নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: অনৈতিক কাজের অভিযোগ তুলে পানশালায় হামলা! ভেঙে দেওয়া হল পানশালার দরজা সহ নানান সামগ্রী। রেহাই পাননি সেখানকার কর্মী-অতিথিরাও। বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁদের প্রত্যেককে। বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে ওই পানশালায় হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে শাসক শিবিরের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। রবিবার বিকালের এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। পরে পানশালা কর্তৃপক্ষ জানায়, হামলার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সহ যাবতীয় তথ্যপ্রমাণ পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ, ওই পানশালাটি দক্ষিণ দমদম পুরসভা এলাকায় অবস্থিত। কিন্তু এদিন সেখানে যাঁরা হামলা চালিয়েছে, তাঁরা প্রত্যেকেই উত্তর দমদমের শাসক শিবির ঘনিষ্ঠ। ফলে গোটা বিষয়টি নিয়ে বিজেপির অন্দরেও জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ওই পানশালার উপর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে শাসক শিবিরের দুই গোষ্ঠীর কাজিয়ার জেরে এই ঘটনা কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দু’ধারে দমদমের দুই পুরসভা। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া রবীন্দ্রনগর এলাকায় ওই পানশালাটি রয়েছে। তার পাশেই উত্তর দমদম পুরসভা। স্থানীয় সূত্রে খবর, এদিন বিকালে উত্তর দমদম ২ নম্বর মণ্ডল এলাকার নেতা-কর্মীরা ওই পানশালার সামনে হাজির হয়। আচমকাই তাঁরা ভিতরে ঢুকে কর্মীদের বেধড়ক মারধর করেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজেও গোটা বিষয়টি ধরা পড়েছে। এরপর একদল বিজেপি কর্মী পাঁচতলা পানশালার বাকি ফ্লোরেও পৌঁছে যায়। সেখানে জোর করে দরজা খুলিয়ে গেস্টদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে দমদম থানার পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিন বিজেপি কর্মীকে আটক করে।
এদিন বিক্ষোভে হাজির ছিলেন উত্তর দমদম বিজেপির মহিলা নেত্রী সঞ্চিতা সিনহা রায়। তিনি বলেন, ‘এখানে মহিলাদের এনে নানান অনৈতিক কাজ হয়। স্থানীয় মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করছিলেন। সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে আমরা প্রতিবাদ করতে এসেছি। এই অপসংস্কৃতি বন্ধ হোক।’ উত্তর দমদমের ২ নম্বর মণ্ডলের শক্তিকেন্দ্র প্রমুখ রাজু দাস বলেন, ‘এখানে অনিয়মের কোনো শেষ নেই। রাতদিন অসামাজিক কাজ হচ্ছে। এসব বরদাস্ত করা হবে না।’