Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার, দু’মাস জলঙ্গির যুবক কেরলের জেলে বন্দি

টানা প্রায় দু’মাস ধরে কেরলে আটকে রয়েছেন জলঙ্গির এক শ্রমিক। অভিযোগ, তিনি নাকি বাংলাদেশি!

বাংলাদেশি সন্দেহে গ্রেফতার, দু’মাস জলঙ্গির যুবক কেরলের জেলে বন্দি
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: টানা প্রায় দু’মাস ধরে কেরলে আটকে রয়েছেন জলঙ্গির এক শ্রমিক। অভিযোগ, তিনি নাকি বাংলাদেশি! আর সেই সন্দেহেই মালাপ্পুরম জেলার ভাজাক্কাড থানার পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে যায়। কিন্তু দুই মাস পার হলেও আজও মুক্তি পাননি তিনি। এর আগেও দেশের নানা প্রান্তে বাংলাদেশি সন্দেহে শ্রমিকদের আটক করার অভিযোগ উঠেছে। । এবার সেই তালিকায় যোগ হল জলঙ্গির শ্রমিক মিঠুন মণ্ডলের নাম। ছেলে না ফেরায় বিপাকে পড়েছেন তাঁর মা। অভাবের সংসারে দিশেহারা তিনি।

Advertisement

কেরলে দিনমজুরির কাজ করেন মিঠুন। বাড়িতে থাকেন বৃদ্ধ মা। বাবা একটি মামলায় এখন জেলবন্দি। এমন অবস্থায় সংসারের একমাত্র ভরসা ছিলেন মিঠুন। এফআইআর কপিতে সেখানকার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায়। টহলদারির সময় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে ঘোরাফেরা করতে দেখে পুলিশ। ধাওয়া করে ধরে ফেলে মিঠুন সহ আরও দু’জনকে। পুলিশের দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে ভারতীয় পরিচয়পত্র পাওয়া যায়নি। তাঁদের কথাবার্তা,মোবাইল কলের হিস্ট্রি, আচরণ ও দেওয়া তথ্য দেখে পুলিশ ধৃতদের বাংলাদেশি নাগরিক বলে দাগিয়ে দেয়।  সেই সঙ্গে অভিযোগ তোলা হয়, বেআইনিভাবে ভারতে অনুপ্রবেশ করেছে। ওই অভিযোগ কপিতে মিঠুন মন্ডলকে বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার কান্টিপাড়ার বাসিন্দা বলে দাবি করা হয়েছে। 
যদিও মিঠুনের পরিবারের দাবি, মিঠুন ও তাঁদের গোটা পরিবার বহু বছর ধরে এদেশের নাগরিক। ভোটার তালিকায় তাঁর পরিবারের নাম রয়েছে ২০০২ সাল থেকেই। রয়েছে আধার, ভোটার কার্ডও। কিন্তু সব নথি দেখানোর পরও  লাভ হয়নি। পুলিশ নাকি জানিয়েছে, ওই সব কাগজপত্র নকল! মিঠুনের মা শখিনা বিবি বলেন, ‘আমার স্বামী মিথ্যে মামলায় জেলে। ছেলে ছাড়া আমার আর কেউ নেই। আমরা সবাই ভারতীয়। ছেলেকে ছ’মাসের বেশি বাইরে থাকার অজুহাতে বিএডিও স্থায়ী বসবাসের সার্টিফিকেট দিচ্ছে না। উকিল সেই সার্টিফিকেট লাগবে বলেছে। কিন্তু আমি পাচ্ছি না। আমি কাকে দেখাব? কোথায় যাব? কিছুই বুঝে উঠতে পারছি না।’ 
জলঙ্গির বিডিও সুব্রত মল্লিক বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ মিঠুনের আইনজীবী জানান, ১৯৪৬ এর ফরেনার্স আইনের ১৩, ১৪ (এ) ,১৪(বি) ধারায় তাঁদের গ্রেফতার করা হয়েছে। বিষয়টি বিচারাধীন। তাই এই বিষয়ে তেমন মন্তব্য করতে চাই না। আমরা চেষ্টা করছি। যাতে মিঠুনের জামিন করানো যায়। ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন,  ‘আমি এখনও এই বিষয়ে কিছু শুনিনি। খোঁজ নিচ্ছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ