নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০১৬ এসএলএসটিতে পরীক্ষা দিয়ে নতুন স্কুলে যোগ দেওয়া আগে থেকে কর্মরত শিক্ষকরা নয়া দাবিতে সোচ্চার। তাঁদের দাবি, পুরনো কর্মস্থলে নয়, বাড়ির কাছাকাছি যেন তাঁদের পোস্টিং দেওয়া হয়। এই শিক্ষকদের বক্তব্য, ছাত্র না-থাকার কারণে বেশ কিছু স্কুল ইতিমধ্যেই কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। আবার অধিকাংশ স্কুলেই তাঁদের পুরনো শূন্যপদ নেই। তাই, কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বাড়ির কাছাকাছি স্কুল দেওয়া হোক তাঁদের। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ শিক্ষকদের চাকরি বাতিলের পাশাপাশি আগে থেকে কর্মরত শিক্ষকদের তিনমাসের মধ্যে পুরনো পোস্টে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
যেখানে অন্যান্য প্রার্থীদের চাকরিই অনিশ্চিত, সেখানে বাড়ির কাছাকাছি বদলির আবদার কেন? এই প্রার্থীদের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্ট পুরনো পোস্টে ফিরে যেতে বলেছে মানে এই নয় যে পুরনো কর্মস্থলেই ফিরতে হবে। সর্বোচ্চ আদালত প্রয়োজনে সুপার নিউমেরারি পোস্ট তৈরি করে এই শিক্ষকদের নিয়োগ করতে বলেছে। তবে, কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে অন্যতম মামলাকারী, বোলপুরের শিক্ষক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সুপার নিউমেরারি পোস্ট তৈরি করলে সরকারের বাড়তি খরচ। তাছাড়া, কোনও কোনও স্কুলে বাড়তি শিক্ষকও হয়ে যেতে পারে। তাই শিক্ষকদের বাড়ির কাছে বদলি করা হলে সরকারেরও সুবিধা, পঠনপাঠনের পক্ষেও তা ইতিবাচক।’ তিনি জানান, ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রী এবং মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরে তাঁরা আবেদন জমা দিয়েছেন। তাঁদের বিষয়টি মানবিকভাবে দেখার অনুরোধও করেছেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ এসএলএসটি’তে প্রায় ৪৩০ জন কর্মরত শিক্ষক ছিলেন। তাঁরা সার্ভিস কন্টিনিউয়েশন এবং পে প্রোটেকশনও পেয়েছিলেন। তবে, এর বাইরেও প্রায় চার হাজার শিক্ষক রয়েছেন যাঁরা সার্ভিস কন্টিনিউয়েশন পাননি বা অন্য দপ্তর থেকে শিক্ষকতায় এসেছিলেন। তাঁদের পুরনো কর্মস্থলে ফেরানোর বাধ্যবাধকতা নেই বলেই কর্মরত শিক্ষকদের দাবি। রফিকুল বলছেন, ‘কেউ যদি পুলিস বিভাগ থেকে এসে থাকেন, তাহলে তাঁকে পুরনো থানাতেই ফেরাতে হবে, এমন নয়। সেক্ষেত্রে শিক্ষকদের এই সুযোগ কেন দেওয়া হবে না?’ পাশাপাশি তাঁদের বক্তব্য, কর্মরতদের অনেকেই পঞ্চাশোর্ধ্ব। তাঁদের বেতন কমিয়েই কাজে যোগ দিতে হবে। তাই কাছাকাছি স্কুল পেলে সেটা তাঁদের পক্ষে কিছুটা সান্ত্বনার বিষয়। যদিও তাঁরা এও মানছেন, পুরোটাই সরকারের বিবেচনার উপরে নির্ভরশীল। তাঁরা সরকারকে এর জন্য জোর করতে পারেন না।