Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে দীর্ঘদিন বিকল এক্সরে মেশিন, দুর্ভোগে রোগী

গলসি-১ ব্লকের মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে খারাপ দুটি এক্সরে মেশিন। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগীদের। বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে এক্সরে করাতে হচ্ছে।

মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে দীর্ঘদিন বিকল এক্সরে মেশিন, দুর্ভোগে রোগী
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: গলসি-১ ব্লকের মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে খারাপ দুটি এক্সরে মেশিন। ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে রোগীদের। বেশি টাকা খরচ করে বাইরে থেকে এক্সরে করাতে হচ্ছে। হাসপাতাল সুপার সপ্তর্ষি কোনারকে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। 

Advertisement

গ্রামীণ এই হাসপাতালে গলসি-১ ব্লকের বুদবুদ, মানকর ছাড়াও আউশগ্রাম-২ ব্লকের ভাতকুন্ডা, প্রেমগঞ্জ, অমরারগড় সহ বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষরা চিকিৎসার জন্য নির্ভর করেন। আউটডোরে দৈনিক গড়ে পাঁচশোরও বেশি রোগী হয়। রোগীদের একাংশের অভিযোগ অনেক সময় চিকিৎসকরা এক্সরে করানোর কথা বলেন। কিন্তু মানকর হাসপাতালে এক্সরে ইউনিটে মেশিন খারাপ। কবে ঠিক হবে তার কোনও তথ্য নেই কর্তৃপক্ষের কাছে। ফলে সমস্যায় পড়ছেন রোগীরা। মানকরের বাসিন্দা গৌরাঙ্গ হালদার বলেন, মানুষের হয়রানি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? মেশিন সারানোর অনুরোধ জানাই। আউটডোরে দেখাতে আসা এক রোগীর আত্মীয় সুশান্ত মেটে বলেন, ডাক্তারবাবু বুকে এক্সরে করতে বলেছেন। কিন্তু হাসপাতালে এক্সরে করা যাচ্ছে না। বাইরে এক্সরে করাতে গেলে আড়াইশো টাকা খরচ হবে। কবে ঠিক হবে মেশিন তাও কেউ বলতে পারছে না। একই বক্তব্য অন্য এক রোগীর। পায়ে আঘাত লেগে পা ফুলে গিয়েছে। ডাক্তার বলেছেন, এক্সরে করাতে। তিনি বলেন, হাসপাতালে এক্সরে করা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বেশি টাকা দিয়ে বাইরে এক্সরে করাতে যাচ্ছি। কবে এই ভোগান্তি মিটবে জানা নেই। 
 মানকর গ্রামীণ হাসপাতালে রয়েছে দুটি এক্স-রে মেশিন। একটি ডিজিটাল অন্যটি সাধারণ। দুটিই দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন কংগ্রেস নেতা তপন বিশ্বাস। তিনি বলেন, মানকর হাসপাতালে চিকিৎসা পরিষেবা এখন তলানিতে নেমেছে। রোগী নিয়ে গেলেই রেফার করে দেওয়া হচ্ছে। এই হাসপাতাল তাই রেফার হাসপাতাল নামে পরিচিতি পাচ্ছে। এক্সরে মেশিন দীর্ঘদিন ধরে খারাপ। কিন্তু রোগী কল্যাণ সমিতি সহ স্থানীয় পঞ্চায়েত বা প্রশাসনের বিষয়টিতে নজর নেই। অবিলম্বে এক্সরে মেশিন দুটি সারানোর ব্যবস্থা করা দরকার। সবার পক্ষে বর্ধমানে বা বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব নয়। সাধারণ রোগীরা পরিষেবা পাচ্ছে না। সিপিএম নেতা সমীর চট্টোপাধ্যায় বলেন, রোগী কল্যাণ সমিতির নজর নেই। অথচ বাম জমানায় গ্রামীণ হাসপাতাল করা হয়েছিল। তখন চিকিৎসা পরিষেবা মান উন্নত ছিল। কিন্তু এখন পরিষেবা বেহাল হয়ে গিয়েছে। এইভাবে চলতে থাকলে হাসপাতাল একদিন বন্ধ হয়ে যাবে। বিরোধীদের অভিযোগ, মেশিন খারাপ থাকায় টেকনিশিয়ানদের কোনও কাজ নেই। তাঁদের বসিয়ে বেতন দেওয়া হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ