সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: গ্রাম পঞ্চায়েতের সহায়ক পদে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এক যুবকের থেকে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাৎ। এমন অভিযোগে সোমবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার বারাকপুর থেকে বিপ্রদীপ বিশ্বাস ওরফে সোহাগ বিশ্বাস নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করল আমতা থানার চন্দ্রপুর ফাঁড়ির পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে পুলিশ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করেছে। মঙ্গলবার উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতকে চারদিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আমতা থানার দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা সুরজিৎ কাঁড়ার পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন, আমতা গ্রাম পঞ্চায়েতে সহায়ক পদে চাকরির একটি বিজ্ঞাপন দেখে তিনি বিপ্রদীপ বিশ্বাস ওরফে সোহাগ বিশ্বাস নামে ওই যুবককে ১ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা দেন। সেই সঙ্গে যুবকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে তাঁর সমস্ত নথি পাঠিয়ে দেন সুরজিৎ। তাঁর অভিযোগ, এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর তাঁর মেলে একটা ভুয়ো সিলেকশন-এর চিঠি আসে। পাশাপাশি ৩০ সেপ্টেম্বর স্পিড পোস্টে একটি অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার এবং একটা আই কার্ডও আসে। সেখানে ৬০ দিনের মধ্যে আমাকে চাকরিতে যোগ দিতে বলা হয়।
সুরজিতের অভিযোগ, ৬০ দিন কেটে গেলেও আমি জয়েনিং-এর কোনও ‘কনফার্মেশন’ পাইনি। প্রতারিত হয়েছি বোঝার পর আমি একাধিকবার অভিযুক্ত যুবকের কাছে টাকা ফেরত চাই। কিন্তু তিনি টাকা ফেরত দিচ্ছিলেন না। এমনকী আমকে ভয়ও দেখাছিলেন। এরপরেই গত ১৭ মে সুরজিৎ বিপ্রদীপের নামে আমতা থানায় লিখিত আভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তে নেমে বিপ্রদীপের ফোনের সূত্র ধরে সোমবার রাতে বারাকপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। যদিও এদিন আদালতে যাওরার পথে সোহাগ দাবি করেন, তিনি একটি এজেন্সির মাধ্যমে টাকা তুলেছিলেন। সমস্ত টাকা এজেন্সিকেই দিয়েছেন। তারপরে পিছনে কী হয়েছে, তার সঙ্গে তিনি কোনভাবেই যুক্ত নন। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশের এক কর্তা জানান, অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে এই চক্রে আর কারা জড়িত, সেটা জানার চেষ্টা হবে। -নিজস্ব চিত্র