সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: আইবুড়ো ভাত খেতে মামারবাড়ি গিয়েছিলেন যুবতী। ফিরে এসে দেখেন, ভাড়া বাড়ির আলমারি ভেঙে বিয়ের গয়না ও নগদ টাকা উধাও। এমনকী, শখের বশে দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রহ করা বিভিন্ন দেশের ৫০টি কয়েনও দুষ্কৃতীরা নিয়ে গিয়েছে। বিষ্ণুপুর শহরের ভগৎসিং মোড় এলাকার ওই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ পেয়ে পুলিস তদন্তে নামে। পাশের বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুই দুষ্কৃতীকে পুলিস চিহ্নিত করে। চোরাই গয়না বাঁকুড়া শহরের একটি দোকানে বিক্রি করতে যাওয়ার পথে পুলিস তাদের পাকড়াও করে। বুধবার তাদের বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাদের চারদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা চুরির ঘটনা স্বীকার করেছে। তাদের কাছ থেকে চুরির গয়না ও টাকা উদ্ধার হয়েছে। ঘটনায় জড়িত বাকিদেরও ধরা হবে।
বাঁকুড়া জেলার অতিরিক্ত পুলিস সুপার(অপারেশন) মকসুদ হাসান বলেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরি ও ছিনতাইয়ের অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। ওরা একাধিকবার গ্রেপ্তারও হয়েছে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সহজেই তাদের চিহ্নিত করা যায়। অভিযোগের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা গিয়েছে।
যুবতী বলেন, পুলিস অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে দুষ্কৃতীদের ধরেছে। বিয়ের আগে চুরি যাওয়া গয়না ও টাকা চুরি যাওয়ায় খুব বিপাকে পড়ে গিয়েছি। তা ফেরত পেলে ভীষণ উপকৃত হব। সেই সঙ্গে আমার এতদিনের কষ্ট করে সংগ্রহ করা বিভিন্ন দেশের মুদ্রাগুলি পেলে ভীষণ খুশি হব।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর থানা এলাকার ওই যুবতী বিষ্ণুপুরের দ্বারিকায় একটি কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি ভগৎ সিং মোড়ে একটি ভাড়াবাড়িতে এক বছর ধরে থাকছেন। আগামী ৭ জুলাই তাঁর বিয়ে। সেই জন্য তিনি একটু একটু করে গয়না গড়িয়ে রেখেছিলেন। তাছাড়াও আলমারিতে ২৫হাজার টাকা ছিল। শনিবার তিনি আইবুড়ো ভাত খেতে মেদিনীপুরে মামারবাড়ি গিয়েছিলেন। সোমবার সকালে ফেরেন। বাইরের চাবি খুললেও ভিতর থেকে লক থাকায় ঘর খুলতে পারেননি। জানালার ফাঁক দিয়ে দেখেন, ঘর ভিতর থেকে বন্ধ রয়েছে। তখনই তিনি প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি করেন। পরে দেখেন, পিছনের দিকে একটি জানালার রড ভাঙা রয়েছে। ওই জানালা দিয়ে একজন ঢুকে ভিতরের লক খোলেন। ঘরে ঢুকতেই তিনি দেখেন, আলমারি, খাট সব লন্ডভন্ড অবস্থায় রয়েছে। গয়নার বাক্স, মানি ব্যাগ, কয়েনের ব্যাগ নেই। সঙ্গে সঙ্গে থানায় জানান। পুলিস এক প্রতিবেশীর বাড়িতে থাকা সিসিটিভির ফুটেজ খতিয়ে দেখে। তাতে দেখা যায়, চারজন মিলে চুরি করেছে। এরপরেই পুলিস তাদের চিহ্নিত করে। ওইদিন রাতে বাঁকুড়া শহরে একটি দোকানে চোরাই গয়না বিক্রি করতে যাওয়ার সময় পুলিস দু’জনকে পাকড়াও করে।