Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / হেলথ

ঘন ঘন ডায়ালিসিস নিয়েও মা হলেন বধূ, মনের জোরে অবাক জয়

শুধু কলকাতা বা রাজ্যই নয়, সারা দেশকে চমকে দিল মানিকতলা ইএসআই হাসপাতাল। অবাক করে দিলেন হাবড়ার ৩৩ বছরের গৃহবধূ সুজাতা সরকার (নাম পরিবর্তিত)।

ঘন ঘন ডায়ালিসিস নিয়েও মা হলেন বধূ,  মনের জোরে অবাক জয়
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৮:০৯
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা; শুধু কলকাতা বা রাজ্যই নয়, সারা দেশকে চমকে দিল মানিকতলা ইএসআই হাসপাতাল। অবাক করে দিলেন হাবড়ার ৩৩ বছরের গৃহবধূ সুজাতা সরকার (নাম পরিবর্তিত)। ক্রনিক কিডনির অসুখের রোগিণী সুজাতা আড়াই বছর ধরে সপ্তাহে তিনবার ডায়ালিসিস নেওয়ার পরও সন্তানধারণ করলেন। এমনকি, ৩৬ সপ্তাহের মাথায় সিজারিয়ান সেকশনের মাধ্যমে নিরাপদে সেই সন্তান প্রসবও করলেন তিনি। ২৯ জুলাই সুজাতাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তারপর থেকে চলছিল নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা। এরপর বুধবার এই আশ্চর্যজনক ঘটনাটি ঘটেছে। অতিবিরল এই ঘটনায় স্তম্ভিত শহরের নামজাদা নেফ্রোলজিস্টরাও। অবাক হয়েছেন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরাও। তার কারণ, পঞ্চম পর্যায়ের ক্রনিক কিডনির অসুখে সন্তান গর্ভেই আসতে চায় না। আর এলেও এমন বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় যে, হয় গর্ভপাত করাতে হয়, নয়তো মা ও সন্তানের জীবন নিয়ে টানাটানি পড়ে যায়। মানিকতলা ইএসআই হাসপাতালের নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ পিয়ালি সরকারের তত্ত্বাবধানে ছিলেন রোগিণী—বলা ভালো এখন ২.১ কেজি ওজনের পুত্রসন্তানের ‘নতুন মা’! 

Advertisement

বিশিষ্ট নেফ্রোলজিস্ট ডাঃ রাজেন পান্ডে বলেন, অতিবিরল বললেও কম বলা হবে ঘটনাটি। কারণ, কিডনির অসুখ থাকলে হার্টে চাপ পড়ে। এই ধরনের ক্ষেত্রে গর্ভধারণ করা এবং গর্ভাবস্থার পুরো সময়টি নিরাপদে পার করা প্রায় অসম্ভব একটি ব্যাপার। বিশিষ্ট স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ দেবলীনা ব্রহ্ম বলেন, মিরাকল বললে কম বলা হবে। কারণ, ডায়ালিসিস চললে গর্ভধারণের সম্ভাবনাই অত্যন্ত কমে যায়। সন্তানধারণ করলে কিডনির উপর মারাত্মক চাপ পড়ে রোগিণীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাছাড়া প্রেশারের সমস্যাও হতে পারে। সেই অবস্থায় পুরো সময়টা সম্পূর্ণ করে প্রসব—এককথায় অবিশ্বাস্য! মানিকতলা ইএসআইয়ের নেফ্রোলজিস্ট পিয়ালি দেবী জানান, কিডনির অসুখ থাকাকালীন গর্ভধারণ করায় আমরা ওঁর ডায়ালিসিস নতুনভাবে পরিকল্পনা করি। সপ্তাহে তিনবারের বদলে রোজ, ধীরে এবং অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে হেপারিন ফ্রি ডায়ালিসিস করা হয়। তাছাড়াও খেয়াল রখা হয় অ্যানিমিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং অন্যান্য বিষয়েও। মা ও সন্তান দুজনেই ভালো আছেন। স্ত্রীরোগ প্রসূতি বিভাগ, নার্সিং, অ্যানাসথেসিওলজিস্ট ও টেকনোলজিস্টদের টিম—সকলকে অভিনন্দন। সবচেয়ে বড় অভিনন্দন প্রাপ্য সুজাতা ও তাঁর স্বামীর। সত্যিই মনের জোরে কী না হয়!

সম্পর্কিত সংবাদ