Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রতারণার ফাঁদ ম্যাট্রিমনি অ্যাপস: লুটের টাকায় ফুর্তি, মন্দারমণিতে রেভ পার্টি! ‘বান্ধবী’দের ঠকিয়ে সুন্দরী রমণীদের সঙ্গে মজে উঠত জামিররা

বিয়ের টোপে প্রেমিকাদের ঠকিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়েছিল ম্যাট্রিমনি অ্যাপসের প্রতারক সাহিদ, জামিররা। সেই টাকা টাকা ওড়াত দেদার ফূর্তি করে।

প্রতারণার ফাঁদ ম্যাট্রিমনি অ্যাপস: লুটের টাকায় ফুর্তি,  মন্দারমণিতে রেভ পার্টি! ‘বান্ধবী’দের ঠকিয়ে সুন্দরী রমণীদের সঙ্গে মজে উঠত জামিররা
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বিয়ের টোপে প্রেমিকাদের ঠকিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা হাতিয়েছিল ম্যাট্রিমনি অ্যাপসের প্রতারক সাহিদ, জামিররা। সেই টাকা টাকা ওড়াত দেদার ফূর্তি করে। প্রতি সপ্তাহে মন্দারমণির হোটেলে ‘রেভ পার্টি’র আয়োজন করা হতো। সেখানে প্রচুর টাকা দিয়ে নিয়ে আসা হতো সুন্দরী রমণীদের। তাঁদের সঙ্গে রতভর উদ্দাম নাচা-গানা। অন্তরঙ্গ হওয়া। দেদার নেশা থেকে যৌনতা—কোনও কিছুই বাদ যেত না। প্রতি সপ্তাহে আলাদা, আলাদা রমণীরা থাকতেন। সাত-আটজনের দল। মূলত, যাঁরা নৃত্যে পটু তাঁদেরকেই আনা হতো। প্রতারণার অধিকাংশ টাকা এভাবেই উড়িয়ে দিয়েছে জামিররা। প্রতারণরার অভিযোগে ধৃত সাহিদ আফ্রিদির মোবাইলের গ্যালারির ছবি এবং ভিডিও দেখে তদন্তকারীদের চক্ষূচড়কগাছ হওয়ার জোগাড়। 

Advertisement

সাহিদ-জামিরকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রায় প্রতি সপ্তাহেই তারা দামি গাড়ি চড়ে মন্দারমণির নির্দিষ্ট একটি হোটেলে উঠত। মাঝেমধ্যে সঙ্গে থাকত কয়েকজন বন্ধু। সুন্দরী তরুণীদের নিয়ে যাওয়া হত বাইরে থেকে। খাবারের মেনুও ছিল নজরকাড়া। সামুদ্রিক মাছ, দেশি মুরগির কষা কিংবা ঝোল। এমনই সব হরেক খাবার দিয়ে হোটেল কর্তৃপক্ষ জামিরদের জন্য তৈরি করে দিত বিশেষ ‘ডিশ’। মদ, গাঁজা থেকে প্রায় সব ধরনের মাদকই থাকত রেভ পার্টিতে। পার্টি চলত ভোর রাত পর্যন্ত। 
পুলিশের এক আধিকারিক বলছিলেন, অনুপম রায় সহ বিভিন্ন নামে অ্যাকাউন্ট খুলেছিল সাহিদ। তার মূলধন হল, ডিভোর্সি কিংবা তরুণীদের মগজ ধোলাই করার অদ্ভুদ ক্ষমতা। কোন মহিলাকে কি কথা বলতে হবে, তা তার ভালই জানা ছিল। যারা একাকীত্ব বা মানসিক অবসাদে ভুগছেন সেই সমস্ত ধনী বাড়ির মহিলাদের সে টার্গেট করত। নিজেকে বড় ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বন্ধুত্ব শুরু করত। তবে কখনই সে কোনও প্রেমিকার সামনে যায়নি। আপাতত চারজন মহিলার থেকে পুলিশ নগদ দেড় কোটি টাকা এবং ৫০ ভরি সোনার গয়না হাতানোর অভিযোগ পেয়েছে। এছাড়া আরও বহু মহিলার সঙ্গে তারা প্রতারণা করেছে। এক পুলিশ আধিকারিক বলেন, জাহির বিশ্বাস অর্জন করতে প্রেমিকার বাড়ির লোকজনদের সঙ্গেও কথা বলত। অনেকের বাড়ির লোকজনদের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের দিনক্ষণও ঠিক করে ফেলেছিল। বর্ধমানের প্রতারিত মহিলা পুলিশকে জানিয়েছে, ও প্রতারণা করতে পারে বলে একবারের জন্যও বিশ্বাস হয়নি। ফোনে বলত, এখনকার ছেলেদের মতো সে নয়। বিয়ের আগে দেখা করলে লোকসমাজে নানা কথা উঠবে। তাই সামনাসামনি দেখা করা বিয়ের পর হবে বলে জানিয়েছিল। তার বাড়ি কলকাতায় বলে সে জানিয়েছিল। বিয়ের আগে তার বাড়ির লোকজন বর্ধমানে আসবে বলে মহিলাকে আস্বস্ত করেছিল। সম্পর্ক যখন মজবুত হয়ে যায়, সেই সময়ই হঠাৎ করে সে একদিন বলে, ব্যবসায় কয়েক কোটি টাকা লোকসান হয়ে গিয়েছে। কিছু টাকা ধার হিসেবে দিলে আপাতত সে রক্ষা পাবে। ‘ভালোবাসা’র টানে বাড়ি বিক্রি করে প্রেমিককে টাকা দিয়েছিলেন ওই মহিলা। বাড়িতে থাকা সব সোনার গয়না ওর হাতে তুলে দিয়েছিলাম। কিন্তু এই পরিণতি হবে বলে ভাবতে পারেননি। ওই ঘটনার পর বাড়ির সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। (চলবে)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ