Bartaman Logo
২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

গিনেস বুকে নাম মধ্যমগ্রামের যশমিতার

গান বাজছে, চোখের সামনে কোনো নোট নেই। নেই কোনো বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যও। শুধু শুনে বলতে হবে, কোন সুর, কোন নোট, কোন কর্ড। কাজটা কঠিন।

গিনেস বুকে নাম মধ্যমগ্রামের যশমিতার
  • ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: গান বাজছে, চোখের সামনে কোনো নোট নেই। নেই কোনো বাদ্যযন্ত্রের সাহায্যও। শুধু শুনে বলতে হবে, কোন সুর, কোন নোট, কোন কর্ড। কাজটা কঠিন। কিন্তু মধ্যমগ্রামের ১১ বছরের যশমিতা দত্তর কাছে যেন সেটাই খেলার মত। কানে শুনে সুরের নোট এবং কর্ড শনাক্ত করার সেই দক্ষতাই এবার তাকে পৌঁছে দিয়েছে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি গিনেসের জন্য তার নাম জমা পড়ে। নানা দিক যাচাইয়ের পর জুলাইয়ে আসে স্বীকৃতি। ২ মিনিট ২ সেকেন্ডে ৩৯টি মিউজ়িক্যাল নোট এবং ১ মিনিটে ২০ টি কর্ড শনাক্ত করে এই নজির গড়েছে সে। বাবা একনিষ্ঠ দত্তের দাবি, এই বিভাগে এখনও পর্যন্ত যশমিতা ছাড়া আর কেউ এই পর্যায়ে পৌঁছতে পারেনি। 

Advertisement

এই বিশ্বরেকর্ডের পিছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের সাধনা। মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে সুরের প্রতি টান তৈরি হয় যশমিতার। গানের প্রথম তালিম মায়ের কাছেই। পাঁচবছর বয়স থেকে কি বোর্ড শেখা শুরু। শিক্ষক ছিলেন সংগীতশিল্পী সৌভিক কুণ্ডু। ছোটো থেকেই নোট এবং কর্ড চেনার অনুশীলন চলেছে সমানতালে। সহজ করে বললে, একটি গান তৈরিতে ব্যবহৃত একক মৌলিক ধ্বনিগুলি মিউজিক্যাল নোট। একসঙ্গে বাজানো দুই বা ততোধিক নোটের সমাহারে হয় কর্ড। কোন গান কোন স্কেলে, তার সুরের নোটগুলি কী, কানে শুনেই তা ধরে ফেলতে পারে যশমিতা। দিনের পর দিন অনুশীলনে তৈরি হয়েছে শ্রবণশক্তি। মধ্যমগ্রামে যশোর রোডের ধারে একটি আবাসনে থাকে যশমিতা। বাবা তথ্যপ্রযুক্তি কর্মী। মা কোয়েলদেবী গৃহবধূ। বাড়ির ছোটো একটি ঘরই যশমিতার সুরের জগৎ। সেখানে আছে কি বোর্ড, হারমোনিয়াম, গিটার, মেলোডিকা, ক্যাসিও। তবে কি বোর্ড এবং হারমোনিয়াম বাজাতেই বেশি পছন্দ করে সে। গানও গায়। একাধিক রিয়ালিটি শো’য়ে ইতিমধ্যেই প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে। অল ইন্ডিয়া রেডিয়োর শিশুশিল্পী হিসাবেও পারফর্ম করেছে। ওর বাবা বলেন, ‘কঠোর অনুশীলন আর পরিশ্রম ওকে এই স্বীকৃতি পেতে সাহায্য করেছে। এই ক্যাটাগরিতে যশমিতা ছাড়া এখনও পর্যন্ত কেউ পৌঁছায়নি। গানের প্রতি প্রথম থেকেই ওর ভালোবাসা। গিনেস বুক অফ রেকর্ডসের পাশাপাশি ইন্ডিয়া বুক অফ রেকর্ডসেও নাম আছে। গিনেসের স্বীকৃতির জন্য ৪ জানুয়ারি রেকর্ড হয়। সম্প্রতি এই সাফল্যের সার্টিফিকেট হাতে এসেছে।’ যশমিতার এখনই থামার ইচ্ছে নেই। সে বলেছে, ‘খুব ভালো লাগছে। ভবিষ্যতে প্লে-ব্যাক সিঙ্গার হতে চাই। এ আর রহমান স্যরের সঙ্গে কাজ করতে চাই। তার জন্য পরিশ্রম করছি।’ সাড়ে চারবছর বয়সে মায়ের কাছে গানের হাতেখড়ি। পাঁচবছরে কি বোর্ড। তার পরে নোট কর্ড চেনার নিরন্তর অনুশীলন। আর ১১ বছরে বিশ্বরেকর্ড। মধ্যমগ্রামের সেই ছোটো ঘরে তাই এখন সা রে গা মা’র সঙ্গে মিশে রয়েছে এক খুদে শিল্পীর বড়ো স্বপ্ন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ