


সংবাদদাতা, বহরমপুর: জাঁকিয়ে শীত পড়ার আগেই প্রতি পিস ডিমের দাম বেড়ে আট টাকা। বহরমপুর শহরে কোথাও কোথাও সাড়ে আট টাকা দামেও বিক্রি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মিড ডে মিলে ডিম দিতে গিয়ে চিন্তার ভাঁজ শিক্ষকদের কপালে। শুধু তো ডিমের দামই নয়, বেড়েছে সবজির দামও। শুধু বাড়েনি মিড ডে মিলের বরাদ্দ। যার ফলে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা ও স্কুল কর্তৃপক্ষগুলি পড়েছে মহা ফাঁপড়ে। বড়দিনের উৎসব দরজায় কড়া নাড়ছে। কেক তৈরিতে ডিমের চাহিদা আরও বাড়বে। ফলে সে সময়ে ডিমের দাম কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, তা নিয়ে সব স্তরেই সংশয়ের পাশাপাশি উদ্বেগ বাড়ছে। মিড ডে মিল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে বরাদ্দ বৃদ্ধির দাবি উঠছে।
শীত বাড়লে ডিমের চাহিদা বৃদ্ধি বাৎসরিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঠান্ডার প্রকোপ বাড়লেই চাহিদা আর জোগানের ব্যবধান বাড়ায় ডিমের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ে। বাতাস এখনও কাঁপুনি না ধরালেও ঊর্ধমুখী ডিমের দাম। গত দু’ সপ্তাহে প্রতি পিস ডিমের দাম দেড় থেকে দু’ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। কোথাও কোথাও জোগানে ঘাটতিও দেখা দিতে শুরু করেছে।
সরকারি প্রাথমিক স্কুলে পড়ুয়া প্রতি মিড ডে মিলে দৈনিক বরাদ্দ ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবি, বরাদ্দ টাকার মধ্যে সবজি, চাল, ডাল, গ্যাস রয়েছে। সপ্তাহের প্রতি বুধবার ছাত্রদের গোটা ডিম দেওয়ার নিয়ম বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এই টাকায় মিড ডে মিল চালানো কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষকদের দাবি, কম সংখ্যক পড়ুয়া আছে এমন স্কুলে শিক্ষকদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে মিড ডে মিল চালাতে হয়। বহরমপুর সদর পশ্চিম চক্রের ১ নম্বর মণীন্দ্রনগর জিএসএফপির প্রধান শিক্ষক বিভাস মণ্ডল বলেন, পড়ুয়াদের জন্য যে টাকা বরাদ্দ, তার তুলনায় ডিমের দাম ১ টাকা ২২ পয়সা বেশি। ডিমের দাম ন’ টাকায় পৌঁছতে পারে। শীতের সবজির দামও হু হু করে বাড়ছে। কেন্দ্রের সমগ্র শিক্ষা মিশনের মিড ডে মিলের বরাদ্দ বাড়াতে এখনই ভাবা উচিত। সমগ্র শিক্ষা মিশন সূত্রে খবর, গত আগস্ট মাসে প্রাথমিকে বরাদ্দ ৬ টাকা ১৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৬ টাকা ৭৮ পয়সা করা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিকে বরাদ্দ ৮৮ পয়সা বাড়িয়ে ১০ টাকা ১৭ পয়সা করা হয়েছে।
স্কুলে সপ্তাহে একদিন ডিম দেওয়া হলেও অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলিতে শিশুদের পুষ্টির কথা মাথায় রেখে সপ্তাহে ছ’ দিন ডিম দেওয়া হয়। তাই সব থেকে বেশি দুশ্চিন্তা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের কর্মীদের। পারশালিকার অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী সুনিতা ভোল্লা বলেন, বরাদ্দ না বাড়ালে শীতে শিশুদের পাতে ডিম দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে। এমনিতেই মুদির দোকানে বাকির পাহাড় জমে রয়েছে। দোকানদারও বাকিতে ডিম দিতে রাজি হবেন না। এরপর আমাদের উপর চাপ বাড়বে।