সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: অনলাইনে ‘ফেক নোট’ কিনে এটিএমে ডিপোজিট করে শ্রীঘরে ময়নাগুড়ির এক যুবক। অভিযুক্তকে বৃহস্পতিবার রাতে গ্রেপ্তার করে ময়নাগুড়ি থানার পুলিস। ধৃতের নাম শুভ্রজ্যোতি গুহ। সে শহরের ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীনগর পাড়ার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে ময়নাগুড়ি থানা।
ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিস জেনেছে, অভিযুক্ত যুবক সম্প্রতি অনলাইনে ভারতীয় ৫০০ টাকার নোটের আদলে কিছু ‘ফেক নোট’ কেনে। কয়েকদিন আগে তার পরিবারের এক সদস্য ব্যবসার টাকা স্থানীয় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএমের ডিপোজিট করতে যান। কিনে আনা ফেক নোটগুলি সেই সময় সে পরিবারের এক সদস্যের হাতে দিয়ে জমা করতে বলে। এদিকে, মেশিনে সেই টাকা দিলে ২৩টি ৫০০ টাকার ফেক নোট মেশিনে জমা পড়ে এবং সেটি একটি আলাদা ট্রেতে থাকে। পরবর্তীতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ টাকা সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখে ২৩টি নোট জাল। কোন অ্যাকাউন্ট থেকে ফেক নোট জমা করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে ব্যাঙ্ক। নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টটি চিহ্নিত হওয়ার পর ব্যাঙ্ক থেকে ময়নাগুড়ি থানায় জানানো হয়। তদন্ত শুরু করে পুলিস। সংগ্রহ করা হয় এটিএমের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। এরপরই অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
ময়নাগুড়ি থানার আইসি সুবল ঘোষ বলেন, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। আমরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত শুরু করি। অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করি বৃহস্পতিবার রাতে। জিজ্ঞাসাবাদ করায় সে নিজের দোষ স্বীকার করেছে। ছেলেটি জানিয়েছে, অনলাইনে ফেক নোটগুলি কিনেছিল। সেগুলি এটিএমে ডিপোজিট করেছিল সে।
ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের এক কর্মী জানান, ছেঁড়া-ফাটা নোট বাদে ডিপোজিট মেশিনে কেউ পরিষ্কার টাকা দিলে সেই টাকা মেশিন নিয়ে নেবে। আসল টাকা আলাদা স্থানে চলে যায়, জাল নোট থাকলে আলাদা ট্রেতে জমা হয়। এ ক্ষেত্রেও সেটাই হয়েছে। আমরা সবটা খতিয়ে দেখার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
এদিকে, অভিযুক্ত শুক্রবার ময়নাগুড়ি থানায় দাঁড়িয়ে বলে, ওই নোটগুলি শিশুদের টাকা চেনানোর কারেন্সি। অনলাইনে অর্ডার করে এনেছিলাম। এটিএমে ডিপোজিট করা ভুল হয়েছে। এমন অন্যায় আর হবে না। নিজস্ব চিত্র