Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

জপ

নিয়মিত প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সায়াহ্নে, মধ্যরাত্রে জপ করতে সচেষ্ট হও। মন্ত্র তো আর সাধারণ জিনিষ নয়, মন্ত্রই ভগবান

জপ
  • ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিয়মিত প্রাতে, মধ্যাহ্নে, সায়াহ্নে, মধ্যরাত্রে জপ করতে সচেষ্ট হও। মন্ত্র তো আর সাধারণ জিনিষ নয়, মন্ত্রই ভগবান। সূর্য্যকে যেমন বলতে হয় না সূর্য্য তুমি অন্ধকার দূর করে দাও, সূর্য্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই স্বতঃই অন্ধকার চলে যায়, তদ্রূপ নাম গ্রহণ করবো এ অভিলাষ হৃদয়ে জাগ্রত হলেই পাপ আপনা আপনি চলে যায়। ওঙ্কারের অধিকার পরমহংসের। বহূদক কুটীচক হংস এঁদের গায়ত্রী থাকে, কিন্তু পরমহংসের গায়ত্রী এবং সমস্ত মন্ত্রের অবসান হয়। সুষুম্নাদ্বার মুক্ত হয়ে যায় কোন মন্ত্র উচ্চারণ করতে গেলেই প্রাণ সুষুম্নায় প্রবেশ করে, মন্ত্র উচ্চারণের শক্তি থাকে না।

Advertisement

রাম রাম করাও গৌণভাবে বেদ আশ্রয় করা, রাম রাম সীতারাম সীতারাম। কারণ এক ওঙ্কার ব্যতীত তো কিছু নাই, তিনি বহুরূপ ধারণ করত লীলা কচ্ছেন। যদি প্রেমের পথে যান সর্ব্বদা রাম রাম করেন, তাহলে ভগবানকে পেতে পারেন, তবে বেদ পাঠে অধিকারের দাবী যদি করেন, তাহলে ভগবানকে পাবেন না, সাক্ষাৎ বেদপথে গতি কেবল ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ্যের। তাপ দেওয়ার নাম তপস্যা। শ্রোত্র, ত্বক, চক্ষু, জিহ্বা, ঘ্রাণ এরা চায় বাহ্য বিষয় ভোগ। এদের ভোগ না দিয়ে তাপ দেওয়াই তপস্যা। সর্ব্বদা মা মা মা নাম জপ করা, স্ত্রীসঙ্গ হইতে দূরে থাকা আত্মরক্ষার উপায়। মা নামই কামরিপুর মহাব্রজ সদৃশ। নিরন্তর মা নাম জপ অভ্যাস করিয়া ফেলিতে হয়। সাধু, ব্রহ্মচারী, সিদ্ধপুরুষ যে কেহ হউন না কেন, তাঁহার কর্ত্তব্য মাতা, ভগ্নী, কন্যা, শিষ্যা, গুরুপত্নী, সাধিকা, সিদ্ধানারী যিনিই কেন হউন, যে সম্পর্ক থাকুক না তথাপি নির্জ্জনে তাহাদের সহিত অবস্থান না করা। এ শাস্ত্রবাণীর অমর্য্যাদাকারী পুরুষকে লাঞ্ছিত হইতে হইবেই। ইড়া পিঙ্গলার শ্বাস-প্রশ্বাস যত সুষুম্নায় প্রবিষ্ট হইতে থাকিবে তত আকর্ষণ কমিতে আরম্ভ হইবে। সুষুম্নায় স্থিতিলাভের পর আকর্ষণ থাকে না। আমরা ঈশ্বর দর্শনের জন্য এসেছি— এইটি মনে করে প্রাতঃকাল থেকে শয়ন অবধি প্রত্যেক কাজটি অনুষ্ঠিত হবে। যখন কৃপাময় গুরুদেব একেবারে আত্মসাৎ করে নিলেন, তখন এ দেহ গুরুদেবের দেহ। তখন দেহ আর তোমার নয়— দেহ গুরুদেবের। দুঃখ ততক্ষণ যতক্ষণ— বাইরের নেব। তুমি তো সাধারণ নও। ভগবান জল, তুমি তরঙ্গ, তিনি সূর্য্য, তুমি রশ্মি, তিনি চন্দ্র হলে তুমি চন্দ্র কিরণ। ভগবানে জীবে কোন ভেদ নেই। চঞ্চলতাই জীব। স্থির হল সমাধি। বাইরের ঘাত-প্রতিঘাতে আঘাতের উপর আঘাত খেয়ে ব্যথায় জর্জরিত হয়ে শেষে যখন জগতের কিছু চায়না তখন শুদ্ধ মন। যতক্ষণ জগতের কোন জিনিষ চায় ততক্ষণ অশুদ্ধ মন।

ত্রিদণ্ডী স্বামী মাধব রামানুজ সংকলিত ‘শ্রীওঙ্কারসহস্রবাণী’ (২য় খণ্ড) থেকে

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ