নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: মধ্যযুগীয় বর্বরতার সাক্ষী থাকল ইংলিশবাজার। আম বাজারে চোর সন্দেহে দুই যুবককে গণপিটুনি স্থানীয়দের। মালদহ মেডিকেলে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাতে থানায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছে এক যুবকের। তাঁর নাম সামজান সেখ (২৮)। পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। তিনজনকে গ্রেফতার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ধৃতদের নাম পিন্টু মণ্ডল, সুজন ঘোষ ও রাজা ঘোষ। তারা আম বাজারের ব্যবসায়ী বলে জানা গিয়েছে। তাদের রবিবার সিজেএম কোর্টে পেশ করে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এদিন দুপুরেই একজন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার বিকেলে ইংলিশবাজার শহরের আমবাজারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সেখানকার কিছু লোকজন চোর সন্দেহে দুই যুবককে ব্যাপক মারধর করে। সামজানের সঙ্গে থাকা আরেক যুবক অজয় হরিজনকেও মারধর করা হয়। গণপিটুনির জেরে গুরুতর আহত হন তাঁরা। জেলা পুলিশের কন্ট্রোল রুম মারফৎ মারধরের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ইংলিশবাজার থানার পুলিশ। দুই যুবককে উদ্ধার করে তাঁদের মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিত্সার পর দু’জনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। নিরাপত্তার খাতিরে পুলিশ যুবকদের থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এদিকে, চিকিৎসা চলাকালীন ওই দুই যুবকের পরিবারের লোকেদের হাসপাতালে ডেকে পাঠানো হয় থানা থেকে। পরে অবশ্য পরিবারের লোকেরা ফিরেও যান।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, সামজান থানার মধ্যে ফের অসুস্থ বোধ করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ফের মেডিকেল কলেজে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।
মৃতের স্ত্রী কাইফা খাতুনের অভিযোগ, স্বামীর চিকিৎসার পর রাতে বাড়ি চলে যাই। রাত দশটা নাগাদ আমাকে ফোন করে থানায় ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে পৌঁছতেই আমাকে মেডিকেল কলেজে নিয়ে যায় পুলিশ। সেখানে গিয়ে জানতে পারি স্বামীর মৃত্যু হয়েছে।
ইংলিশবাজার থানায় মৃতের স্ত্রীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ। যদিও অভিযোগ পত্রে কাইফা তাঁর স্বামীর হত্যাকারী হিসেবে কারও নাম উল্লেখ করেননি। তবে, রাতেই আম বাজারে গিয়ে সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। • ধৃতদের নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। - নিজস্ব চিত্র।