নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: শিশু শ্রম সম্পূর্ণ নির্মূলকরণে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের চিন্তাভাবনা করছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক শিশু শ্রমিক বিরোধী দিবসে শ্রমমন্ত্রকের শীর্ষ সূত্রে জানানো হয়েছে, খুব শীঘ্রই এই ব্যাপারে সমস্ত রাজ্যের সঙ্গে সচিব পর্যায়ের বৈঠক করা হবে। রাজ্যগুলির মতামতও জানতে চাওয়া হবে। এরই পাশাপাশি শিশু শ্রমিকের রাজ্যভিত্তিক পরিসংখ্যান সংগ্রহের জন্যও কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছে শ্রমমন্ত্রক। সেইমতো সচিব পর্যায়ের বৈঠকের এজেন্ডাও স্থির হবে।
শিশু শ্রম বিরোধী আইন অনুসারে, ১৪ বছরের কম বয়সী কাউকে দিয়ে কাজ করানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ১৪ থেকে ১৮ বছর বয়সী কাউকে কোনওরকম বিপজ্জনক কাজে নিয়োগ করাও দণ্ডনীয়। তবে নিয়মনীতি যা-ই থাকুক না কেন, বাস্তবে শিশু শ্রম বন্ধ করা একপ্রকার চ্যালেঞ্জ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে। এই কথা মেনে নিয়েছেন নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি আধিকারিকরাই। শ্রমমন্ত্রকের তথ্য বলছে, ২০২২-২৩ আর্থিক বছরে সারা দেশে ১৩ হাজার ৭৬১ জন শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করে তার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তবে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হল, ২০১৮-১৯, ২০১৯-২০ কিংবা ২০২০-২১ আর্থিক বছরে সারা দেশে যত শিশু শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়েছে, ২০২২-২৩ অর্থবর্ষের সংখ্যা তার তুলনায় অনেক কম। উল্লিখিত তিনটি আর্থিক বছরে সারা দেশে শিশু শ্রমিক উদ্ধারের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫০ হাজার ২৮৪ জন, ৫৪ হাজার ৮৯৪ জন এবং ৫৮ হাজার ২৮৯ জন। অর্থাৎ, শিশু শ্রমিক উদ্ধারের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১-২২ আর্থিক বছরে এই সংখ্যা এক ধাক্কায় অনেকটাই কমে হয়েছে ১৮ হাজার ১৩৭ জন। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে সেই তুলনায় আরও কম। এই খতিয়ান থেকে প্রশ্ন উঠছে, আচমকাই শিশু শ্রমিক উদ্ধারের সংখ্যা কমছে কেন? তাহলে দেশে কি শিশু শ্রম ক্রমশ কমছে? নাকি কেন্দ্রের নজরদারিতে শিশু শ্রমিক উদ্ধার সংক্রান্ত অভিযানের সংখ্যা রাজ্যে রাজ্যে কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে?