নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পড়ুয়াহীন ৯৩৩টি স্কুল চিহ্নিত করেছে রাজ্য। যেখানে পঠনপাঠনের বদলে বিকল্প কর্মসূচির সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে নবান্নের তরফে। সেই মর্মে দপ্তরগুলিকেও চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, এই স্কুলগুলিকে তারা কোনো কাজে লাগাতে চায় কি না। সূত্রের খবর, যুব সমাজের মধ্যে অত্যধিক মোবাইল ফোনের ব্যবহার এবং ড্রাগ সেবনের বিরুদ্ধে বিশেষ কর্মসূচি নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য যুব কল্যাণ দপ্তর। আর এই কর্মসূচির অধীনেই পড়ুয়াশূন্য বেশ কিছু স্কুলে ইয়ুথ এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টার চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে দপ্তরের তরফে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে পড়ুয়াশূন্য এই স্কুলগুলির মধ্যে কোনগুলিতে এই সেন্টার চালু করা যায় তার চিহ্নিত করতে সমীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যে-সমস্ত স্কুলের মাঠ রয়েছে সেগুলিকে এই কেন্দ্র চালু করার জন্য প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। কারণ মোবাইলের আসক্তিমুক্ত এবং যেকোনো ধরনের নেশামুক্ত সমাজের লক্ষ্যে এই কেন্দ্রগুলিতে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির পাশাপাশি ইন্ডোর এবং নানা আউটডোর গেমসের ব্যবস্থাও রাখার কথা ভাবা হয়েছে। তবে শুধু খেলাধুলা নয়, যোগা এবং ধ্যানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশও গড়ে তোলা হবে এই কেন্দ্রগুলিতে। থাকবে জিমনেশিয়ামও। আবার দাবা প্রশিক্ষণ ছাড়াও ছবি আঁকা এবং নানা হাতের কাজ শেখানোরও ব্যবস্থা থাকবে।
রাজ্যের এক আধিকারিক জানান, মূলত ১৫-২৯ বছর বয়সিদের কথা মাথায় রেখে এই কেন্দ্রগুলি গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। গ্রামাঞ্চলে এই সমস্ত পরিষেবা পেতে ছেলেমেয়েদের অনেক দূর যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। এই কেন্দ্রগুলি চালু হলে বাড়ির কাছেই তারা এই সমস্ত সুযোগ-সুবিধা পাবে। এতে সমাজে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে কতগুলি এমন কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। সমীক্ষার পরেই তা নির্ধারিত হবে। এই ইয়ুথ এমপাওয়ারমেন্ট সেন্টারের নির্দিষ্ট একটি নামও দেওয়া হবে।