নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: স্কুল চত্বরে প্রায় হাঁটু পর্যন্ত জমা জল। সেই জল পেরিয়ে আসতে হয় জলপাইগুড়ি শহর লাগোয়া খড়িয়া পঞ্চায়েতের বালাপাড়া তিস্তার চর এসপি প্রাইমারি স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের। জলের ভিতর দিয়ে আসতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই জখম হয় ছাত্রছাত্রীরা। সোমবারও জল পেরিয়ে স্কুলে আসতে গিয়ে প্রাক প্রাথমিকের বেশ কয়েকজন পড়ুয়ার জামাকাপড় ভিজে যায়। পড়ে গিয়ে জখম হয় কয়েকজন। এনিয়ে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। প্রথমে তাঁরা স্কুলে ঢুকে বিক্ষোভ দেখান। আটকে রাখার হুমকি দেন। পরে স্কুল ছুটির পর শিক্ষকরা বের হতে গেলে তাঁদের ঘিরে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানতে চান, স্কুলে জল জমার সমস্যা কবে মিটবে? বিষয়টি ফোন করে শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকদের পাশাপাশি স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যকে জানান প্রধান শিক্ষক। খবর পেয়ে পঞ্চায়েত সদস্য জয়া সরকার বিশ্বাস স্কুলেও আসেন। তাঁর দাবি, স্কুলে জল জমার সমস্যাটি আগেই বিডিও অফিসে জানিয়েছেন তিনি।
প্রধান শিক্ষক নয়নরঞ্জন বক্সি বলেন, আমি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছি। তবে যতটুকু শুনেছি, বর্ষায় স্কুলে জল জমার সমস্যা দীর্ঘদিনের। এনিয়ে স্কুলের তরফে প্রশাসন ও জেলা শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকদের একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু লাভ হয়নি। এদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন জলপাইগুড়ি সদরের বিডিও মিহির কর্মকার। তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ারকে পাঠানো হচ্ছে। কীভাবে স্কুল চত্বর থেকে জমা জল বের করা যায়, তা দেখছি।
সোমবার স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, খুদে পড়ুয়াদের প্রায় কোমর সমান জল জমে রয়েছে স্কুলে। জলে কেঁচো, পোকামাকড় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ওই জল পেরিয়ে পড়ুয়ারা ক্লাসে আসছে। দীপা রায় নামে এক অভিভাবক বলেন, বর্ষার শুরু থেকেই স্কুল চত্বরে জল জমে যায়। এই জল দুর্গাপুজো পর্যন্ত থাকবে। ছেলেমেয়েরা স্কুলে ভিজে পোশাক পরেই ক্লাস করে।
বালাপাড়া তিস্তার চর এসপি প্রাইমারি স্কুলে ১৯৭ জন পড়ুয়া রয়েছে। প্রাক প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠনের ব্যবস্থা রয়েছে ওই স্কুলে। নিজস্ব চিত্র।