


ঢাকা: এক সপ্তাহ পরে বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন। তার আগে শুক্রবার আন্দোলনে উত্তাল হল ঢাকার রাস্তা। নবম পে স্কেল চালুর দাবিতে এদিন সকালে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হন আন্দোলনরত সরকারি কর্মীরা। সেখান থেকে তাঁরা প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে যেতে চান। সেই সময় পুলিশ আন্দোলনকারীদের বাধা দেয়। ক্রমশ উত্তেজনা বাড়তে থাকে। ইউনুস-বিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে ঢাকার রাস্তা। শেষ পর্যন্ত সরকারি কর্মীদের সরাতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ। ছোড়া হয় সাউন্ড গ্রেনেডও। আহত হন কয়েকজন আন্দোলনকারী। পরিস্থিতি সামলাতে মোতায়েন করা হয় বিজিবি। এদিকে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে যমুনার সামনে অবস্থানে বসে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। রাষ্ট্রসংঘের অধীনে ওসমান হাদি খুনের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাতে থাকেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের মধ্যে ছিলেন হাদির স্ত্রীও। শুক্রবারও সেই সেই অবস্থান চলতে থাকে। দুপুরের পর বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড পেরিয়ে ইউনুসের বাসভবনের দিকে যেতে চাইলে উত্তেজনা ছড়ায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ শুরু হয়। সেখানেও পরিস্থিতি সামলাতে জলকামান, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছোড়ে পুলিশ। ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরাও পুলিশের দিকে বোতল, ইট ছুড়তে থাকে। নির্বাচনের ঠিক আগে জোড়া আন্দোলনে ইউনুস সরকারের অস্বস্তি বাড়ল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নবম পে স্কেল চালুর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন বাংলাদেশের সরকারি কর্মীরা। কিন্তু সব প্রক্রিয়া শেষ হয়ে গেলেও ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার নোটিস জারি করছে না। সরকারি কর্মীদের অভিযোগ, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের আপত্তির কারণেই নোটিস জারি করার পথে হাঁটছে না সরকার। আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তোলেন, ‘পেটে ভাত নেই, তাহলে কীসের উন্নয়ন হচ্ছে?’ দাবি মানা না হলে ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা। শাহবাগ থানা জানিয়েছে, সরকারি কর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের সরে যেতে অনুরোধ করা হলেও শোনেননি। হাদির সংগঠনের আন্দোলন প্রসঙ্গে ঢাকা মহানগর পুলিশ জানিয়েছে, ইনকিলাব মঞ্চের লোকজন জলকামানের উপরে উঠে সেটির ক্ষতি করার চেষ্টা করে। তাই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়। পরে অন্তর্বর্তী সরকার জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের উপর অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করা হয়নি। হাদি-হত্যার বিচারের জন্য ৮ তারিখ রাষ্ট্রসংঘের কাছে চিঠি পঠোনো হবে।