Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল ক্যানসার রিপোর্ট, জীবনসংশয় প্রৌঢ়ার

বর্ধমানের খোসবাগানের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে জীবন সংশয় হয়েছে মেমারির এক প্রৌঢ়ার। কয়েকদিন আগে তাঁর পেট এবং পা ফুলে যায়।

বর্ধমানের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল ক্যানসার রিপোর্ট, জীবনসংশয় প্রৌঢ়ার
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের খোসবাগানের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে জীবন সংশয় হয়েছে মেমারির এক প্রৌঢ়ার। কয়েকদিন আগে তাঁর পেট এবং পা ফুলে যায়। চিকিৎসক তাঁকে বেশকিছু টেস্ট করতে দেন। সেইমতো তিনি খোসবাগানের আরবি ঘোষ রোডের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ‘ফ্লুইড’ পরীক্ষা করান। ওই সেন্টার রিপোর্ট দিয়ে জানায়, শরীরে ক্যানসার(ম্যালিগন্যান্ট সেল) রয়েছে। রিপোর্টের নীচে আবির গুহ নামে এক চিকিৎসকের সই রয়েছে। রোগী ক্যানসার আক্রান্ত শুনে পরিবারের লোকজনদের রাতের ঘুম চলে যায়। ধারদেনা করে চিকিৎসা শুরু করান। এদিকে, রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকের সন্দেহ হয়। তিনি ফের ওই প্রৌঢ়ার ‘ফ্লুইড’ পরীক্ষা করতে বলেন। তাতে দেখা যায়, ওই প্রৌঢ়া ক্যানসার আক্রান্ত নন। ফের আরও একটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। তাতেও একই রিপোর্ট আসে। ভুল রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি ওই ল্যাবে জানাতে গেলে রোগীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলির আরও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। অভিযোগের তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছিল। একজন চিকিৎসক হয়ে বারবার তিনি কেন বিতর্কে জড়াচ্ছেন, বুঝতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হবে। যদিও আবিরবাবু বলেন, তখন ফ্লুইডে যা পেয়েছি, সেই রিপোর্ট দিয়েছি। ভুল করিনি। ওই ল্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই তাঁরা রিপোর্ট জমা করেছেন।

Advertisement

সাহিরা বিবি নামে ওই রোগিণীর আত্মীয় সৈয়দ সরিফুল রহমান বলেন, ভুল রিপোর্ট দেওয়ার পরও ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লোকজন খারাপ ব্যবহার করে। তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না বলে হুমকি দেয়। ক্যানসারের ওষুধ খাওয়ার পর রোগিণীর অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়। প্রচুর টাকাও খরচ হয়। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের উচিত ক্ষতিপূরণ দেওয়া। তা না করে তারা হুমকি দিচ্ছে। 
বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, বর্ধমানের কয়েকজন চিকিৎসক বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তাঁরা কোনও কিছুর পরোয়া করছেন না। ভুল রিপোর্ট দেওয়ার পরও তাঁরা বেপরোয়া মনোভাব দেখান কীভাবে? আগে কয়েকজন চিকিৎসক স্বাস্থ্যসাথীর কার্ড নিয়ে অনিয়ম করেছেন। সরকার পদক্ষেপ নেওয়ায় এখন ওই প্রকল্পে তাঁরা দুর্নীতি করতে পারছেন না। অন্যভাবে রোগীদের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। কোনও সুস্থ মানুষকে যদি বলা হয় তাঁর ক্যানসার হয়েছে, তিনি তো এমনিতেই অসুস্থ হয়ে পড়বেন। বর্ধমান দক্ষিণের বিধায়ক খোকন দাস বলেন, যারা ভুল রিপোর্ট দিচ্ছে বা চিকিৎসা করছে, তাদের বিরুদ্ধে স্বাস্থ্যদপ্তর ব্যবস্থা নেবে। বিষয়টি নিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ