সংবাদদাতা, কাটোয়া: ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আবহে দেশের অভ্যন্তরে সামাজিক মাধ্যমে উস্কানিমূলক মন্তব্য করার প্রবণতা বাড়ছে। পাকিস্তানের জয়গান করে ভুয়ো ছবি পোস্ট করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এমনকী, দেশের প্রতি বিদ্বেষমূলক উক্তি করা হচ্ছে। এবিষয়ে জেলায় কড়া নজরদারি রাখতে তৈরি করা হয়েছে বিশেষ সাইবার সেল। জেলা পুলিসের তরফে ফেসবুকে ২০টি উস্কানিমূলক পোস্ট মুছে দেওয়া হয়েছে। কাটোয়া থানায় ইতিমধ্যেই তিনটি দেশদ্রোহিতার মামলা রুজু করা হয়েছে।
ফের পাকিস্তানের হয়ে উস্কানিমূলক মন্তব্য ও সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট করায় দাঁইহাট থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করল কাটোয়া থানার পুলিস। ধৃতের নাম মিলন শেখ। দাঁইহাটের মোকামপাড়ায় বাড়ি। সে পেশায় রাজমিস্ত্রি। সোমবার তাকে কাটোয়া মহকুমা এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত শনিবার তার ফেসবুকে উস্কানিমূলক দেশবিরোধী পোস্ট করে। এরপর সেখানে সে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ লিখে কয়েকটি ছবিও পোস্ট করে। ধৃতের এমন পোস্টের পরেই শোরগোল পড়ে যায়। রবিবার দাঁইহাট শহরের লেকগার্ডেন্সের বাসিন্দা রণবীর বিশ্বাস কাটোয়া থানায় ধৃতের নামে লিখিত অভিযোগ জানান। তারপরেই পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। এদিন আদালতে তোলার সময় ধৃত বলে, ফেসবুকে কীভাবে এমন পোস্ট এল, আমি বুঝতে পারিনি। যদিও এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তিকে বারবার বলা স্বত্ত্বেও ফেসবুক থেকে তার পোস্ট মোছেনি।
পূর্ব বর্ধমান জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(গ্রামীণ) রাজীব কুমার বলেন, আমরা কাটোয়া থানায় তিনজনের নামে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছি। তারমধ্যে দু’জন গ্রেপ্তার হয়েছে। আরও একজনের খোঁজ চলছে। জেলায় ২০টি উস্কানিমূলক পোস্ট ডিলিট করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই মুম্বইয়ে বসে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জয়গান গেয়ে ‘পাকিস্তান জিন্দাবাদ’ লিখে ফেসবুকে পোস্ট করেছিল দাঁইহাটের যুবক শরিফ শেখ। তাকে মুম্বই পুলিস গ্রেপ্তারও করেছে। ট্রানজিট রিমান্ডে তাকে কাটোয়ায় আনা হচ্ছে। কাটোয়ার গাজিপুরেও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এমন পোস্ট করায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সেই ব্যক্তি হায়দরাবাদে থাকে। তাকেও গ্রেপ্তার করার জন্য বিশেষ টিম তৈরি করেছে পুলিস। এদিন আবার একজনকে গ্রেপ্তার করল কাটোয়া থানার পুলিস। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে সামাজিক মাধ্যমে এহেন উস্কানিমূলক পোস্ট থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিসের পক্ষ থেকেও একাধিকবার সতর্ক করা হয়েছে। তারপরেও এমন অভিযোগ উঠছে। এখানেই সন্দেহ বাড়ছে তদন্তকারীদের। ভুয়ো ছবি ব্যবহার করেও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। এতে এলাকায় উত্তেজনা বাড়ছে। কাটোয়া থানার পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।