নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ ও সংবাদদাতা, কালিয়াগঞ্জ: রোহিঙ্গা বলে অপবাদ দিয়ে মারধর হেমতাবাদের এক যুবককে। ৭ আগস্ট ঘটনাটি ঘটেছে নদীয়ার তাহেরপুরে। প্লাই কারখানায় কাজের সূত্রে কলকাতায় থাকা ওই যুবক হেমতাবাদে ফেরার পথে তাহেরপুর স্টেশনে নামেন। সেখানেই পাশে এক ক্লাবে খিঁচুড়ি খেতে গিয়েই বিপত্তি। তাঁকে রোহিঙ্গা বলে অপবাদ দিয়ে মারধর করা হয়। সেইসঙ্গে মারধরের ভিডিও করা হয়। পরে ভিডিও ভাইরাল হওয়ায়, সেই সূত্রেই রায়গঞ্জ পুলিস আক্রান্ত যুবককে খুঁজে বের করে। শেষপর্যন্ত রায়গঞ্জ পুলিস জেলার তৎপরতায় ওই যুবক অভিযোগ দায়ের করেন তাহেরপুর থানায়। রায়গঞ্জ পুলিস জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট থানার পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
আক্রান্ত যুবকের নাম নুরউদ্দিন আলি। বাড়ি হেমতাবাদের নওদা গ্রাম পঞ্চায়েতের সমাসপুর বেলতোরে। তাঁর অভিযোগ, ৭ আগস্ট কলকাতার কর্মস্থল থেকে তিনি উত্তর দিনাজপুরে নিজের বাড়ি ফিরতে ট্রেনে ওঠেন। ট্রেন তাহেরপুর স্টেশনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। তখন বেলা ১২টা। তিনি তাহেরপুর স্টেশনে নামেন। দুপুর হয়ে যাওয়ায় ভাতের হোটেলের খোঁজ শুরু করেন। একজন বলেন পাশেই এক ক্লাবে খিচুড়ি খাওয়াচ্ছে। নূরউদ্দিন বলেন, ওই ক্লাবে খিচুড়ি খাওয়ার জন্য যাই। ওই সময় কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আমার নাম শুনে রোহিঙ্গা বলে দাগিয়ে দেয়। পাকড়াও করে ব্যাপকভাবে মারধর করে। কিল, চড়, ঘুষি মারে। আমার সারা শরীরে চোট আঘাত আছে। আমার একটা দাঁত ভেঙে গিয়েছে। তাঁদের জানাই আমি কোনও রোহিঙ্গা নই। কিন্তু কে শোনে কার কথা। এরপর স্থানীয় কিছু মানুষের সহযোগিতায় সেখান থেকে বেরিয়ে কোনওরকম বাড়ি ফিরে আসি। ঘটনা প্রসঙ্গে নওদা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান জিয়াউর রহমান বলেন, কারও পরিচয় জানতে হলে প্রশাসন, পুলিস আছে। কিন্তু যারা এমন বর্বর ঘটনা ঘটাল তাদের কঠোর শাস্তি চাই।
পুলিস সূত্রে খবর, মারধরের সময় তোলা ভিডিও নিমেষে ভাইরাল হয়ে যায়। সেই ভাইরাল ভিডিও নজরে আসে রায়গঞ্জ পুলিসের। শুরু হয় খোঁজখবর। শেষপর্যন্ত জানা যায়, আক্রান্ত উত্তর দিনাজপুর জেলারই হেমতাবাদ ব্লকের সমাসপুর বেলতোর এলাকার বাসিন্দা। রায়গঞ্জ পুলিস আক্রান্ত যুবকের সঙ্গে কথা বলে। আক্রান্ত নুরউদ্দিন ঘটনার ব্যাপারে অভিযোগ করার ব্যাপারে ইচ্ছে প্রকাশ করেন। এরপর রায়গঞ্জ পুলিসের তৎপরতায় তিনি নদীয়া জেলার তাহেরপুর থানায় অভিযোগ জানান।
রায়গঞ্জের পুলিস সুপার সানা আখতার বলেন, আমরা একটি ভাইরাল ভিডিও পাই। যেখানে এক যুবককে নিগ্রহ করা হচ্ছে। সেই ভিডিও সূত্রেও আক্রান্ত ব্যক্তির খোঁজ মেলে। এরপর আক্রান্ত ব্যক্তি ঘটনার ব্যাপারে অভিযোগ জানান সংশ্লিষ্ট থানায়। সেখানকার পুলিস দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে বলে জানতে পেরেছি।