সংবাদদাতা, ঘাটাল: দাসপুর থানার বাঁকি বাজারে এক যুবককে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি জানাজানি হতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ও চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, ওই যুবক মঙ্গলবার রাতে নিজের তুতো বোনের শ্লীলতাহানি করতে গেলে তাকে হাতেনাতে ধরে চড়থাপ্পড় দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এদিন দুপুরে তাকে ফের গণধোলাই দিলে তার মৃত্যু হয়। মৃতের নাম সুরজিৎ জানা (২৮)। ওই গ্রামেই বাড়ি। ঘটনার খবর পেয়ে দাসপুর থানার ওসি অঞ্জনিকুমার তেওয়ারি বিশাল পুলিস বাহিনী নিয়ে এলাকায় পৌঁছন। পুলিস জানিয়েছে, বিকেলে মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে সাত জনকে আটক করা হয়েছে।সুরজিৎ সে অর্থে কোনও কাজকর্ম করত না। এখানে ওখানে ঘুরে বেড়াত। সুরজিতের বাড়ির পাশেই তার কাকার বাড়ি। কাকার দু’টি নাবালিক মেয়ে রয়েছে। দুই মেয়ে ও মা রাতে একটি ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ সুরজিৎ চুপিসারে ওই ঘরে ঢুকে গিয়ে এক বোনকে জড়িয়ে ধরে। তখন কাকিমার ঘুম ভেঙে গেলে তিনি সুরজিৎকে চড়-থাপ্পড় দিলে সুরজিৎ বাড়িতে ফিরে যায়।
এদিন সকালে কাকিমা ঘটনাটি পুলিসকে লিখিত আকারে জানাতে চাইলে সুরজিৎ নানা ভাবে হুমকি দিতে শুরু করে বলে কাকিমার অভিযোগ। সুরজিতের ওই ঔদ্ধত্য দেখে ক্ষিপ্ত হন পড়শিরা। পুলিস প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে, এদিন বেলা সাড়ে ১০টা নাগাদ পড়শিরা জড়ো হয়ে ওই যুবককে বাড়ি থেকে টেনে নামিয়ে ধারাবাহিক ভাবে গণধোলাই দিতে শুরু করে। তাদের মধ্যে সাত-আট জন মহিলাও ছিল। দীর্ঘক্ষণ একটানা মার খেয়ে যুবক অচৈতন্য হয়ে পড়ে। যারা গণধোলাই দিচ্ছিল সুরজিতের ওই অবস্থা দেখে তারা ভয় পেয়ে যায়। তাকে এক গ্রামীণ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তিনি তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। তারপর মৃতদেহকে সোনাখালি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়, কিন্তু ওই সময়ের মধ্যে সিভিক ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে পুলিসে খবর যায়। পুলিস মৃতদেহ আটকে রাখার নির্দেশ দেয়। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এর আগেও সুরজিৎ এই ধরনের কাজ করেছে। কিছু দিন আগে পুলিস সুরজিৎকে গ্রেপ্তারও করে। তবে আইনকে হাতে তুলে নিয়ে গণপিটুনি দিয়ে সুরজিৎকে মেরে ফেলার ঘটনার নিন্দা করেছে সর্বস্তরের মানুষ। এই ধরনের ঘটনা ঘাটাল মহকুমায় কখনও ঘটেনি বলে জানা গিয়েছে।ওই ঘটনার পর এলাকা থমথমে। পুলিস মোতায়েন রয়েছে। সুরজিতের মা কল্পনা জানা আর্তনাদ করে বলেন, আমার ছেলেটাকে যখন মারছিল আমি বার বার ছাড়াতে গিয়েছিলাম। আমার কথা কেউ রাখেনি। চোখের সামনেই আমার ছেলেটাকে মেরে ফেলা হল।