Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

যৌতুকের বাইক নিয়ে বেরিয়ে দুর্ঘটনা বউভাতে ঘরে ফেরা হল না যুবকের

বিয়ে করে এসেই যৌতুকে পাওয়া বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন বর। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না যুবকের।

যৌতুকের বাইক নিয়ে বেরিয়ে দুর্ঘটনা বউভাতে ঘরে ফেরা হল না যুবকের
  • ১৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বিয়ে করে এসেই যৌতুকে পাওয়া বাইক নিয়ে বেরিয়েছিলেন বর। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হল না যুবকের। রাস্তায় মোটরভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে বিয়ের দিনই মৃত্যু হল বাবেরুদ্দিন মল্লিকের(২০)। মৃত্যু হয়েছে বাইকে থাকা দবীর শেখ(৩৯) নামে আরও এক যুবকের। জখম হয়েছেন মোটরভ্যানের চালক সহ পাঁচ যাত্রী। তাঁদের মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বর্ধমান মেডিক্যালে স্থানান্তর করা হয়েছে। বাকিদের চিকিৎসা চলছে রামপুরহাট মেডিক্যালে। বৃহস্পতিবার রাতে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে মুরারই উমরপুর রাস্তার উপর পাইকর থানার বর্ষাপুকুর গ্রামের কাছে। ঘটনায় বিয়ের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

Advertisement

পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাবেরুদ্দিন পেশায় ট্রাক্টর চালক ছিলেন। তাঁর বাড়ি পাইকর থানার বর্ষাপুকুর গ্রামে। দবীর পেশায় দিনমজুর। তিনি লক্ষ্মীডাঙা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বাবেরুদ্দিনের বিয়ে হয়। মুর্শিদাবাদের উমরপুর থেকে বিয়ে করে সন্ধ্যায় নতুন বউকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। শুক্রবার বউভাত হওয়ার কথা। সেই মতো শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারতে লাগোয়া লক্ষ্মীডাঙা গ্রামের এক যুবককে যৌতুকে পাওয়া বাইকের পিছনে বসিয়ে পাইকর বাজারে যাচ্ছিলেন। গ্রামের কাছেই উল্টোদিক থেকে আসা একটি মোটরভ্যানের সঙ্গে বাইকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বাইকে থাকা দু‌ই যুবকের। ঘটনায় জখম হন ভ্যানের চালক সহ পাঁচ যাত্রী। তাঁদের কারও হাত-পা ভেঙে গিয়েছে। কেউ আবার মাথায় চোট পেয়েছেন। সকলকে উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে আসা হয়। তাঁদের মধ্যে কালু শেখ নামে একজনকে বর্ধমান মেডিক্যালে রেফার করা হয়।  
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন ভাইয়ের মধ্যে মেজো ছিল বাবেরুদ্দিন। তাঁর মামা মফিজুল মল্লিক বলেন, বিয়ে করে এসেই নতুন বাইক নিয়ে বেরিয়ে যায় ভাগ্নে। এক ঘণ্টার মধ্যেই সব শেষ হয়ে গেল!
এদিকে এই দুর্ঘনার জন্য রাস্তার ধারে অবৈধ বালির গোলা ও ধান মাপার কাঁটাকে দায়ী করেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা বলেন, যেখানে দুর্ঘটনা ঘটেছে সেখানে অবৈধভাবে বালি মজুত করে ব্যবসা করা হচ্ছে। ওখানেই রয়েছে ধানের আড়ত ও ধান মাপার কাঁটা। ফলে সবসময় ওখানে ধান বোঝাই লরি ও বালি লোড ও আনলোডের জন্য ট্রাক্টর দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিস-প্রশাসন সব জেনেও নীরব দর্শক। ঘটনার সময়ও ওখানে একটি ধান বোঝাই লরি দাঁড়িয়ে ছিল। বাইকটি ওই লরিটিকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় সামনে থেকে আসা মোটরভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। অবিলম্বে ওই এলাকা যানজটমুক্ত না করা হলে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতেই থাকবে। পুলিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। 
এদিন ময়নাতদন্তের পর দু‌ই যুবকের দেহ গ্রামে পৌঁছতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সাজানো প্যান্ডেলের নীচে বাবেরুদ্দিনের দেহ রাখা হয়েছিল। সেখানেই চোখের জলে স্বামীকে শেষ বিদায় জানান নববধূ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ