নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভারতীয় রেলওয়ের হাওড়া ডিভিশনের শতবর্ষ পালনে বিশেষ ডাকটিকিট এবং চিঠির খাম প্রকাশ হতে চলেছে। পুরনো কয়লা ইঞ্জিন থেকে আধুনিক বন্দে ভারত। দুই ইঞ্জিনের ছবি দিয়ে ওই বিশেষ ডাকটিকিট একবারই মাত্র ছাপা হবে। গোল করে যার চারদিকে হিন্দি-ইংরেজিতে লেখা ‘গৌরবময় হাওড়া ডিভিশনের ১০০ বছর, ইস্টার্ন রেলওয়ে।’ এক হাজার ডাকটিকিট ছাপতে ৩ লক্ষ ৪৩ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। অভিনব এই উদ্যোগ নিয়েছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। আগামী ২৩ মে শুক্রবার এক বিশেষ অনুষ্ঠানে ওই ডাকটিকিট এবং খাম প্রকাশ হবে। অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় যোগাযোগ মন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া অথবা রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব উপস্থিত থাকতে পারেন।
হাওড়া থেকে প্রথম কয়লা ইঞ্জিনের প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলেছিল ১৭১ বছর আগে। ১৮৫৪ সালের ১৫ আগস্ট হাওড়া থেকে ৩৯ কিলোমিটার দূরে গন্তব্য ছিল হুগলি। কিন্তু রেলের ‘হাওড়া ডিভিশন’ তৈরি হয় তার অনেক পরে। ১৯২৫ সালের ১ জানুয়ারি ব্রিটিশরা নিজেদের অধীনে আনে ইস্টার্ন ইন্ডিয়া রেলওয়ে। ওই বছরের ৩০ জুন অধিগ্রহণ করে গ্রেট ইন্ডিয়ান পেনিনসুলা রেলওয়ে। আর ওই অধিগ্রহণের পরই ইস্টার্ন রেলওয়ে হাওড়া ডিভিশন হিসেবে চিহ্নিত হয়। ১৯২৪ সালে ব্রিটিশরা রেলের জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দও করেছিল। তাই সব মিলিয়ে ২০২৫ সালকে গৌরবময় হাওড়া ডিভিশনের শতবর্ষ হিসেবে স্মরণীয় করে রাখতে চাইছে কেন্দ্র। স্রেফ প্যাসেঞ্জার ট্রেনই নয়, পূর্ব রেলের মেল (ডাক) ট্রেনও প্রথম চলা শুরু হয়েছিল হাওড়া থেকেই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হাওড়া স্টেশন মিলিটারি ট্রান্সপোর্টে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে গত ৫ মে বিশেষ ডাকটিকিট এবং চিঠির খাম প্রকাশ অনুষ্ঠান হবে বলে ঠিক হয়েছিল। কিন্তু পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জেরে তা পিছিয়ে যায়। এখন নতুন তারিখ ঠিক হয়েছে। আগে কাঠের একটি স্টেশন ঘর থাকলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়র চালর্স স্টুয়ার্ট তৈরি করেন লালবাড়ির হাওড়া স্টেশন। ঐতিহ্য আর আধুনিকতার সংমিশ্রণে যা আজ হেরিটেজ বিল্ডিং। ১৯৪১ সালের ২৫ জুলাই রবীন্দ্রনাথের শেষ রেলযাত্রার সাক্ষীও হাওড়া স্টেশন। বোলপুর থেকে হাওড়া এসেছিলেন বিশ্বকবি। ৯৯ বছরের পুরনো ‘বড় ঘড়ি’ আজও টিকটিক করছে। নিরন্তর বইছে সময়ের স্মৃতি। কয়লার ইঞ্জিন দিয়ে শুরু করে আজকের বন্দে ভারত, মন্থর চলন থেকে দ্রুত গতির সময়ের পাতা উল্টে তাই নাগরিক মনে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে হাওড়া ডিভিশন। তারই শতবর্ষ সেলিব্রেশনে প্রকাশ হতে চলেছে ডাকটিকিট।