


ইসলামাবাদ: গাজায় শান্তি প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়েছে ইজরায়েল ও হামাস দুই পক্ষই। কিন্তু সেই যুদ্ধের বিরুদ্ধে মিছিল নিয়েই গত তিনদিন ধরে রক্তাক্ত পাকিস্তান। সোমবারও অব্যাহত রইল তেহরিক-ই-লাববাইকের সমর্থক ও পাকিস্তান পুলিশের সংঘর্ষ। সোমবার মুরিদকে সহ পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে এক পুলিশ আধিকারিক অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আহত বহু। আহতদের তালিকায় রয়েছেন টিএলপির প্রধান সাদ রিজভিও।
গাজায় হামাস ইজরায়েলের যুদ্ধের প্রেক্ষিতে ইসলামাবাদের মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি নিয়েছিল পাকিস্তানের মৌলবাদী সংগঠন টিএলপি। শুক্রবার লাহোরে মিছিলের শুরুতেই দু’পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়। সোমবার গ্রান্ড ট্রাঙ্ক রোড ধরে মুরিদকে পৌঁছায় আন্দোলনকারীরা। সেখানে তাদের বাধা দেয় পুলিশ। তারপরেই ফের নতুন করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুই পক্ষ। পুলিশের দাবি, পেরেক বসানো লাঠি, ইট, পেট্রোল বোমার পাশাপাশি গুলি চালাতে থাকে আন্দোলনকারীরা। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় ৪০-এর বেশি সরকারি ও বেসরকারি গাড়ি।
পাঞ্জাব পুলিশের প্রধান উসমান আনওয়ার জানিয়েছেন, এদিন আন্দোলনকারীরাই প্রথম পুলিশের উপর গুলি চালায়। ঘটনায় এক আধিকারিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও ৪৮ পুলিশকর্মী, যাদের মধ্যে ১৭ জনের দেহেই গুলির আঘাত রয়েছে। সংঘর্ষে একাধিক সাধারণ নাগরিক ও টিএলপি সমর্থক প্রাণ হারিয়েছেন বলেও খবর। সূত্রের খবর, পুলিশের গুলিতে আহত টিএলপি প্রধান সাদ রিজভির অবস্থা আশঙ্কাজনক। টিএলপির প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার আগে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন রিজভি। আন্দোলনকারীদের উপর গুলিবর্ষণের বিরোধিতা করতে শোনা যায় তাঁকে। পাশাপাশি পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকাতেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। লাহোর থেকে ইসলামাবাদ যাওয়ার পথে ফৈজপুর, কালা শাহ ও বাবু সাবুতে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। এদিকে পাক-আফগান সীমান্তে এদিন নতুন করে সংঘর্ষের কোনও খবর নেই। তবে চড়েছে কূটনৈতিক উত্তাপ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফ, আইএসআই প্রধান ও আরও দুই পাক শীর্ষকর্তার ভিসার আবেদন খারিজ করে দিয়েছে আফগানিস্তানের তালিবান কর্তৃপক্ষ। ছবি: পিটিআই