নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় সদ্যোজাত মৃত্যুর পরিসংখ্যান নিয়ে ক্রমশ উদ্বেগ বাড়ছে। আট মাসে জেলায় ১২৬২ জন অপুষ্ট শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নাবালিকা মায়েরা সন্তান প্রসবের কারণেই সমস্যা জটিল হয়েছে। গত এপ্রিল থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত লাগাতার শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখনও ব্লক, মহকুমা ও জেলা হাসপাতালে অপুষ্ট শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
মুর্শিদাবাদে সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু একটি গুরুতর সমস্যা। দিনের পর দিন এই সমস্যা বাড়ছে। এক এক দিন একাধিক শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। যার কারণ হিসেবে অপুষ্টি, কম ওজন, প্রসবকালীন অযত্ন এবং রেফার রোগ দায়ী বলে মনে করছে। গুরুতর অবস্থায় প্রসূতিদের অন্য জেলা থেকে রেফার করা হয়। যার ফলে মৃত্যু বাড়ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত এপ্রিল মাস থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ মেডিকেলেই শুধুমাত্র ৬৪৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালে ১৮২টি সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। লালবাগ মহকুমা হাসপাতালে ১০১টি সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। কান্দি মহকুমা হাসপাতালে ৭৬ জন সদ্যোজাত এবং ডোমকল মহকুমা হাসপাতালে ৯৬ জন সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তরের মতে, মৃত শিশুর মা অপুষ্টিতে ভোগা এবং শিশুরা কম ওজন নিয়ে জন্ম নেওয়ায় তাদের বাঁচানো কঠিন হয়। পাশাপশি, স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর অভাব এবং হাসপাতালের বেড সংকটকেও দায়ী করা হয়। অনেক সময় মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজে দূরবর্তী এলাকা থেকে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের রেফার করার ফলে ‘গোল্ডেন পিরিয়ড’ পার হয়ে যাওয়ায় মৃত্যু হয়েছে। অন্যান্য মহকুমা হাসপাতাল থেকে জরুরি অবস্থায় শিশুদের বহরমপুরে রেফার করা হয়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে।
পরিসংখ্যান বলছে, নওদা ব্লক হাসপাতালে আট মাসে দু’টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হরিহরপাড়ায় চারটি শিশু, বেলডাঙা-১ ও ২ ব্লকে ছয় ও তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নবগ্রামে পাঁচটি শিশু, ভগবানগোলা-২ ব্লকে ছ’টি শিশু, মুর্শিদাবাদ জিয়াগঞ্জ ব্লকে একটি সদ্যোজাতের মৃত্যু হয়েছে। লালগোলা রুরাল হাসপাতালে ১৩টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ডোমকলে পাঁচটি, জলঙ্গিতে পাঁচটি, রানিনগর-১ ব্লকে পাঁচটি, রানিনগর-২ ব্লকের পাঁচটি, খড়গ্রামে ন’টি সদ্যোজাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ভরতপুর এক ব্লকে সাতটি, ভরতপুর-২ ব্লকে ১২টি, ফরাক্কায় আটটি, সামশেরগঞ্জে আটটি, সূতি-২ ব্লকে ১৩টি, রঘুনাথগঞ্জ-১ ব্লকে সাতটি, রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লকে সাতটি, সাগরদিঘি ব্লকে মোট সাতটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
জেলা পরিষদের সভাধিপতি রুবিয়া সুলতানা বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় অপুষ্ট শিশুর জন্ম হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা কাজ করছে। কিন্তু, তারপরেও পরিসংখ্যান সন্তোষজনক নয়।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলায় ২৫ হাজার মেয়ে মা হচ্ছেন মাত্র ১৪ বছর বয়সে। মেয়েদের ভ্রূণের আকার থাকে তখন একটি ছোট বলের মতো। তার মধ্যে একটি শিশু বেড়ে উঠছে। কী করে সে সুস্থ সন্তান প্রসব করবে। আমাদের আরও সচেতন হতে হবে। কোনও মেয়ে যাতে নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে করতে না পারে, সেদিকে আগে নজরদারির প্রয়োজন।