


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঋণ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে যাদবপুর এলাকার এক তরুণী গৃহবধূর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে যুবক। সেই সুযোগ নিয়ে ঘুমের ওষুধ মেশানো খাবার খাইয়ে তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ ও ৬ লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে ওই যুবকের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমে যাদবপুর থানার পুলিশ রবিবার পূর্ব মেদিনীপুর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। ধৃতের নাম সাগর মাইতি। তার বিরুদ্ধে পঞ্চসায়র থানায়ও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। এমনকি, একাধিক মহিলাকে সম্পর্কের জালে ফাঁসিয়ে সে এভাবেই ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, যাদবপুরের ওই গৃহবধূর লাখ চারেক টাকার প্রয়োজন ছিল। ঋণ সংক্রান্ত কথাবার্তা বলতে গিয়েই সাগরের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়। এরপর যুবক তরুণীকে জানায়, যাদবপুরে অফিসের কাছাকাছি এলাকায় সে বাড়িভাড়া খুঁজছে। গৃহবধূ জানান, তাঁর বাড়ির একাংশই ভাড়া নেওয়া যেতে পারে। অভিযুক্ত সেই বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতে শুরু করে। ঋণের ব্যবস্থা করতে তরুণীর থেকে বিভিন্ন নথি নেয় সে। পুলিশ তদন্তে জেনেছে, অভিযোগকারিণীর লাখ চারেক টাকার প্রয়োজন থাকলেও তাঁর নথি ব্যবহার করে সাগর ১০ লক্ষ টাকার ঋণ অনুমোদন করিয়ে নেয় ব্যাংক থেকে। ততদিনে তরুণীর আস্থা ও বিশ্বাস অনেকটাই অর্জন করেছে সে। সেই সূত্রে তরুণীর অ্যাকাউন্টে জমা পড়া ১০ লক্ষ টাকা থেকে ৬ লক্ষ তুলে নিজের কাছে রেখে চার লক্ষ তরুণীকে দেয়। অভিযোগ, এসবের মধ্যেই সে খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে তাঁকে অচৈতন্য করে দিনের পর দিন ধর্ষণ করে। অভিযোগকারিণী জানিয়েছেন, সকালে তাঁর স্বামী ও ছেলে বেরিয়ে গেলে ঘরে আসত ওই যুবক। সঙ্গে আনত সন্দেশ। খেতে না চাইলেও জোর করে তাঁকে সেই সন্দেশ খাওয়াত। তারপর শারীরিক সম্পর্ক করত। আরও অভিযোগ, এই সম্পর্কের কথা ফাঁস করলে তাঁর আপত্তিকর ছবি ভাইরাল করে দেওয়ার ভয় দেখাত। এই অবস্থায় লোনের ইএমআইর পরিমাণ দেখে চমকে যান গৃহবধূ। চার লক্ষ টাকার জন্য এত ইএমআই হয় কীভাবে? খোঁজ করতে গিয়ে তরুণী জানতে পারেন, ১০ লক্ষ টাকার ঋণ রয়েছে তাঁর নামে। অভিযোগের কথা জানতে পেরে যুবক ভাড়াবাড়ি ছেড়ে পালায়।
পুলিশ ধর্ষণ ও প্রতারণার কেস রুজু করে তদন্তে নামে। তারা জানতে পারে, অভিযুক্তের বাড়ি পূর্ব মেদিনীপুরে। সে পালিয়ে বেড়াচ্ছিল। পুলিশ জাল পেতে রেখেছিল। অবশেষে নির্দিষ্ট সূত্রে খবর পেয়ে রবিবার পূর্ব মেদিনীপুরে অভিযুক্তের বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোমবার তাকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। অভিযুক্তের হয়ে লিগ্যাল এডের আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, ‘সাগর মাইতির বিরুদ্ধে ধর্ষণের কোনও প্রমাণ নেই। দুজনের সম্মতিতেই শারীরিক সম্পর্ক হয়।’ পালটা সওয়াল করেন সরকারি আইনজীবী। সওয়াল শেষে বিচারক ধৃতকে পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।