


নয়াদিল্লি: নগদকাণ্ডে আরও বিপাকে এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি যশোবন্ত ভার্মা। সুপ্রিম কোর্টের অভ্যন্তরীণ কমিটির রিপোর্ট, অপসারণের সুপারিশ সহ একাধিক ইস্যুকে চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করেছিলেন বিচারপতি ভর্মা। প্রশ্ন তুলেছিলেন তদন্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও। বৃহস্পতিবার তাঁর আর্জি খারিজ করে দিল দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহ জানান, অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি নিয়ম মেনেই গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া আইনি পথে এগিয়েছে। এখানে অবৈধ কিছু করা হয়নি। উল্টে তদন্তের সময়ে বিচারপতি ভার্মার আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলে দুই বিচারপতির বেঞ্চ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এই অবস্থায় বিচারপতি ভার্মার অপসারণে আর কোনও বাধা রইল না।
১৪ মার্চ দিল্লি হাইকোর্টের তৎকালীন বিচারপতি ভার্মার বাসভবনের গুদামে আগুন লাগে। আগুন নেভাতে এসে সেখানে পোড়া নগদ নোটের একাধিক বান্ডিল উদ্ধার করে দমকল। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তুমুল বিতর্ক শুরু হয়। সঙ্গে সঙ্গে বিচারপতি ভার্মাকে দিল্লি থেকে এলাহাবাদ হাইকোর্টে বদলি করা হয়। এরপর মামলা গড়ায় সুপ্রিম কোর্টে। তদন্তের জন্য হাইকোর্টের তিন বিচারপতিকে নিয়ে অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করা হয়। ৩ মে শীর্ষ আদালতে তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেয় সংশ্লিষ্ট কমিটি। সেই সময়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ছিলেন সঞ্জীব খান্না। অবসরগ্রহণের আগেই বিচারপতি ভার্মার ‘ইমপিচমেন্ট’এর সুপারিশ করেন তিনি। এবিষয়ে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠিও লেখেন তিনি। এরপরেই তদন্ত রিপোর্ট সহ একাধিক বিষয়ের বিরোধিতা করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন বিচারপতি ভার্মা। সেই আর্জি অবশ্য ধোপে টিকল না। বিচারপতিদের বেঞ্চ জানিয়েছে, ‘তৎকালীন প্রধান বিচারপতি ও তদন্ত কমিটি বিচক্ষণতার সঙ্গে গোটা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তবে নগদ উদ্ধারের ভিডিও ও ছবি আপলোড করার প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু সেই সময়ে আপনি বিরোধিতা করেননি। তাই এখন আর কিছু করার নেই।’