নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বৃহৎ লগ্নি, উৎপাদন সেক্টরের বৃদ্ধিহার, এফডিআই, কর্মসংস্থান, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য তো রয়েছেই। সেসবের পাশাপাশি দেশের জিডিপি বৃদ্ধির হারের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের উন্নতি। সরকারি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতের জিডিপি বৃদ্ধিহারের সঙ্গে যে যে ফ্যাক্টরগুলি যুক্ত, তার মধ্যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পই ৩০ শতাংশ। কারণ, ভারতের বৃহৎ শিল্প উৎপাদনের ওঠাপড়া রয়েছে। সেখানে গ্রাম, মফস্বল, ছোট বড় শহরের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পই দেশের অর্থনীতি তথা জিডিপির প্রধান চালিকাশক্তি। কিন্তু নতুন আর্থিক বছরে এসে জানা যাচ্ছে, ওই চালিকাশক্তি এবার ধাক্কা খেয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ব্যাঙ্ক-ঋণ কমে গিয়েছে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা। এই পরিসংখ্যানই উদ্বেগ বাড়িয়েছে অর্থনৈতিক মহলে।
ক্ষুদ্র শিল্পের ভরসা ব্যাঙ্ক ঋণ। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি ব্যাঙ্কঋণের জন্য যত বেশি আবেদন করে, ততই বেশি আর্থিক বৃদ্ধি ঘটে। প্রধানমন্ত্রী কর্মসংস্থান বৃদ্ধি প্রকল্পের অধীনে ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে এই ক্ষেত্রে ব্যাঙ্ক-ঋণ মঞ্জুর হয়েছিল মোট ১৭ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা। কিন্তু পরবর্তী এক বছরে তা অনেক কমে গিয়েছে। ঋণের অঙ্ক এসে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩১৫ কোটি টাকায়। অর্থাৎ প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা কম। কোভিডকালের পর, ২০২১ সাল থেকে ক্রমেই ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য ঋণের চাহিদা বেড়েছে। এমনকী ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তা দ্বিগুণ বেড়েছে। সেই প্রবণতাই ধাকাক খেয়েছে সদ্য সমাপ্ত অর্থবর্ষে। শিল্প বাণিজ্য মন্ত্রকের অনুমান, সামগ্রিক বাণিজ্যে মুনাফার প্রবণতা কমেছে। সেই কারণে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নেওয়ার প্রবণতাও কমে গিয়েছে। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে যত সংস্থা ব্যাঙ্ক ঋণের আবেদন করেছিল, সেই সংখ্যাও ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে অনেক কম।
এই প্রকল্পের প্রধান লক্ষ্যই ছিল, কর্মীদের যাতে গ্রাম অথবা মফস্বল ছেড়ে পরিযায়ী হতে না হয়। সেই লক্ষ্যেই স্বনিযুক্তি প্রকল্পকেও আনা হয়েছিল এর অধীনে। এই প্রকল্পের সুবিধা হল—সরকার প্রথমে কিছু আর্থিক অনুদান প্রদান করে, যাতে ক্ষুদ্র শিল্প অথবা উদ্যোগ শুরু করা যায়। পাশাপাশি ব্যাঙ্ক থেকে প্রদান করা হয় ঋণ। এই প্রথম দেখা যাচ্ছে, সেই ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কমে যাচ্ছে। ২০২০-২১ আর্থিক বছরে ৯ হাজার কোটি টাকা ব্যাঙ্ক-ঋণ অনুমোদিত হয়। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে সেটা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল ১৮ হাজার কোটি টাকায়। কিন্তু তারপর থেকে সেই অঙ্ক কমতে শুরু করেছে। এখন সর্বনিম্ন!