সংবাদদাতা, তেহট্ট: এক যুবককে অপহরণ করে মুক্তিপণ চাওয়ার অভিযোগে মুল অভিযুক্ত সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ঘটনাটি ঘটেছে তেহট্ট থানার বেতাই এলাকায়। ধৃত দুই অভিযুক্তের নাম অনুপ সরকার ও সুব্রত ভক্ত। বাড়ি বেতাই এলাকায়। শনিবার রাতে অনুপ সরকারকে পুলিস বেতাই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। অপহৃত যুবককে পুলিস উদ্ধার করেছে। সুব্রত ভক্তকে তিনদিন আগেই পুলিস বেতাই এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে তিনদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেয়। তার কাছ থেকে অনুপের কথা জানতে পারে পুলিস। তারপর মূল অভিযুক্ত অনুপকে পুলিস গ্রেপ্তার করে। অপহৃত যুবকের মা পাঁচজনের নামে থানায় অভিযোগ করেছেন। রবিবার দু’জনকে তেহট্ট আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। স্থানীয় ও পুলিস সুত্রে জানা গিয়েছে, বেতাই এলাকার যুবক সোমিত্র মণ্ডলের সঙ্গে অনুপ সরকারের ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেন ছিল। সেই ব্যবসা সংক্রান্ত লেনদেনে তাঁদের মধ্যে মনোমালিন্য হয়। তাঁরা বৈদিশিক মুদ্রা কেনাবেচা করতেন। সেই ব্যবসায় সৌমিত্রের সঙ্গে কিছু টাকা অনুপ পেত বলে জানা যায়। যদিও অপহৃত যুবকের দাবি, সেই টাকা শোধ করা হয়েছে। এ মাসের ২৪ তারিখে সৌমিত্রকে অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ। ধৃতদের জেরা করে পুলিস জানতে পেরেছে যে, কলকাতা থেকে একটি চারচাকা গাড়ি নিয়ে এসে তাঁকে বেতাই আখড়া পাড়া থেকে জোর করে পাঁচজন মিলে তুলে নিয়ে যায়। সেখান থেকে এলাকার বেলেচুয়া পাড়া মাঠে তাঁকে মারধর করে পলাশী হয়ে কলকাতার উদ্দেশ্যে গাড়ি নিয়ে রওনা হয়। রাস্তায় তাঁর চোখ বাঁধা ছিল। রাস্তায় তাঁকে একটি হোটেলে খাইয়ে আবার গাড়ি করে নিউ বারাকপুর নিয়ে যায়। সেখানে একটি বাড়িতে তাঁকে আটকে রাখা হয়। পুলিস আরও জানিয়েছে, ওই বাড়িটি দু’জন নিজেদের সফটওয়ার ইঞ্জিনিয়ার বলে ভাড়া নেয়। সেই দু’জনে দুই ভাই এই চক্রে জড়িত। রাতে অপহৃত যুবক কোনও রকমে ঘর থেকে বেরিয়ে ছাদে উঠে কাঁঠাল গাছ বেয়ে নেমে পালিয়ে যায়। এরমধ্যে অভিযুক্ত অনুপ সরকার অপহৃতের মাকে ফোন করে বলে ছেলেকে জীবন্ত ফিরে পেতে ছয় লক্ষ টাকা সুব্রত ভক্তের কাছে দিয়ে আসতে। এরপর অপহৃতের মা থানায় সুব্রত ভক্ত সহ পাঁচজনের নামে অভিযোগ করেন। পুলিস সুব্রতকে গ্রেপ্তার করে। এই মামলার তদন্তকারী অফিসার সামাদ বিশ্বাস তাঁকে নিয়ে অপহৃতের খোঁজ শুরু করে। উত্তর ২৪ পরগনার ঘোলা থানা এলাকা থেকে অপহৃতকে উদ্ধার করে। এরপর অপহৃতকে নিয়ে যে ঘরে তাঁকে আটকে রেখেছিল, সেই জায়গায় যেতে চায়।



