নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতের বাসিন্দাদের কাছে আবেগের আরেক নাম শেঠপুকুর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইচ্ছায় ১০ বছর আগে সৌন্দর্যায়ন হয়েছিল এই এলাকার। কিন্তু বর্তমানে এটি বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এখান সন্ধ্যা হলেই বসছে অসাধু চক্র। ফলে, গরিমা হারাচ্ছে বারাসতের গর্ব শেঠপুকুর। এনিয়ে পুর কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
লোকমুখে প্রচলন রয়েছে, বাংলার ১২ জন শেঠের বসতি ছিল বলে এলাকার নামকরণ হয় বারাসত। শেঠেদের সময়কালেই শহরে একটা পুকুর খনন করা হয়েছিল। সেই থেকেই বারাসতের রবীন্দ্র ভবন সংলগ্ন পুকুরটির নামকরণ হয় শেঠপুকুর। পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত শেঠপুকুরের জলে ছিল ফোয়ারা। পাশে স্পাইডারম্যানের মূর্তি থেকে হরেক রকমের ফুলগাছ। মাঝখান দিয়ে ছিল পায়ে হাটার পথ, বসার জায়গা। শহরের বাসিন্দারা অনেকেই এই পার্কে আসতেন। কিন্তু ২০১৭ সালের উমপুনে ক্ষতির মুখে পড়ে শেঠপুকুর পার্ক। এরপর কিছুটা সংস্কার হয়েছিল শেঠপুকুর। কিন্তু, এখন তা একেবারেই বেহাল। ফলে, মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে দুর্বৃত্তদের।
এনিয়ে বারাসত পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুনীল মুখোপাধ্যায় বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকাকালীন মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো এটি সংস্কার করি। তাতে প্রায় এক কোটির বেশি টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু উমপুনে এটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কিন্তু তারপর এটি আর ভালো করে সংস্কার করা হয়নি। বারাসতের গর্ব শেঠপুকুরের এখন যা অবস্থা, তা আর বলার নয়। পুকুরের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। কেন এটা নিয়ে ভাবা হচ্ছে না, বুঝতে পারছি না।
এনিয়ে বারাসত পুরসভার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অভিজিৎ নাগ চৌধুরী বলেন, শেঠপুকুর সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের জন্য আমাদের পরিকল্পনা হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। তবে, নেশার আসর রুখতে পুলিস ব্যবস্থা নেয়। এনিয়ে বারাসতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নির্মল দাস বলেন, শেঠপুকুর মানে বারাসতের মাইলস্টোন। একটা সময় এই পুকুরের ধারে মানুষ এসে আড্ডা দিতেন। কিন্তু তা আর নেই। তাছাড়া এই পুকুরে একটা সময় মাছ চাষও হতো। সে সব আজ অতীত। আমরা চাই এনিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।