস বলেন, আমার কাছে সব নথি ছিল। সেসব দিতেও চেয়েছি। কিন্তু হেনস্তা কমেনি। একটি ঠিকাদার সংস্থার হয়ে কাজে গিয়েছিলাম। তাদের সঙ্গে, পরিবারের সঙ্গে, বাংলা প্রশাসনের সঙ্গেও কথা বলতে দেয়নি। ওঁরা বারবার বলছিলেন আমরা বাংলাদেশি। বাংলায় কথা বলাতেই সন্দেহ হয়েছিল। আক্ষেপ ঝরে পড়ে দেবাশিসের গলায়। বলেন, ফায়ার সার্ভিসের কাজ করি। পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবেই কাজ করতে হয়। বাংলা কথা বলার জন্য বাংলাদেশি চিহ্নিত হয়ে গেলে খাব, পরব কি! কাজ করব কোথায়? ছেলের সমস্যা বোঝেন মা বিভা দাস। তবে আপাতত তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছেলের ঘরে ফেরা। তিনি বলেন, এভাবে ছেলেকে আর বাইরে ছাড়তে পারব না। ঘরে থেকে কাজ করতে বলব। কয়েকটা দিন যে কি আতঙ্কে কেটেছে বলে বোঝাতে পারব না।
প্রসঙ্গত, গত ১৪ জুন একটি প্রজেক্টে ফায়ার সার্ভিসের কাজ করতে ওড়িশায় গিয়েছিলে দেবাশিস। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন ছিলেন। সেখানে পৌঁছনোর পরেই তাঁদের বাংলাদেশি বলে আটক করে পুলিস। তারপরেই শুরু হয় হেনস্তা। যা নিয়ে হুগলির চুঁচুড়ার দাস পরিবারে আতঙ্কের আবহ তৈরি হয়েছিল।

সম্পর্কিত সংবাদ