নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমানের খোসবাগানের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভুল রিপোর্টে জীবন সংশয় হয়েছে মেমারির এক প্রৌঢ়ার। কয়েকদিন আগে তাঁর পেট এবং পা ফুলে যায়। চিকিৎসক তাঁকে বেশকিছু টেস্ট করতে দেন। সেইমতো তিনি খোসবাগানের আরবি ঘোষ রোডের একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ‘ফ্লুইড’ পরীক্ষা করান। ওই সেন্টার রিপোর্ট দিয়ে জানায়, শরীরে ক্যানসার(ম্যালিগন্যান্ট সেল) রয়েছে। রিপোর্টের নীচে আবির গুহ নামে এক চিকিৎসকের সই রয়েছে। রোগী ক্যানসার আক্রান্ত শুনে পরিবারের লোকজনদের রাতের ঘুম চলে যায়। ধারদেনা করে চিকিৎসা শুরু করান। এদিকে, রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকের সন্দেহ হয়। তিনি ফের ওই প্রৌঢ়ার ‘ফ্লুইড’ পরীক্ষা করতে বলেন। তাতে দেখা যায়, ওই প্রৌঢ়া ক্যানসার আক্রান্ত নন। ফের আরও একটি ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। তাতেও একই রিপোর্ট আসে। ভুল রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়টি ওই ল্যাবে জানাতে গেলে রোগীর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। পরে তাঁরা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক জয়রাম হেমব্রম বলেন, ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলির আরও দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। অভিযোগের তদন্ত করে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের মেন্টর মহম্মদ ইসমাইল বলেন, ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছিল। একজন চিকিৎসক হয়ে বারবার তিনি কেন বিতর্কে জড়াচ্ছেন, বুঝতে পারছি না। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্যদপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। প্রয়োজনে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স বাজেয়াপ্ত করা হবে। যদিও আবিরবাবু বলেন, তখন ফ্লুইডে যা পেয়েছি, সেই রিপোর্ট দিয়েছি। ভুল করিনি। ওই ল্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ মতোই তাঁরা রিপোর্ট জমা করেছেন।



