Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসতের পুলিস আবাসন থেকে তরুণ ডাক্তারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

বারাসতে পুলিস আবাসন থেকে এক কনেস্টবলের চিকিৎসক ছেলের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে কাছারি ময়দান সংলগ্ন পুলিস কোয়ার্টারে।

বারাসতের পুলিস আবাসন থেকে তরুণ ডাক্তারের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
  • ২২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বারাসতে পুলিস আবাসন থেকে এক কনেস্টবলের চিকিৎসক ছেলের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার রাতে কাছারি ময়দান সংলগ্ন পুলিস কোয়ার্টারে। মৃতের নাম দেবজ্যোতি ঘোষ (২৭)। পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে বারাসত থানার পুলিস। পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবজ্যোতির আদি বাড়ি নদীয়া জেলার পলাশিপাড়ায়। তাঁর বাবা দিলীপ ঘোষ রাজ্য পুলিসের কনেস্টবল। বারাসত পুলিস লাইনে তিনি গাড়িচালকের কাজ করেন। দমদমে তাঁদের একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। তবে, চাকরি সূত্রে পরিবার নিয়ে তিনি বারাসতের পুলিস কোয়ার্টারেই থাকতেন। মাঝেমধ্যে যেতেন দমদমের ফ্ল্যাটে।

Advertisement

দেবজ্যোতি কলকাতার এনআরএস মেডিক্যাল কলেজ থেকে ২০২৩ সালে এমবিবিএস পাশ করেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল সরকারি কোনও হাসপাতালে চাকরি করার। কিন্তু চাকরি পাননি। ফলে বেশ কিছুদিন ধরেই হতাশায় ভুগছিলেন তিনি। তিনি কখনও দমদমের ফ্ল্যাটে, আবার কখনও বারাসতের কোয়ার্টারে থাকলেও দিনের অধিকাংশ সময় ঘরের দরজা বন্ধ করে রাখতেন। পরিবার সূত্রে খবর, এক তরুণীর সঙ্গে দেবজ্যোতির প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তা জানার পর তরুণীর সঙ্গে কথাও বলেন দেবজ্যোতির মা তাপসী ঘোষ। কিন্তু সেই সম্পর্ক বেশিদিন টেকেনি।
ঘটনার কয়েকদিন আগে দেবজ্যোতিরা দমদমের ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে দিলীপবাবু ও তাপসীদেবী তারাপীঠে পুজো দিতে যান। শুক্রবার তাঁরা বারাসতে ফিরে দেখেন, ছেলের ঘরের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। ডাকাডাকি করলেও সাড়া দেননি, এমনকী, ফোন করলেও ধরেননি দেবজ্যোতি। ছেলে ঘুমোচ্ছে ভেবে দিলীপবাবু কাজে বেরিয়ে যান। কিন্তু মায়ের মনে কু ডাকে। সন্দেহ তৈরি হয় মা-বাবার। শেষে দরজা ভেঙে দেখেন, গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলছে ছেলে। দেহে ততক্ষণে পচন ধরতে শুরু করেছে। দুর্গন্ধ বেরচ্ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বারাসত থানার পুলিস। তাঁরাই ঝুলন্ত দেহটি উদ্ধার করেন। 
মৃতের মা তাপসী ঘোষ বলেন, ‘ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় আমার আত্মীয়রাই জড়িত। কোনও তান্ত্রিককে দিয়ে ছেলেকে ‘বশ’ করা হয়েছিল। যে কারণে ও এমন কাজ করেছে। আমি এর শেষ দেখে ছাড়ব। এ প্রসঙ্গে বারাসত পুলিস জেলার অতিরিক্ত সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হয়েছে। মৃতের পরিবারের কেউ কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ