Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্বপ্নাদেশ পেয়ে নীলবর্ণা দেবী দুর্গার আরাধনা

অতীত গৌরব, বর্তমানের ঐতিহ্য ও বাঙালিয়ানার আবেগ সবেমিলে কৃষ্ণনগরের আদি নীল দুর্গাবাড়ির দুর্গোৎসব আজও গুরুত্বপূর্ণ। রাজবাড়ি থেকে শুরু করে বহু বনেদি পরিবারের পুজোর ভিড়ে এই আদি বাড়ির বিশেষত্ব হল এর অনন্য ভোগের রীতি।

স্বপ্নাদেশ পেয়ে নীলবর্ণা দেবী দুর্গার আরাধনা
  • ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অমিয়কুমার বিশ্বাস  কৃষ্ণনগর

Advertisement

অতীত গৌরব, বর্তমানের ঐতিহ্য ও বাঙালিয়ানার আবেগ সবেমিলে কৃষ্ণনগরের আদি নীল দুর্গাবাড়ির দুর্গোৎসব আজও গুরুত্বপূর্ণ। রাজবাড়ি থেকে শুরু করে বহু বনেদি পরিবারের পুজোর ভিড়ে এই আদি বাড়ির বিশেষত্ব হল এর অনন্য ভোগের রীতি। প্রায় ৩৫০ বছর ধরে দশমীর দিনে মাকে বিদায় জানানোর সময় ভোগে পরিবেশিত হয় পান্তা ভাত, কচুর শাক, মটর ডালের বড়া ও গন্ধরাজ লেবু।
নদীয়া জেলার সদর শহর কৃষ্ণনগরের দুর্গাপুজো নিয়ে খুব বেশি আলোচনা না হলেও এখানকার পুজো কিছু ঐতিহ্য বহন করে চলেছে। সেই ঐতিহ্যের এক ধারক ও বাহক হল কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়ার চট্টোপাধ্যায় পরিবারের নীল দুর্গা বাড়ি। এই বাড়ির দুর্গাপ্রতিমার গায়ের রং অপরাজিতা ফুলের মতো নীলবর্ণ। প্রতিবছর কৃষ্ণনগরের এই ব্যতিক্রমী নীল দুর্গা বাড়ির পুজো দেখতে বহু দর্শনার্থী হাজির হন। দুর্গা যেহেতু নীল বর্ণের সেহেতু কৃষ্ণনগরের নাজিরাপাড়ায় চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বাড়ির নামও হয়ে গিয়েছে নীল দুর্গা বাড়ি।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে,  অবিভক্ত বাংলায় বরিশাল জেলার বামরাইল গ্রামে চিন্তাহরণ চট্টোপাধ্যায়ের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা হয়েছিল। ১৯৪৭ সাল নাগাদ অর্থাৎ দেশভাগের সময় চট্টোপাধ্যায় পরিবার কৃষ্ণনগর চলে আসেন। সেই সময় কৃষ্ণনগরে পুজো শুরু করেন জীবনলাল চট্টোপাধ্যায়। পুজোর শুরুতে মাতৃপ্রতিমার রং কিন্তু নীল ছিল না, ছিল অতসী বর্ণ। কিন্তু এক রাতের দু’টি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জন্ম দেয় এই নীল দুর্গাপ্রতিমা। 
একদা এক বৃদ্ধ প্রতিমা শিল্পী সময় কম থাকার জন্য রাতে হ্যারিকেনের আলোয় মায়ের রং করছিলেন। সারারাত জেগে  ক্লান্ত  শরীরেই সেই রাতেই মায়ের রং সম্পূর্ণ করেন ওই শিল্পী। কিন্তু ভোর হতেই মাথায় হাত! ভোরের আলো প্রতিমায় পড়তেই দেখা যায় উমা মায়ের গায়ের রং অপরাজিতা ফুলের মতো নীল বর্ণ! ফলে একেবারে হই-চই পড়ে যায়। এরই মধ্যে চট্টোপাধ্যায় পরিবারের কর্তা চিন্তাহরণ চট্টোপাধ্যায় ঠাকুরদালানে এসে উপস্থিত হন। তিনি সকলকে জানান, সেই রাতে দেবী তাঁর স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে তাঁকে আদেশ দেন, দেবীকে যাতে নীল বর্ণে পুজো করা হয়। দেবীর সেই স্বপ্নাদেশ মেনে চট্টোপাধ্যায় পরিবার আজও নীল দুর্গাকে সেভাবেই পুজো করে আসছে। তবে দেবী দুর্গাই কেবল এখানে নীল বর্ণ। তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা কেউ নীল বর্ণের নন।
বর্তমানে বাড়ির প্রবীণ সদস্য তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন,আমাদের এক চালির প্রতিমায় পুজো হয়। এখানে গণেশ ও কার্তিকের জায়গা বদল আছে, যা বাংলাদেশের পুজোর সঙ্গে মিল পাবেন। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমী তিন দিনই পাঠা বলি হয়। এ ছাড়া হয় আখ ও কলার বলি। বাংলাদেশে আগে মহিষ বলিরও রীতি ছিল। ওই বলি বন্ধের পর বাড়ির যিনি পুজোর দায়িত্বে থাকেন, তিনি হাত কেটে কিছুটা রক্ত নিবেদন করেন।
বাড়ির নবীন সদস্য স্বপ্ননীল চট্টোপাধ্যায় বলেন, উল্টোরথে মায়ের কাঠামোয় পুজো হয়। ষষ্ঠীর দিন বাড়ির বেলগাছে পুজো হয় । শাক্ত মতে এখানে মায়ের আরাধনা হয়। মাকে সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী তিনদিনই আঁশযুক্ত ভোগ নিবেদন করা হয়।দশমীতে পান্তা ভাত, ডালের বড়া ও কচুর শাক দেওয়া হয় ভোগে।  এছাড়া হয় শত্রু বলি। চালের গুঁড়ো কলাপাতার মধ্যে পিটুলি দিয়ে মানুষেরঅবয়ব করে করে তাকে বলি দেওয়ার চল আছে। -ফাইল চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ