


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রেমের ফাঁদ পাতা ফেসবুকে! আসলে প্রেমের নামে প্রতারণার ফাঁদ! একাধিক তরুণীকে সেই ফাঁদে ফেলে, বিয়ের টোপ দিয়ে শারীরিক ঘনিষ্ঠতা। তারপর নানা অছিলায় টাকা আদায়। এভাবেই পুর্ব যাদবপুর থানা এলাকার এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের পর ৩১ লক্ষ টাকা হাতানোর অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে। পুলিস অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। তারা জানিয়েছে, ধৃতের নাম রাজদীপ রায়। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, মধ্যমগ্রাম এলাকার বাসিন্দা রাজদীপের পুরনো গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা রয়েছে। ফেসবুকে নিজের প্রোফাইলে সে গাড়ি বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন দিত। কোনও মহিলা সেখানে দেওয়া ফোন নম্বরে যোগাযোগ করলে তাঁর নাম ও ফোন নম্বর রেখে দিত রাজদীপ। মাঝেমধ্যে তাঁদের সঙ্গে কথা বলত। নাম-পরিচয় জানার পর ফেসবুকে সেই মেয়েদের বন্ধুত্বের অনরোধ পাঠাত। পূর্ব যাদবপুরের ওই তরুণীর সঙ্গে মাস ছয়েক আগে এভাবেই অভিযুক্ত যুবকের পরিচয় হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাজদীপ বিভিন্ন জায়গায় ওই তরুণীকে বেড়াতে নিয়ে যায়। তারপর সেখানে শারীরিক সম্পর্ক করে। এই ঘনিষ্ঠতার সূত্রেই সে জেনে নিয়েছিল, অভিযোগকারিণী তরুণীর ভালো টাকাপয়সা আছে। তারপর সে তরুণীকে বলে, ব্যবসা বাড়ানোর জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। তাঁকে ব্যবসার অংশীদার করার টোপও দেয় সে। সেই কথায় বিশ্বাস করে তরুণী তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৩১ লক্ষ ‘ট্রান্সফার’ করেন রাজদীপের অ্যাকাউন্টে। এরপর থেকেই রাজদীপ তরুণীকে এড়িয়ে যেতে শুরু করে। ফোন ধরাও বন্ধ করে দেয়। তখন তরুণী পুলিসের দ্বারস্থ হন।
পুলিস ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জেনেছ, পূর্ব যাদবপুরের এই তরুণী তার প্রথম শিকার নন। কাশীপুর থানায় তার বিরুদ্ধে একই অভিযোগ রয়েছে। সেখানেও একই কৌশলে কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে রাজদীপের বিরুদ্ধে। আরও অনেকে তার ফাঁদে পা দিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে জানতে পারছেন তদন্তকারীরা। অনেকে লোকলজ্জার ভয়ে অভিযোগ করেননি। এমনকী, কয়েকটি ক্ষেত্রে অভিযুক্ত তাঁদের ভয় দেখিয়েছেন বলেও জানতে পারছে পুলিস। প্রতারণার টাকায় দামি পুরনো গাড়ি কেনার পাশাপাশি আর কোন খাতে লাগানো হয়েছে, জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস।