নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: সমাজসেবী পরিচয় দিয়ে বাংলার দুই যুবকের সঙ্গে পরিচয় করে পাকিস্তান গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই। তারা গরিব মানুষের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করে বলে জানায়। এভাবে নানা গল্প ফেঁদে তারা মুকেশ রজক এবং রাকেশ গুপ্তাকে জালে জড়িয়ে নেয়। তাদের সঙ্গে টানা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে চ্যাট করতে থাকে। পরে তারা মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি শেয়ার করার টোপ দেয়। তার বিনিময়ে মোটা অঙ্কের টাকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়। সেই টোপ গিলে ওই দু’জন মোবাইল নম্বর এবং ওটিপি পাঠাতে থাকে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি গুপ্তচর সংস্থা দিল্লি, কেরল, জম্মু কাশ্মীরসহ বিভিন্ন রাজ্যে জাল ফেলে রেখেছে। তারা বিভিন্ন ওয়েবসাইটগুলিতেও নজর রাখছে। কোনও সংস্থা কী কাজ করে সেই তথ্য তারা জোগাড় করছে। সেই মতো সংস্থাগুলির কর্মীর কাছে তারা টোপ দিচ্ছে। যেমন ধরা যাক কোনও সংস্থা ধর্মচর্চা করে। সেই সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে যোগাযোগ করে নিজেদের ধর্মপ্রচারক পরিচয় দিয়ে ভাব জমাচ্ছে। আবার কোনও সংস্থা প্রত্যন্ত এলাকার ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করতে পাঠশালা খুলে বসেছে। সেই সংস্থার কর্মীদের সঙ্গে পাক গোয়েন্দারা সেই বিষয়ে কথা বলে যোগাযোগ করছে। গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, সবাই না জেনে আইএসআইয়ের ফাঁদে পড়ছে এমনটা নয়। টাকার লোভে বেশিরভাগ মানুষ এই কাজ করছে।
পূর্ব বর্ধমান থেকে ধৃত দুই পাকচর ২০২০ সাল থেকে মেমারিতে রয়েছে। ওই এলাকার বাসিন্দারা বলেন, তাদের গতিবিধি দেখে কোনও কিছু বোঝার উপায় ছিল না। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালোভাবে মিশত। তবে তাদের ভাড়াবাড়িতে বহিরাগতদের আনাগোনা ছিল। ধর্মপ্রচারের কাজ করে বলে তারা জানিয়েছে। তারা এলাকার অনেকের সঙ্গেই সুসম্পর্ক তৈরি করেছিল। বাড়িতে সপ্তাহে একদিন ধর্মচর্চার আসর বসত। সেদিন বিভিন্ন এলাকার লোকজন আসত। তাঁদের কারও পরিচয়পত্র নকল করে তারা সিমকার্ড তুলেছিল কি না তা গোয়েন্দারা তদন্ত করে দেখছে। ওই দুই যুবক তেমন কোনও কাজ না করলেও তাদের সংসারে স্বচ্ছলতা ছিল। তাদের একজন শহরের একটি জিমে ভর্তি হয়েছিল, তবে তারা দিনের বেশিরভাগ সময় বাইরে থাকত। গোয়েন্দা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে যেকোনও অপারেশন সহজে করা যেতে পারে। সেই কারণেই আইএসআই ভারতীয় যুবকদের ব্যবহার করে মোবাইল নম্বর হাতিয়েছিল। অর্থাৎ সিমকার্ড থাকবে বাংলায়। তা অপারেট হবে পাকিস্তানে। তবে শুধু এরাজ্যের মোবাইল নম্বর নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ওটিপি নিয়ে তারা হোয়াটসঅ্যাপ চালু করতে চেয়েছিল। দেশের যুবকদের জালে তুলতে তারা সমাজসেবী রূপ ধারণ করত। এই বাড়িতেই ভাড়া থাকত ধৃতরা।-নিজস্ব চিত্র