নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: মোবাইল চুরির অপবাদ দিয়ে যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় নাম জড়াল এক সিভিক ভলান্টিয়ারের। পুরুলিয়ার টামনা থানার চাকলতোড়ের ঘটনায় জেলাজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ঘটনায় মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পুলিস পাঁচজনকে আটক করেছে।
মৃত ওই যুবকের মায়ের অভিযোগ, গত ৭ জুলাই সোমবার বিকেলে হঠাৎই তাঁদের বাড়িতে ছয় যুবক চড়াও হয়। এরমধ্যে তিনজন তাঁর পরিচিত। এরমধ্যে একজন সিভিক ভলান্টিয়ার। ওরা বাড়িতে ঢুকে ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। তারপর কয়েকজন মিলে ছেলেকে বাইকে তুলে নিয়ে চলে যায়।
মৃত যুবকের এক আত্মীয় বলেন, ওকে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে অভিযুক্তরা জানিয়েছিল। কিন্তু, রাত হয়ে গেলেও ফিরছে না দেখে আমরা থানায় যোগাযোগ করি। থানা থেকে বলা হয়, এরকম কাউকে থানায় নিয়ে আসা হয়নি। যুবকের পরিবারের অভিযোগ, থানায় খোঁজ না পেয়ে তাঁরা অভিযুক্তদের এব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তখন তাঁদের বলা হয়, সে বিষ খেয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলের পর যুবকের মৃত্যু হয়। যদিও যুবকের পরিবারের দাবি, যুবককে পিটিয়ে মারা হয়েছে। সারা গায়ে মারের দাগ স্পষ্ট। আমরা ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদের আটক করা হয়েছে, তাদের মধ্যে একজনের ফোন চুরি যায়। তার সন্দেহ হয় মৃত যুবকের উপর। সেই কারণে তারা বাড়িতে চড়াও হয়। জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানার জন্য দেহের ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের ভিডিওগ্রাফি করা হবে। এই ঘটনায় মোট ছ’জনের বিরুদ্ধে আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত পাঁচজনকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। দোষ প্রমাণ হলে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। অভিযুক্ত সিভিক ভলান্টিয়ারকে নিয়ে পুলিস সুপারের সাফ বক্তব্য, ‘অভিযুক্ত যে কোনও পেশার সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। অপরাধ প্রমাণিত হলে পেশাগত পরিচয় যাই হোক না কেন, কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।’ এনিয়ে বিজেপির জেলা সহ সভাপতি গৌতম রায় বলেন, রাজ্যে এখন সিভিক-রাজ চলছে। এদের উপর পুলিসেরও কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। যেখানে পুলিস খোলাখুলি বালি, কয়লা, পাথর চুরি করছে, সেখানে সিভিকদের এই দাপাদাপি তো হবেই। যদিও তৃণমূলের জেলা সভাপতি রাজীব লোচন সোরেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে, অভিযুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিসকে অনুরোধ করব।