সংবাদদাতা, কান্দি: একবছর আগে কুস্তি খেলাকে ঘিরে ঝামেলা হয়েছিল। অভিযোগ, সেই রাগ মেটাতে এক যুবককে বাইক থেকে নামিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। সেইসঙ্গে তাঁর দুই নাবালিকা মেয়েকেও হেনস্তা করা হয়। বুধবার রাতে ভরতপুর থানার গাঙেড্ডা গ্রামের কাছে এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পরে পুলিস আক্রান্ত ওই যুবককে হাসপাতালে ভর্তি করে। পুলিস অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করলেও বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
পুলিস জানিয়েছে, প্রতিবছর এই সময় আঙারপুর গ্রামের কাছে কুয়ে নদীর বুকে কুস্তি খেলা হয়। সেই প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন গ্রামের কুস্তিগিররা অংশ নেন। কিন্তু, গতবছর গণ্ডগোল বেধে যাওয়ায় খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। আয়োজক কমিটির এক সদস্য বলেন, গতবছর খেলার সময় আঙারপুর গ্রামের ছেলেদের সঙ্গে কান্দি থানার নওপাড়া গ্রামের ছেলেদের ঝামেলা বেধে গিয়েছিল। পরে উভয়পক্ষ হাতাহাতিতেও জড়িয়ে পড়েছিল। এরপর খেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এদিন আক্রান্ত ওই যুবকও ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে তিনি বাইকে তাঁর দুই মেয়েকে নিয়ে কান্দি শহরের নারায়ণধার পার্কে বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সন্ধ্যায় ফেরার সময় দু’টি বাইকে চার যুবক আমার পিছু ধাওয়া করে। কান্দি-সালার রাজ্য সড়কে গাঙেড্ডা গ্রামের কাছে আমার বাইক আটকায়। এরপর লাঠিসোঁটা ও লোহার রড দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে। আমার দুই মেয়ে বাধা দিতে এলে ওদেরও হেনস্তা করা হয়। আমার প্রায় ৮০হাজার টাকা লুট করে নেয়। মেয়েদের গলার সোনার চেনও ছিঁড়ে নিয়েছে। পরে স্থানীয়রা আমাদের উদ্ধার করে। পুলিস আক্রান্ত ওই যুবককে ভরতপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে ওই গ্রামের বহু মানুষ জড়ো হয়। পরে আক্রান্তকে কান্দি মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ঘটনায় আক্রান্ত ওই যুবকের মা ভরতপুর থানায় চারজনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে।