নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বকেয়া মজুরি মেটানোর সময়সীমা বেঁধে দিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন পুরকর্মীরা। হুগলির চুঁচুড়া পুরসভার কর্মী সংগঠনের বৈঠকে মজুরি বকেয়া রাখা নিয়ে কট্টর অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আর তারপরেই কর্মী সংগঠন ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে জুন মাসের বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। না হলে ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সরাসরি কর্মবিরতি আন্দোলনের ঘোষণা করা হয়েছে। ঘটনার জেরে পুরসভার নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সঙ্কটের ইঙ্গিত মিলেছে। পুজোর মুখে যা নাগরিক মহলকে উদ্বেগে ফেলেছে। বিশেষ করে হুগলির চুঁচুড়া পুরসভার সিংহভাগ কাজই অস্থায়ী কর্মীদের দিয়ে পরিচালিত হয়। সেখানেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে পুরকর্তা মহলেও। পুরসভার মিলিত শ্রমিকমঞ্চের নেতা সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, আমরা পুরকর্তাদের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছি। আমরা খেতে পাচ্ছি না, দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছে। ফলে, কর্মবিরতি আন্দোলনের রাস্তাই আমরা বেছেছি। ৭ সেপ্টেম্বর জুন মাসের বকেয়া মিটিয়ে দিলে ভালো। নাহলে পরদিন থেকে সমস্ত অস্থায়ী কর্মীরা পুরসভা ঘেরাও করবে এবং কর্মবিরতি শুরু হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মিমঞ্চের প্রতিনিধিদের ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে বিধায়ক সুবীর নাগ বলেন, চুঁচুড়া পুরসভার সমস্যা তো তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করে গিয়েছে। পুরসভার রোজগারের থেকে খরচ বেশি। ফলে, সমস্যা থেকে যাচ্ছে। আমরা কর্মীদের পাশে আছি। তাঁদের মজুরি মিটিয়ে দেওয়ার প্রয়াস চলছে। নাগরিক পরিষেবা সঙ্কটে পড়লে তা মেনে নেওয়া কঠিন। চুঁচুড়া পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা শহরের প্রবীণ তৃণমূল নেতা অমিত রায় বলেন, আমাদেরই যদি দোষ দিতে হবে, তবে জোর করে পুরসভাতে প্রশাসক বসানোর প্রয়োজন কি ছিল? নিজেদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে নাগরিকদের পরিষেবাকে সঙ্কটে ফেলেছে বিজেপি। চুঁচুড়া পুরসভার কর্মীদের বিক্ষোভ-আন্দোলন নতুন নয়। অতীতে তৃণমূল জমানায় বারবার পুরকর্মীরা আন্দোলন করেছেন। রেকর্ড গড়ে প্রায় দু’মাস শহরের পরিষেবা বন্ধ রাখার নজিরও আছে। প্রতিবারই আন্দোলনের মূলে ছিল বকেয়া মজুরি। এবারও সেদিকেই গড়াচ্ছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের আশঙ্কা। তাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে নাগরিক মহল। পুজো মরশুমের প্রাক্কালে প্রয়োজনীয় নাগরিক পরিষেবা বিশেষত, সাফাই কাজ সঙ্কটে পড়বে। পুরকর্মীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, পুরসভার সবচেয়ে বেশি কর্মী অস্থায়ী। সংখ্যাটি প্রায় ১৯০০। তার মধ্যে প্রায় ৭৪০ জনের জুন মাসের মজুরি বকেয়া আছে। তাঁদের কিছু অংশ আবার রাজ্য সরকারি প্রতিষ্ঠান সুডা-র কর্মী। আবার ১৯০০ জনেরই জুলাই মাসের মজুরি বকেয়া আছে। এক কর্মী বলেন, রাত পোহালেই আগস্টের টাকাও বকেয়া হবে যাবে।



