Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

বর্ষায় কাঠের আসবাবের যত্ন

প্রতি ঋতুতেই গেরস্থালির বাড়তি কিছু কাজ যোগ হয়। তবে বর্ষাকালে কাজের ফর্দ যেন বাড়তেই থাকে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ঘরদোর পরিষ্কার রাখা, পিঁপড়ে-পোকামাকড় আটকানো থেকে কাচাকুচি করার সুযোগ সবেতেই যেন চ্যালেঞ্জ! এই বর্ষায় আরও একটি বিশেষ কাজ যোগ হয়, তা কাঠের আসবাবের দিকে খেয়াল রাখা।

বর্ষায় কাঠের আসবাবের যত্ন
  • ১২ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

প্রতি ঋতুতেই গেরস্থালির বাড়তি কিছু কাজ যোগ হয়। তবে বর্ষাকালে কাজের ফর্দ যেন বাড়তেই থাকে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় ঘরদোর পরিষ্কার রাখা, পিঁপড়ে-পোকামাকড় আটকানো থেকে কাচাকুচি করার সুযোগ সবেতেই যেন চ্যালেঞ্জ! এই বর্ষায় আরও একটি বিশেষ কাজ যোগ হয়, তা কাঠের আসবাবের দিকে খেয়াল রাখা। 

Advertisement

এদিকে একটানা আকাশের মনখারাপ! আপনারও হয়তো মন ভালো নেই। ভেজা আবহাওয়ার সঙ্গে, মেঘের সঙ্গে সখ্য করার জন্য যে অবসর আমাদের প্রয়োজন, তা আর রোজনামচায় মেলে কই? বরং সকালে উঠেই ভাবতে হয় এই বৃষ্টিতে অফিস যাব কী করে? কেউ হয়তো ভাবেন, ঘোর বৃষ্টিতে বাড়ির ঊনকোটি কাজ সামাল দেব কী করে? তার সঙ্গে যোগ হয় ঘরোয়া বাড়তি কাজ। এই আষাঢ়ের শেষে পৌঁছেও আসবাবের চিন্তায় কপালে ভাঁজ পড়ে গৃহস্থের। বর্ষার আর্দ্র আবহাওয়ায় কাঠের আসবাব তার জৌলুস হারায়। সহজে ঘুণ ধরার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে। এক্ষেত্রে ‘ভিলেন’ বাতাসের বাড়তি জলীয় বাষ্প। তাই সেই আসবাবের যত্ন কীভাবে নেবেন, তা জেনে রাখা জরুরি। নইলে দামি আসবাব নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। 
ঘুণ আটকান: বর্ষায় আসবাবের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় ঘুণের আক্রমণে। তাই বছরে একবার সারা বাড়িতে পেস্ট কন্ট্রোল করার প্রথা চালু রাখুন। এছাড়া বর্ষায় নিমপাতা, কর্পূর, নিমের তেল, রাবিং অ্যালকোহল বা স্পিরিট একসঙ্গে মিশিয়ে একটা স্প্রে তৈরি করুন। দিন তিন-চারেক অন্তর এই স্প্রে কাঠের আসবাবে ছড়িয়ে দিন। 
দেওয়াল থেকে দূরে: আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘরের দেওয়াল স্যাঁতসেঁতে হয়। দেওয়াল ঘেঁষে আসবাব রাখলে দেওয়ালের ভেজাভাব আসবাবের কাঠ পর্যন্ত আসে। দেওয়াল ঘেঁষে আসবাব রাখবেন না। এতে কাঠ দ্রুত পচে যায়। ঘুণের সমস্যাও হয়। কাঠের জিনিসপত্র ভিজে গেলে কখনও চড়া রোদে দেবেন না। এতে রং হালকা হয় ও আসবাবে ফাটল ধরে। জানালার ধার ঘেঁষে কাঠের আসবাব থাকলে বৃষ্টির সময় জানালা বন্ধ রাখুন, যাতে জলীয় হাওয়া ও বৃষ্টির ঝাপটা না লাগে। 
দরজা-জানালা খুলে রাখুন: বৃষ্টির সময় যেমন দরজা-জানালা খুলে রাখবেন না, ঠিক তেমন অন্য সময় ঘরে যাতে হাওয়া বাতাস খেলে, সেদিকে নজর দিন। অনেকেই দিনভর ঘর বন্ধ রাখেন। সন্ধের পর থেকে এসি চালান। ফলে ঘরে যথেচ্ছ আলো-হাওয়া ঢুকতে পারে না। এমন হলে কাঠের আসবাবের ক্ষতি হয়। 
ছত্রাক আটকান: বর্ষায় কাঠের আসবাবে ছত্রাক হানা দেয়। এতে কাঠের বার্নিশ নষ্ট হয়। তাই সপ্তাহে তিন দিন রেক্টিফায়েড স্পিরিট দিয়ে ফার্নিচার মুছে নিন। যে কোনও হার্ডওয়্যারের দোকানে এই স্পিরিট মেলে। আসবাব ভালো রাখতে আসবাব বছরে একবার বার্নিশ করা প্রয়োজন। কারিগর ডেকে বার্নিশ করানো সবসময়ই ভালো, তবে তা একান্ত না পারলে বাড়িতেও বার্নিশ করে নিতে পারেন। চিনি ছাড়া কড়া চায়ের লিকার তৈরি করে তাতে সামান্য ভিনিগার মিশিয়ে দিন। এবার তা দিয়ে আসবাব পরিষ্কার করুন। 
তেলে তাজা: শুধু চুল নয়, তেলের কেরামতি আসবাবকেও তরতাজা রাখে। বৃষ্টির মরশুমে কাঠের আসবাবপত্র ভালো রাখার জন্য ব্যবহার করতে পারেন জলপাই তেল ও তিসির তেল। এই দুই তেল মিশিয়ে নিয়মিত আসবাব মুছলে কাঠের তৈরি জিনিসের গা থেকে বাড়তি জলীয়ভাব মুছে যায়। তাতে অনেকটাই শুকনো ভাব বজায় থাকে। 
শুকনো কাপড়: ভেজা কাপড় দিয়ে আসবাবপত্র মুছবেন না। এতে ছত্রাক জন্মায়। সবসময় শুকনো কাপড় দিয়ে মুছুন। নিয়মিত আসবাব মোছামুছি করলে আসবাবের গায়ে দীর্ঘদিনের ধুলোবালি ও ময়লা জমবে না। 
প্রাকৃতিক উপায়: কাঠের আসবাবের ভিতর ন্যাপথলিন, নিমপাতা ও লবঙ্গ রাখুন। ন্যাপথলিন বাতাসের আর্দ্রতাকে টেনে নেবে ও ঘুণপোকার হানা থেকে আসবাবকে বাঁচাবে। নিমপাতা ও লবঙ্গের গন্ধেও কীটপতঙ্গ দূরে থাকে। 
রুম হিটার: মেঝে বা দেওয়ালে স্যাঁতসেঁতে ভাব তৈরি হলে বর্ষায় ঘর বন্ধ করে কিছুক্ষণ রুম হিটার চালিয়ে দিতে পারেন। এতে ঘরের ভেজাভাব ও জলীয় বাষ্প উবে যাবে। বর্ষায় আসবাবের স্বাস্থ্যরক্ষায় এটি খুবই কার্যকর।  
মনীষা মুখোপাধ্যায়

সম্পর্কিত সংবাদ