নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যে ইয়াবা কারবারের মূল কিংপিন কাজি রহমানকে শিলচর বিমানবন্দর থেকে বুধবার সকালে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। সেখান থেকে হায়দরাবাদ পালানোর পরিকল্পনা ছিল তার। মায়ানমার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে এসে ভায়া অসম ক্যারিয়ারদের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে দিত সে। দীর্ঘদিন ধরে তাকেই খুঁজছিল বেঙ্গল এসটিএফ। মাদক কারবারের জন্য বেতনভুক এক হাজার কর্মী ছিল কাজির। শিলচর থেকে গ্রেপ্তার করে তাকে ট্রানজিট রিমান্ডে রাজ্যে নিয়ে আসা হচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার তাকে স্থানীয় আদালতে তোলার কথা রয়েছে।
চলতি মাসে এনজেপি ও নিউ কোচবিহার জিআরপি আলাদা আলাদা তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করে যথাক্রমে ২২৪০ কেজি ও ১০৩৭ কেজি নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট। এই ট্যাবলেট অসম থেকে রাজ্যে এসেছিল। দাম ছিল আনুমানিক ১০ কোটি টাকা। এগুলি উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। রেল পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, এই ইয়াবা আসছে মায়ানমার থেকে। গোটা চক্রের কিং পিন কাজি। তারপরই বেঙ্গল এসটিএফকে তদন্তভার দেওয়া হয়। তারা তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে, জুন মাসেও তার পাঠানো ১৯৮৫৬ কেজি ইয়াবা ট্যাবলেট বাজেয়াপ্ত করেছিল কোচবিহারের কোতোয়ালি থানা।
তদন্তে উঠে আসে, শিলচরে বসে ইয়াবা নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করছে কাজি। তার অধীনে কাজ করছে হাজারের বেশি তরুণ। একদল মায়ানমারের শান প্রদেশের ‘স্ট্যাক ইয়ার্ড’ থেকে ইয়াবা নিয়ে আসছে। অন্য দল বিভিন্ন রাজ্যে নিয়ে যাচ্ছে এই মাদক। প্রত্যেকের মাস মাহিনার ব্যবস্থা রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে অসংখ্য ক্যারিয়ার। যারা লোকাল ডিলারদের কাছ থেকে খুচরো বিক্রেতাদের কাছে এই ট্যাবলেট পৌঁছে দিচ্ছে। জেলায় জেলায় কয়েকশো ডিলার রয়েছে তার। তদন্তকারীরা জেনেছেন, মায়ানমার থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়ে আসা হচ্ছে মণিপুরে। সেখান থেকে ঢুকছে অসমে। অসম থেকে এই মাদক পাচার হতো এ রাজ্যের মালদহ, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, নদীয়া, বর্ধমান, বনগাঁ সহ বিভিন্ন জেলায়। সীমান্ত পেরিয়ে এই মাদক চলে যাচ্ছে বাংলাদেশে। প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার মাদক পাচার হচ্ছে। সবমিলিয়ে মাদক বিক্রি করে কাজির রোজগার মাসে ৩০-৪০ কোটি টাকা। বেঙ্গল এসটিএফের কাছে খবর আসে, সে শিলচরে রয়েছে, অন্যত্র পালানোর ছক কষছে। এরপরই এসটিএফের টিম শিলচরে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। বুধবার নিউটানউনে নেশা মুক্ত ভারত অনুষ্ঠানে হজির হয়ে কাজির গ্রেপ্তারির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কাজিকে রাজ্যে নিয়ে এসে মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত, তা জানতে চায় এসটিএফ। পাশাপাশি নিষিদ্ধ মাদক ব্যবসা থেকে আসা টাকায় কোথায় কত সম্পত্তি কিনেছে এবং বিনিয়োগ কোথায় কোথায় কোথায় রয়েছে, সেগুলি চিহ্নিত করে বাজেয়াপ্ত করা হবে বলে খবর।