সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার পাঁচবারের কাউন্সিলার ছিলেন সুদর্শন হালদার। মন্দিরবাজারের রমাকান্ত উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের বাংলা ও সংস্কৃতের শিক্ষক ছিলেন। পুরসভার ছ’নম্বর ওয়ার্ডের হাসানপুরে বাড়ি ৭৫ বছরের সুদর্শনবাবুর। এই এলাকায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষের বসবাস। এখানে টানা ১৯ বছর ধরে দুর্গাপুজো করে সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছেন সুদর্শন মাস্টার। পুজোয় সাহায্য করতে ছুটে আসেন ইউসুফ, মান্নান সহ অনেকে।
সুদর্শনবাবুর এখন নাওয়া-খাওয়ারও সময় নেই। তাঁর বাড়ির ভিতর তৈরি হচ্ছে দুর্গাপ্রতিমা। মৃৎশিল্পীদের সঙ্গে তিনিও প্রতিমা গড়ার কাজে হাত লাগান। পাড়ায় এই সময় উৎসব চলে। ব্রাহ্মণ থাকলেও সুদর্শনবাবু নিজেও পুজো করতে বসেন। সঙ্গে থাকেন তাঁর স্ত্রী চম্পাবতীদেবী। তিনিও জয়নগর-মজিলপুর পুরসভার দু’বারের কাউন্সিলার। নবমীতে পাড়ার সবাই সুদর্শনবাবুর বাড়িতে পাত পেড়ে পুজোর ভোগ খায়। তাতে কামাল পৈলান থেকে রহিম সবাই আসেন। পরিবেশন করেন সুদর্শনবাবুর ছেলে সুদাম। তিনি বলেন, ‘আমাদের এই পাড়ায় দুর্গাপুজো ঘটা করে করেন বাবা। মুসললমান সম্প্রদায়ের মানুষজন বাবার কাজে সাহায্য করেন। বাইরে থেকে কোনও চাঁদা নেওয়া হয় না। নিজেই খরচ করে পুজো চালিয়ে আসছেন বাবা।’ সুদর্শনবাবু বলেন, ‘অন্য পাড়ায় দুর্গাপুজো হতো। আমাদের পাড়ায় হতো না। হঠাৎ করে ইচ্ছে হল পাড়াতে বাড়ির ভিতর পুজো করব। সেই থেকে টানা কয়েক বছর চালিয়ে আসছি। এখানে হিন্দু-মুসলিম নয়, সবাই একসঙ্গে মিলে কাজ করি।’ ইউসুফ মোল্লা নামে পাড়ার এক বাসিন্দা বলেন, ‘মাস্টারমশাইয়ের আন্তরিকতার জন্য আমরা ছুটে আসি পুজোতে। সুদর্শনবাবুর সঙ্গে পুজোর বাজারও করি। নবমীতে ভোগ খাই।’ একই কথা কামাল পৈলানের। তিনি বলেন, ‘আমাদের পাড়ায় দুর্গাপুজো মানেই সম্প্রীতি বাতাবরণ। এইভাবেই হয়ে আসছে বছরের পর বছর।’