Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্ত্রীকে এটাই কামড়েছে, সাপ নিয়ে হাসপাতালে যুবক, হুলস্থূল কাণ্ড মেমারি হাসপাতালে

রাত সাড়ে ১০টা। মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে সেইসময় রোগী ছিল না। চিকিৎসক চেয়ারে বসেছিলেন। আচমকাই এক ব্যক্তি ছুটে এসে টেবিলে কিছু একটা রাখলেন।

স্ত্রীকে এটাই কামড়েছে, সাপ নিয়ে হাসপাতালে যুবক, হুলস্থূল কাণ্ড মেমারি হাসপাতালে
  • ২৪ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাত সাড়ে ১০টা। মেমারি গ্রামীণ হাসপাতালের এমার্জেন্সিতে সেইসময় রোগী ছিল না। চিকিৎসক চেয়ারে বসেছিলেন। আচমকাই এক ব্যক্তি ছুটে এসে টেবিলে কিছু একটা রাখলেন। বাইরে থেকে লেজ দেখা যাচ্ছে। ওই ব্যক্তি লেজ ধরে চিকিৎসকের উদ্দেশে বললেন, স্যার, এই সাপটাই স্ত্রীকে কামড়েছে। দেখুন কত বড়। ওই ব্যক্তির এহেন কাণ্ড দেখে চিকিৎসকের শরীরে ঠান্ডা স্রোত বয়ে যায়। কার্যত অনুরোধের সুরে ওই ব্যক্তিকে চিকিৎসক বললেন, ‘থাক বের করতে হবে না। বুঝে গিয়েছি। আপনার স্ত্রীর সঠিক চিকিৎসাই করব, চিন্তা নেই।’ পাল্টা ওই ব্যক্তি ফের বলেন, স্যার, বের করছি দেখুন না। আপনার ওষুধ দিতে সুবিধা হবে। তারজন্যই তো ধরে এনেছি। এবার কিছুটা বিরক্ত হলেন চিকিৎসক। তিনি ধমকের সুরে বলেন, ‘আপনাকে তো বললাম ওসবের দরকার নেই। সাপটি টেবিল থেকে নামিয়ে নিয়ে যান।’

Advertisement

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রোগীর নাম জবা মুর্মু। মঙ্গলবার রাতে তাঁকে সাপে কামড়ায়। তিনি যখন ঘরে যাচ্ছিলেন তখনই একটি সাপ তাঁকে কামড় দিয়ে চলে যায়। স্ত্রীর চিৎকার শুনে ছুটে আসেন হেমন্ত মুর্মু। লাঠি দিয়ে আঘাত করে সাপটিকে একটি ব্যাগে ভরে নিয়ে আসেন। মেমারির সাতগেছিয়ার ঝিকরা গ্রামের বাসিন্দা হেমন্তবাবু বলেন, কোন সাপ কামড়েছে, সেটা না দেখলে চিকিৎসক ওষুধ দেবেন কীভাবে? চিকিৎসা করতে যাতে সুবিধা হয়, সেই কারণেই সাপটিকে ধরে আনি। 
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, জবাদেবীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তাঁকে একটি গোখরো সাপে কামড়েছিল। জেলায় সাপের উপদ্রব বেড়ে গিয়েছে। প্রতি বছরই বর্ষার সময় সাপের কামড়ে অনেকের মৃত্যু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জানুয়ারি মাস থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৪০০জন সাপের কামড়ে মারা গিয়েছেন। মাঠে চাষ করতে গিয়ে সাপের কামড়ে যাতে কৃষকের মৃত্যু না হয়, তার জন্য জেলা পরিষদ থেকে বিশেষ জুতো দেওয়া হচ্ছে। 
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, যেসব চাষি জুতোর জন্য আবেদন করছেন, তাঁদের তা দেওয়া হচ্ছে। জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত হেমব্রম বলেন, সাপের কামড়ে অসুস্থদের এখনও অনেকেই ওঝার কাছে নিয়ে যান। তাতে বিপদ নেমে আসে। রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রাণ বাঁচানো যায়। লাগাতার প্রচার করার পরও অনেকেই ভুল করেন।
মেমারির ওই ব্যক্তি অবশ্য ওঝার কাছে যাননি। তিনি সাপ ধরে হাসপাতালে পৌঁছে যান। তাতে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্য কর্মীরা ভয় পেয়েছেন ঠিকই। কিন্তু, তাঁর স্ত্রীর প্রাণ বেঁচে গিয়েছেন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ