Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুসলিম পুলিশ কর্তাকে কালীর স্বপ্নাদেশেই চরণপাহাড়ি মন্দিরে শুরু শক্তির আরাধনা

কথায় বলে, ধর্ম, জাত নয়, ভগবান শুধু দেখেন মানুষের শুদ্ধ মন।

মুসলিম পুলিশ কর্তাকে কালীর স্বপ্নাদেশেই চরণপাহাড়ি মন্দিরে শুরু শক্তির আরাধনা
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানবাজার: কথায় বলে, ধর্ম, জাত নয়, ভগবান শুধু দেখেন মানুষের শুদ্ধ মন। 

Advertisement

থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে নির্জন পাহাড়। সেখানেই যাতাযাত ছিল পুরুলিয়ার পুঞ্চা থানার এক ওসির। মুসলিম সম্প্রদায়ের ওই ব্যক্তি মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে পাহাড়ের উপর শুরু করেছিলেন শক্তির আরাধনা। যা আজও সর্বধর্মের মানুষের কাছে সমন্বয়ের বার্তা নিয়ে আসে। শুধু ভক্তদের কাছেই নয়,পর্যটকদের কাছেও এক নিদর্শন পুঞ্চার চরণপাহাড়ি মন্দিরের কালীপুজো। পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অনিলবরণ সহিস জানান, এই পুজোয় বহু মানুষের সমাগম হয়। অনেকেই মানত করেন মায়ের কাছে।  তাঁদের মনোবাসনাও পূরণ হয় শুনেছি। পুজোর পরে ভক্তদের মধ্যে খিচুড়ি প্রসাদ বিলি হয়।
সালটা বাংলার ১৩৫৭। তৎকালীন সময়ে পুঞ্চা থানার ওসির দায়িত্বে ছিলেন জি.টি লতিফ। থানার কিছু দূরেই হাসপাতালের সামনে ছিল একটি ছোট্ট নির্জন পাহাড়ের মতো জায়গা। ওই জায়গায় সাধারণের তেমন যাতায়াত ছিল না বলে শোনা যায়। ওই পাহাড়ের উপরে মাঝেমধ্যেই গিয়ে বসতেন পুঞ্চা থানার ওসি জি. টি লতিফ। এরপরেই তিনি একদিন মা কালীর স্বপ্নাদেশ পান।
পুঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ চরণ পাহাড়ি দাস জানান, সাত দশকেরও আগের কথা। থানার সামনে ওই পাহাড়ের উপর ছিল ব্রিটিশদের ওয়াচ টাওয়ার। শোনা যায়, পুঞ্চা থানার তৎকালীন ওই অফিসার কোনও এক রাতে মা কালীর স্বপ্নাদেশ পান। স্বপ্নে তিনি দেখেন, পাহাড়ের উপর কালো পাথরের গায়ে মায়ের দু’টি চরণ খোদাই করা রয়েছে। পরে ওই অফিসার সেখানে গিয়ে পাথরের উপর দেবীর খোদাই করা দু’টি পায়ের ছাপ বাস্তবেও দেখতেও পান। তড়িঘড়ি তিনি এলাকাবাসীকে বিষয়টি জানান। 
স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে পাহাড়ের উপর স্বপ্নে পাওয়া মায়ের দু’টি চরণ রেখে ছোট্ট মন্দির নির্মাণ করে শুরু করেন পুজো। এরপর থেকেই সেখানে পুজোপাঠ করে মানত করতে থাকেন অনেকেই। ভক্তদের মনস্কাম পূরণ হতে থাকলে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এই মা কালীর মন্দির। এখনও মন্দিরে গেলে স্বপ্নে পাওয়া মা কালীর দু’টি চরণও দেখা যাবে।
বর্তমানে পুঞ্চার চরণ পাহাড়ি কালী মন্দিরের সংস্কার হয়েছে। মাটির চালাঘর থেকে আজ হয়েছে পাকা মন্দির। ১৪০৩ সালে পুঞ্চা থানার তৎকালীন ওসি সমরকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় মন্দিরের সংস্কার করেন। তাঁর কথাও মন্দিরের গায়ে লেখা রয়েছে। ছোট্ট পাহাড়ের উপর ওঠার জন্য তৈরি হয়েছে সিঁড়ি। নিত্যদিন সেখানে মায়ের পুজো-পাঠ হয়। 
কালীপুজোর সময় দূর-দূরান্ত থেকে ভক্তদের ঢল নামে এই পাহাড়ে। অনেকেই মায়ের জন্য সোনা, দানা নিয়ে আসেন। বর্তমানে ওই সব গয়না পুঞ্চা থানার লকারে রাখা থাকে। দীপান্বিতা কালীপুজোর সময় সেই গয়না দিয়েই মাকে সাজানো হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ