বেঙ্গালুরু: রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি)-র জয়ের সেলিব্রেশনের পরিকল্পনা কারা করেছিল? অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়েছিল? প্রায় এক লক্ষ মানুষের ভিড় সামলাতে কোনও নীতিমালা কি তৈরি করা হয়েছিল? কর্ণাটকের কংগ্রেস সরকারের কাছে এমনই নয়টি প্রশ্নের উত্তর জানতে চাইল কর্ণাটক হাইকোর্ট। আরসিবির আইপিএল জয়ের উত্সবে শামিল হতে গিয়ে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের বাইরে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যু হয়। তারপরই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছিল হাইকোর্ট। গত বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানি হয়। ১০ জুনের মধ্যে রাজ্য সরকারকে এই সব প্রশ্নের উত্তর দিতে বলেছে আদালত। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ভি কামেশ্বর রাও ও বিচারপতি সি এম যোশির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চায়, স্টেডিয়ামের আশপাশের রাস্তায় ট্রাফিক সামলানোর জন্য কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল? চিন্নাস্বামীতে চিকিত্সার জন্য কী ব্যবস্থা ছিল? ঘটনার পর আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে কত সময় লেগেছে? কত মানুষের ভিড় হতে পারে, তার কোনও মূল্যায়ন কী রাজ্য সরকার আগেভাগে করেছিল? এরই মধ্যে কর্ণাটক সরকারের এক সদস্যের তদন্ত কমিটিও খুঁজতে চাইছে, ওই ঘটনার পিছনে কার দায় ছিল। গত ৫ জুন এই কমিটি গঠন করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া। ৩০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি জন মাইকেল কুনহা কমিটি। এদিকে, ক্ষতিপূরণের অঙ্ক ১০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে ২৫ লক্ষ টাকা করল কর্ণাটক সরকার।
অন্যদিকে, শনিবার কর্ণাটক সরকার এই ঘটনার জন্য সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। সিআইডির আধিকারিকরা ইতিমধ্যেই কর্ণাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা (কেএসসিএ)-তে গিয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান করেন। এদিনই ১১ জনের মৃত্যুর নৈতিক দায়ভার নিয়ে ইস্তফা দিয়েছেন কেএসসিএর সচিব এ শঙ্কর ও কোষাধ্যক্ষ এ ই জয়রাম। ঘটনার পরেই এই দুজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়। যদিও শুক্রবার কেএসসিএ হাইকোর্টে এফআইআর খারিজের জন্য আবেদন করেছিল। আদালতে রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা জানায়, তারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না। তারা শুধুমাত্র আরসিবি কর্তৃপক্ষকে স্টেডিয়াম ভাড়া দেয়। আবেদনে সাড়া দিয়ে হাইকোর্ট জানায়, দু’জনের বিরুদ্ধে এখনই কোনও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না।
কর্ণাটক পুলিসের একটি সূত্র আগেই দাবি করেছিল, এত তাড়াহুড়ো না করে আরসিবি কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য সরকারকে রবিবার বিজয়োৎসব আয়োজনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাতে কেউ কর্ণপাত করেনি। জল্পনা ছড়িয়েছে, আইপিএল ফাইনাল খেলেই বিরাট কোহলি লন্ডনে পাড়ি দেবেন বলে গত বুধবার তড়িঘড়ি জয় উদযাপনের অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। কোহলিকে ছাড়া কাপ সেলিব্রেশনে রাজি হয়নি আয়োজকরা। যদিও এই নিয়ে পুলিস বা কর্ণাটক সরকারের তরফে কেউ কিছু জানাতে চাননি। -ফাইল চিত্র



