সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছেলে ও বাবাকে। ধৃতদের বুধবার রামপুরহাট পকসো আদালতে তোলা হয়। সেখানে ছেলেকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আর বাবার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করার অভিযোগে এবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে ছেলে ও বাবাকে। ধৃতদের বুধবার রামপুরহাট পকসো আদালতে তোলা হয়। সেখানে ছেলেকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আর বাবার জামিন মঞ্জুর করেছেন।
নলহাটি থানা এলাকার বছর ষোলোর ওই নাবালিকার সঙ্গে বছর দেড়েক আগে মাড়গ্রাম থানার প্রতাপপুর গ্রামের যুবক মণিরুল ইসলামের পরিচয় হয়। তা ক্রমেই তা প্রেমের সম্পর্কে পরিণত হয়। এরপর বছর খানেক আগে ওই নাবালিকাকে ফুসলিয়ে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে লুকিয়ে বিয়ে করে মণিরুল। কিছুদিন গা ঢাকা দিয়ে থাকার পর নাবালিকা স্ত্রীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে। এর মধ্যেই ওই নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়ে। চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ওই নাবালিকা রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হতেই পর্দা ফাঁস হয়। চিকিৎসক মেয়েটিকে দেখেই বুঝতে পারেন অপ্রাপ্তবয়স্ক। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাড়গ্রাম থানায় বিষয়টি জানায়।
এরই মধ্যে ওই নাবালিকা সন্তানের জন্ম দেয়। পুলিস তদন্তে নেমে গত ২০ আগস্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে পকসো ধারায় মামলা দায়ের করে। মঙ্গলবার রাতে ওই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। একই সঙ্গে এই বিয়েতে মদত দেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় যুবকের বাবা আমিরুল ইসলামকেও।
বর্তমানে কিশোর-কিশোরীদের কাছে একসঙ্গে পালানো ‘সহজ’ বলে মনে হয়। যা পরে তাদের বড় সঙ্কটে ফেলে দেয়। কেউ নাবালিকা অবস্থায় মা হওয়ার কারণে নানা রোগে ভোগে। কেউবা অল্পবয়সে সংসারের দায়িত্ব সামলাতে না পেরে মানসিক অবসাদে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। আবার বহু নাবালিকার কোনও হদিশ পাওয়া যায় না। এমন ঘটনা অজস্র। বীরভূম জেলাজুড়ে বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে ধারাবাহিক প্রচার করা হচ্ছে প্রতিটি স্কুলে। কোথাও নাবালিকার বিয়ে দিলে দুই পরিবার, ডেকরেটার্স, পুরোহিত বা মৌলবি সকলেই গ্রেপ্তার করা হবে বলে ঘোষণা করেছে প্রশাসন। কিন্তু, তারপরও নাবালিকা বিয়ে অব্যাহত। নাবালিকাকে ফুঁসলিয়ে বিয়ে করার ঘটনায় বারবার উঠে আসছে মাড়গ্রামের নাম। মুম্বই পুলিসের অভিযোগের ভিত্তিকে গত ২৯মে মাড়গ্রামের খানকাশরিফপাড়া থেকে জামান শেখ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জামান বছর ষোলোর এক নাবালিকাকে বিয়ে করে মুম্বই নিয়ে পালায়। ওই নাবালিকা গর্ভবতী হয়ে পড়লে সেখানকার এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় ওই যুবক। মেয়েটি নাবালিকা জানতে পেরেই মুম্বই পুলিসের কাছে অভিযোগ জানান ওই চিকিৎসক। মুম্বই পুলিস ডাকযোগে সেই এফআইআর মাড়গ্রাম থানায় পাঠায়। এরই মধ্যে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে যুবক গ্রামে ফিরতেই পুলিস তাকে গ্রেপ্তার করে। একই অভিযোগে গত ১৯ জুন সোহেল শেখ নামে বছর কুড়ির এক যুবককে গ্রেপ্তার করে মাড়গ্রাম থানার পুলিস। একই অভিযোগে গত ১০ জুলাই মাড়গ্রামের হাঁড়িপাড়া থেকে শ্রীকান্ত মাল নামে বছর আঠারোর এক তরুণকেও গ্রেপ্তার করা হয়।
মাড়গ্রাম থানার পুলিস সূত্রে জানানো হয়েছে, এখনও পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে এরকম ন’টি খবর মিলেছে। সব ক্ষেত্রেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভারতীয় দণ্ডবিধি অনুযায়ী, ১৮ বছরের আগে যেমন নাবালিকার বিয়ে দেওয়া যাবে না, তেমনই ১৮ বছরের আগে যদি কোনও মেয়ে কোনও ছেলের সঙ্গে চলে যায়, সে ক্ষেত্রে নাবালিকার সম্মতি ছিল কিনা, সে প্রশ্ন গ্রাহ্যই হবে না।
জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, নাবালিকা বিয়ে রোধে জেলা পুলিস প্রশাসন থেকে স্বাস্থ্যদপ্তর একযোগে কাজ করছে। নাবালিকা অবস্থায় বিয়ে কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।