ফল বা সবজির খোসার গুণ জানলে অবাক হবেন!
ফল বা সবজির খোসার গুণ জানলে অবাক হবেন!
বসন্তেও হরেকরকম সবজি, ফলের পসারে সেজে উঠেছে বাজার। ব্যাগভর্তি করে সেগুলি বাড়ি বয়ে আনতে কার্পণ্য করছেন না কেউই। অথচ কাটার পর সবজি, ফলের খোসার ঠাঁই হচ্ছে ডাস্টবিনে। অপ্রয়োজনীয় ভেবে বর্জ্যের তালিকায় ঢুকিয়ে দিচ্ছেন খোসা। এর মাধ্যমেই কিন্তু বড়োসড়ো ভুল করছেন আপনি। মনে রাখবেন, সবজি, ফলের মতো খোসাও বহু গুণসম্পন্ন। অনেক বাড়িতে খোসা দিয়ে নানা পদ রাঁধা হয়। তা খেতেও অপূর্ব। তবে এছাড়াও আরও নানা কাজে লাগতে পারে খোসা। কী সেগুলি? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
• রূপচর্চা: রূপচর্চার জন্য খোসার জুড়ি মেলা ভার। ত্বকের উজ্জ্বলতা হোক বা দাঁতের হলদেটে ভাব দূর করা— সবজি, ফলের খোসা ব্যবহার করে সহজেই হতে পারে মুশকিল আসান। যেমন ধরুন, আলুর খোসা। ভিটামিন, খনিজ সমৃদ্ধ এই খোসা ঘষলে ত্বক পরিষ্কার হয়। মুখে অনেক সময় কালো ছোপ দেখা যায়। সেগুলি কমাতে সাহায্য করে আলুর খোসা। আবার, চোখের তলার কালো দাগ, মুখের ফোলাভাব কমাতেও কাজে লাগে এই খোসা। শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতেও সাহায্য করে আলুর খোসা। একই উপকার পাবেন শসার খোসাতেও। ফেস প্যাক তৈরি করতে পারেন কমলা লেবুর খোসা দিয়ে। পদ্ধতিও অত্যন্ত সহজ। দই, মধুর মধ্যে খোসার গুঁড়ো মেশান। এই প্যাক ১৫-২০ মিনিট রেখে ধুয়ে নিন। ত্বক উজ্জ্বল হবে। কমলালেবুর খোসা চোখের জন্যও ভীষণ ভালো। তৈলাক্ত ত্বক হলে মুখে মাখুন টম্যাটোর খোসা। দাঁতে হলদেটে ভাব থাকলে কলার খোসা ব্যবহার করতে পারেন। ভালো করে কলার খোসা ঘষলেই উপকার মিলবে। পাতিলেবুর খোসাও দাঁতে ঘষতে পারেন। এই খোসা কিন্তু চুলের জন্যও উপকারী।
• সার তৈরিতে: প্রাকৃতিক উপায়ে সার তৈরিতে কাজে লাগাতে পারেন খোসা। একটি পাত্রে মাটির সঙ্গে বিভিন্ন সবজি, ফলের খোসা, চা-পাতা, ডিমের খোসা ইত্যাদি মিশিয়ে রাখুন। কয়েকদিন পর এগুলি পচে গিয়ে তৈরি হবে প্রাকৃতিক সার। এই সার গাছের গোড়ায় দিলে মাটি উর্বর হবে। দ্রুত বৃদ্ধি পাবে গাছ।
• গৃহস্থালির কাজে: ঘরের নানা কাজের জন্যও ব্যবহার করা যায় খোসা। ধরুন, বাসনের কড়া দাগ বা তেলচিটে ভাব দূর করতে চান। তাহলে কাজে লাগাতে পারেন লেবুর খোসা। ফ্রিজে এই লেবুর খোসা রাখলে গন্ধ দূর হয়। আলুর খোসা দিয়ে তুলতে পারেন কাপড়ের দাগ। দেওয়াল থেকে দাগ দূর করতে ব্যবহার করতে পারেন শসা বা করলার খোসা। লেবু ও পুদিনার খোসা বিভিন্ন পোকামাকড় যেমন পিঁপড়ে, মশা, মাছি দূর করে। শুকনো রসুন, পেঁয়াজের খোসা গাছের গোড়ায় রাখতে পারেন। সেক্ষেত্রে পোকার উপদ্রব কমবে।
শান্তনু দত্ত