Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের স্বপ্ন পূরণে যজ্ঞশ্রী প্রকল্প

ঝাড়গ্রাম আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। আদিবাসী এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল। সাঁওতালি ভাষায় পঠনপাঠনের সুযোগ ছিল না।

ঝাড়গ্রামে আদিবাসী তরুণ-তরুণীদের স্বপ্ন পূরণে যজ্ঞশ্রী প্রকল্প
  • ১১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকা। আদিবাসী এলাকা দীর্ঘ সময় ধরে শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত ছিল। সাঁওতালি ভাষায় পঠনপাঠনের সুযোগ ছিল না। আদিবাসী তপসিলি পরিবারের ছেলেমেয়েরা এখন সরকারি চাকরি, জেইই ,নিট ,ওয়েস্ট বেঙ্গল জয়েন্ট এন্ট্রান্সের প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। যজ্ঞশ্রী প্রকল্পে বিনামূল্যে কোচিং সঙ্গে ভাতা মিলছে। 

Advertisement

ঝাড়গ্রাম যজ্ঞশ্রী -১ প্রকল্পের পাশাপাশি যজ্ঞশ্রী -২ ও ৩ ফেজের কোচিং শুরু হয়েছে। সেখানে জেনারেল , সংখ্যালঘু, ওবিসি সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা কোচিং করার সুযোগ পাচ্ছেন। যজ্ঞশ্রী -১ প্রকল্পে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির আদিবাসী তফসিলি সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা বিনামূল্যে কোচিং ও ভাতার সুযোগ পাচ্ছেন। কোচিংয়ে এসসি ৩১ জন ও এসটি ৯ জন কোটার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ পাচ্ছে। প্রকল্পের সবিধা পেতে গেলে  মাধ্যমিক পরীক্ষায় তফসিলি জাতির পড়ুয়াদের মাধ্যমিকে ৬০ শতাংশ ও তফসিলি উপজাতি পড়ুয়াদের ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। আসন সংখ্যা ৪০। মাসিক ভাতা ৩০০ টাকা দেওয়া হচ্ছে । যজ্ঞশ্রী -২ এ কোচিংয়ের সুযোগ পেতে হলে অষ্টম, মাধ্যমিক ও স্নাতক পাস হতে হবে। আসন সংখ্যা ৫০।  যজ্ঞশ্রী ৩ এর জন্য ওয়েস্ট বেঙ্গল জিইই, নিট প্রশিক্ষণ পাচ্ছে জেনারেল, সংখ্যালঘু ও ওবিসি সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা। জেনারেল ও সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের মাধ্যমিকে ৭০ শতাংশ ও ওবিসি পড়ুয়াদের ৬৫ শতাংশ নম্বর পেতে হবে। যজ্ঞশ্রী -১ প্রকল্পে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে ২৪ জন এসসি ও ১৬ জন এসটি পড়ুয়া প্রশিক্ষণ নিয়েছিল। ছয় মাসে ভাতার জন্য ৭২ হাজার টাকা অর্থ বরাদ্দ হয়। ২০২২-২৩ থেকে ২০২৪ -২৫ অর্থবর্ষে ২, লক্ষ ৬৪ হাজার টাকার ভাতা দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরে ১০ জন এসসি ও ৩০ জন এসটি পড়ুয়া কোচিং নিচ্ছে। আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তর সূত্রের খবর কোচিং নেওয়ার জন্য আদিবাসী পরিবারের ছেলেমেয়েদের দিনদিন আগ্ৰহ বাড়ছে। চলতি বছরে যজ্ঞশ্রী -২ এ ৮ জন এসসি ও ৪২ জন এসটি কোচিং নিচ্ছে। যজ্ঞশ্রী-৩ এইবছর জেনারেল ২৩ জন, ওবিসি ২৫ জন ও সংখ্যালঘু ২ জন কোচিং নিচ্ছে। জেলা আদিবাসী উন্নয়নের দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, যজ্ঞশ্রী -১ প্রকল্পে কোচিং নিয়ে এসসি, এসটি পরিবারের ছেলেমেয়েরা চাকরি পাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় নিজেই বলেছিলেন, যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে চলেছে। কোচিং সেন্টারে আদিবাসী পরিবারের ছেলেমেয়েরা ভিড় জমাচ্ছেন। মাসিক ভাতার সুযোগ পাওয়ায় জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে তাঁরা আসতে পারছেন। কোচিং সেন্টারে ৭ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। আদিবাসী পরিবারের মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে যেত। আর্থিক কারণে ছেলেরা কাজে নেমে পড়তো। সেইসব পরিবারের ছেলেমেয়েরা এখন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। অনেকে জয়েন্ট, নিটের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। প্রকল্প জেলার আর্থ সামাজিক অবস্থার বদল ঘটাতে চলেছে। ঝাড়গ্রাম ব্লকের আঁধারিশোলের বাসিন্দা বিশ্বনাথ হাঁসদা বলেন, বড় কোচিং সেন্টার পড়তে গেলে টাকা লাগবে। যজ্ঞশ্রী প্রকল্পের আওতায় বিনামূল্যে কোচিং পাচ্ছি। সুযোগ না পেলে সমস্যায় পড়তাম। 
বিনপুর -১ ব্লকের বৈতার বাসিন্দা উজ্বল চালক বলেন , উচ্চমাধ্যমিকের পর কলেজ ভর্তি হয়নি। গ্ৰুপ সির চাকরির প্রশিক্ষণ নিচ্ছি। ঝাড়গ্রাম আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের প্রকল্প আধিকারিক বলেন , যজ্ঞশ্রী প্রকল্প ১ এর পর এই বছর থেকে যজ্ঞশ্রী ২ ও ৩ ফেজ শুরু হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকা থেকে ছেলে মেয়েরা কোচিং নিতে আসছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ